মাতৃভাষার শক্তিতে জাতি ও জাতি-রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়

আগের সংবাদ

ভারতে ‘গো-বিজ্ঞান’ পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক, অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের ৫ লাখ শিক্ষার্থী

পরের সংবাদ

শিক্ষায় সংকট কেটে উঠুক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১ , ১০:২৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১ , ১০:২৩ অপরাহ্ণ

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করেছে, অথচ ছাত্রাবাস বা হল বন্ধ রেখেছে। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। হল খোলার দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-আন্দোলনের খবর আমরা দেখছি। এমনকি তালা ভেঙে হলে প্রবেশের ঘটনাও ঘটছে। এমন ঘটনা দুঃখজনক। এমতাবস্থায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী ১৭ মে থেকে হল খুলে দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত আসে। আর ২৪ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে পাঠদান শুরু হবে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল সোমবার এই তথ্য জানিয়েছেন। এমন খবরে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে এটাই স্বাভাবিক। এর আগে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুব দ্রুত খুলে দেয়া যায় কিনা তা যাচাই করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দফায় দফায় বাড়িয়ে আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এ সময়ে ৫ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাসূচি এলোমেলো হয়ে গেছে। এক দশক ধরে পূর্বনির্ধারিত শিক্ষাসূচি অনুযায়ীই চলছে শিক্ষাব্যবস্থা। হঠাৎ করে হোঁচট খাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম হতাশা শুরু হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন নানাভাবে পড়াশোনা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস প্রচার আর কিছু প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে পড়াশোনা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। যেখানে পাবলিক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অনলাইন পাঠদান অতি বেশি দুরূহ মনে হচ্ছে। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটা এখন চিন্তাই করা যায় না। বড়জোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা; তাদের না আছে ইন্টারনেট সাপোর্ট, না আছে ল্যাপটপ; স্মার্টফোন থাকলেও নেটওয়ার্কিং ও টেকনিক্যাল জ্ঞানের অভাব তো আছেই। উপরন্তু অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর পারিবারিক অবস্থা আর্থিক অনটনের মধ্যে যাচ্ছে, যার ফলে উদ্বিগ্নতা আর টানাপড়েনের মধ্যে অনলাইন লেখাপড়ায় মনস্থির এক দুরূহ ব্যাপার। শিক্ষার্থীদের দাবি, কর্তৃপক্ষ যখন সশরীর শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা নিচ্ছে, তখন ছাত্রাবাসও খুলে দিতে হবে। তাদের এ দাবি যৌক্তিক। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন। এর রেশ ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। শুক্রবার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আলটিমেটাম দিচ্ছেন এবং কোথাও কোথাও উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত রবিবার ও গতকাল সোমবার বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খোলার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল, সমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এর আগে দেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতেও হল খোলার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। দেশের সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। ক্যাম্পাস খুলে না দিলে শিক্ষার্থীরা সেশনজটসহ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকতে পারে না। হল খোলার ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। প্রয়োজনে সব শিক্ষার্থীকে টিকা দিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়