বাংলা ভাষা কেন উপেক্ষিত হবে

আগের সংবাদ

উড়ন্ত বিমানের আগুন থেকে রক্ষা পেলেন ২৩১ যাত্রী

পরের সংবাদ

মামলার অগ্রগতি হোক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১ , ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১ , ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে গত শনিবার। এই ট্র্যাজেডি আমাদের অপরিকল্পিত ব্যবস্থার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। ভয়াবহ এ আগুনের কথা এখনো মনে দাগ কাটে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর মধ্যে। অনেকেই এ আগুনে হারিয়েছেন উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। সেই ঘটনার পর একটি মামলা হয়েছে। মামলায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটা ভবন মালিকদের আসামি করা হয়। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। ঘোষণা দেয়া হয় পুরান ঢাকায় কোনো ধরনের কেমিক্যাল গোডাউন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কারখানা থাকবে না। অভিযানও পরিচালনা করা হয়। এত কিছুর পরও হয়নি কোনো পরিবর্তন। আগের মতোই কেমিক্যাল গোডাউন, কারখানা, দোকান বহলতবিয়তে। তদন্ত কমিটির সুপারিশও আলোর মুখ দেখেনি। মামলা হলেও আসামিদের কোনো শাস্তি হয়নি। জামিনে আসা আসামিরা এখন উল্টো মামলার বাদীকে হুমকি দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরাও কোনো সহযোগিতা পাননি। জানা যায়, এই বিভীষিকাময় মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী কেমিক্যাল গোডাউনের (গুদাম) মালিকদের দুই বছরেও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্ত আজো শেষ হয়নি। এ নিয়ে ১৬ বারের মতো সময় নিল পুলিশ। পুলিশ বলছে, ভুল নাম-ঠিকানা দিয়ে চুড়িহাট্টার হাজি ওয়াহেদ ম্যানশন ভাড়া নিয়ে কেমিক্যালের গোডাউন স্থাপন করা হয়েছিল। সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তদন্ত শেষ করা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ মামলাটির এমন অবস্থা দুঃখজনক। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টা মোড়ের কাছে একটি পিকআপের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশনসহ ৫টি ভবনে আগুন ধরে যায়। ওই ভবন এবং আশপাশের দোকানে থাকা রাসায়নিক আর প্লাস্টিক-পারফিউমের গুদাম আগুনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে ৬৭ জনের পোড়া লাশ মর্গে পাঠান উদ্ধারকর্মীরা। পরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে। এ ঘটনায় পরের দিন ‘অবহেলার কারণে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ফলে মৃত্যুসহ ভয়াবহ ক্ষতিসাধনের’ অপরাধে মামলা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, ঘটনার দুই বছর অতিবাহিত হলেও নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টও এখনো মেলেনি। এতে অপরাধীরা আরো উৎসাহ পাবে- এটাই স্বাভাবিক। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরে আসছে, পুরান ঢাকায় নতুন করে অবৈধ কেমিক্যাল কারখানা গজিয়ে উঠছে। তথ্যানুযায়ী, পুরান ঢাকায় প্রায় ২৫ হাজার রাসায়নিক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ আবাসিক বাড়িতে। এসব কারখানায় সালফার, পটাশ, ফসফরাস, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, ইথানল, মিথাইল, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, তারপিনসহ নানা প্রকার গান পাউডার বিক্রি হচ্ছে খুব স্বাভাবিকভাবেই। চাল-ডাল, তেল-সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ যেভাবে বিক্রি হচ্ছে তা রীতিমতো আতঙ্কিত হওয়ার মতো। নিমতলীর ঘটনার পর দাবি ওঠে সেসব কারখানা ও গুদাম ওই এলাকা থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেয়ার। শেষ পর্যন্ত কাজটি আর হয়নি। দেশে এত বড় দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা কি জবাবদিহির আওতায় আসবেন? একে যদি আমরা আমলে না নিই, তাতে দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আর এর স্থায়ী সমাধান একটাই- কেমিক্যালের কারখানা স্থানান্তর করা। কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল পল্লীর কাজ দ্রুত শেষ করে রাসায়নিক পদার্থের সব কারখানা স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই। সঙ্গে সঙ্গে চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলার অগ্রগতিও আমরা দেখতে চাই।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়