আদালত চত্বরে বাদী পক্ষের উপর হামলা, শিশুসহ আহত ৪

আগের সংবাদ

আল-জাজিরা'র তথ্যচিত্র: মামলা ফিরিয়ে দিলেন আদালত

পরের সংবাদ

কাতারে এক দশকে ১০১৮ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১ , ৭:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১ , ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

২০২২ বিশ্বকাপ কাতারে আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকেই দেশটির কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটি বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্বটা বৈধ উপায়ে পায়নি বলেও প্রমাণ মিলেছে। দেশটি প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে বহু দিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এবার এ নিয়ে বিশেষ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যাতে উঠে এসেছে চমকে দেওয়া তথ্য। ১০ বছর আগে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পর এর প্রস্তুতিতে সেখানে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব অর্জনের পর থেকে কাতারে প্রতি সপ্তাহে গড়ে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তান বাদে ৪টি দেশে গার্ডিয়ানের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও দেশগুলোর সরকারি হিসাব থেকে দেখা যায়—২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ৫ হাজার ৯২৭ জন প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মৃত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ১ হাজার ১৮। কাতারে পাকিস্তানের দূতাবাস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ৮২৪ জন পাকিস্তানি শ্রমিক মারা গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশে।

২০২০–এর শেষভাগের তথ্য এ হিসাবে নেই। কাতারে শ্রমিক সরবরাহে অনেক এগিয়ে থাকা ফিলিপাইন ও কেনিয়ার নাগরিকদের মৃতের সংখ্যা অবশ্য জানা যায়নি। তাই কাতারে প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর সঠিক সংখ্যাটি আরও অনেক বড় বলেই আশংকা করছে গার্ডিয়ান।

গত ১০ বছরে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য কাতারে সাতটা নতুন স্টেডিয়াম বানানো হয়েছে। এর সঙ্গে আরও অনেক বড় বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে দেশটি। একটি নতুন বিমানবন্দরসহ নতুন রাস্তাঘাট ও আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এত বড় বড় সব স্থাপনা ও উন্নয়নকাজের জন্য অসংখ্য কর্মশক্তির দরকার হয়েছে দেশটির। বিশ্বকাপ উপলক্ষে ২০ লাখ প্রবাসী শ্রমিক এখন কাতারে অবস্থান করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় ফেয়ারস্কোয়ার প্রজেক্টস-এর পরিচালক নিক ম্যাকগিহান বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে কাতারে যেসব প্রবাসী শ্রমিক মারা গেছেন, তাঁদের অধিকাংশই কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পর সেখানে গেছেন।’

বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম বানানোর কাজ করছেন এমন অবস্থাতেই ৩৭ জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছেন। যদিও বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটি এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুকেই কাজের বাইরের ঘটনায় মৃত্যু বলে চালিয়ে দিয়েছে। স্টেডিয়ামের জায়গায় কাজ করতে করতেই মৃত্যুবরণ করেছেন কিছু শ্রমিক। গত ১০ বছরে যত মৃত্যু হয়েছে।

গার্ডিয়ান যে তথ্য পেয়েছে, সে অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের যতজন মারা গেছেন, তার ৬৯ ভাগকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলা হয়েছে। ১২ ভাগের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায়। শুধু ৭ ভাগের মৃত্যুর সঙ্গে কাজের পরিবেশ জড়িত। আর ৭ ভাগ কর্মী আত্মহত্যা করেছেন। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ৮০ ভাগই নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু।

আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়