ভিপি নূরের নতুন জোট এবং বাম বলয়

আগের সংবাদ

শিক্ষায় সংকট কেটে উঠুক

পরের সংবাদ

মাতৃভাষার শক্তিতে জাতি ও জাতি-রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১ , ১০:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১ , ১০:২১ অপরাহ্ণ

এবার ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা করোনা সংক্রমণের কারণে আগের মতো উচ্ছ¡াস নিয়ে হয়তো পালন করতে পারেনি। তবে সীমিত পরিসরে শহরগুলোতে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তপক অর্পণ করা হয়েছে, মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রকাশও ঘটেছে। তবে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর নিয়মটি ধীরে ধীরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তপক অর্পণ, গণমাধ্যমে ভাষার গুরুত্ব, ২১ ফেব্রæয়ারির ঐতিহাসিক ঘটনাবলি, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শন এবং বাংলা ভাষার বিস্তারে রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করার অঙ্গীকার প্রতি বছরই ব্যক্ত করে আসছে। অন্যান্য বছর গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন এবং পাকিস্তানের বর্বরতার ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু সাংস্কৃতিক ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করত। কিন্তু এবার করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তা করতে পারেনি। সে কারণে একুশের প্রভাব এ বছর গ্রামগঞ্জে পড়তে পারেনি। এমনিতেই একুশের অনুষ্ঠানাদি দীর্ঘদিন থেকেই শহর, উপশহর কেন্দ্রিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ একুশের অনুষ্ঠানাদিতে খুব একটা অংশ নেয়ার রীতিতে যুক্ত হয়নি, তাদের তেমন কেউ বা কোনো সংগঠন সেভাবে যুক্ত করেনি। সেটি যদি প্রতিটি গ্রামের অগ্রসর মানুষজন পালন করার আয়োজনের উদ্যোগ নিত তাহলে মোটামুটি একুশে ফেব্রæয়ারির বিষয়গুলো গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে উঠত। দুঃখজনক হলেও বাংলাদেশে প্রায় পৌনে ১ লাখ গ্রামে একুশে ফেব্রুয়ারির আনুষ্ঠানিকতার প্রভাব খুব একটা পড়ছে না উদ্যোগের অভাবের কারণেই। এর ফলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী দিবসটি পালনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে নাÑ যদিও বেশিরভাগ মানুষই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে পাকিস্তানি পুলিশ গুলি চালিয়ে কয়েকজন ছাত্র ও কর্মচারীকে হত্যা করেছে এমন বিষয়টি কমবেশি জানে। এর সঙ্গে মাতৃভাষার দাবির বিষয়টিও তারা বড়দের কাছ থেকে শুনে আসছে। কিন্তু মাতৃভাষার গুরুত্ব কেন বেশি, কেন মাতৃভাষার চর্চা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই নয় যাপিত জীবনের সর্বত্র প্রয়োজন এর উত্তর সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তুলে ধরা কিংবা ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষজনও বুঝতে পারে সেই ব্যবস্থা থাকা দরকার। এছাড়া মাতৃভাষা হিসেবে বাঙালির কাছে বাংলা ভাষা, অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃজাতি গোষ্ঠীর কাছে তাদেরও মাতৃভাষার মর্যাদা এবং গুরুত্ব বুঝার বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকা দরকার। আমরা প্রতি বছর একুশ ফেব্রুয়ারিতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি নিয়ে আন্দোলন, সংগ্রাম এবং রক্তঝরা একুশে ফেব্রæয়ারি, সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকের জীবন উৎসর্গ করার ইতিহাসটি প্রতি বছরই শোনা ও বলার চেষ্টা করছি। মাতৃভাষা নিয়ে অনেকেই যথেষ্ট আবেগ ও উচ্ছ্বাসের কথা ব্যক্ত করেও থাকেন। স্বাধীনতার এবার ৫০ বছর পালিত হতে যাচ্ছে। বাংলা ভাষার বিস্তার ও মর্যাদা নিয়ে প্রতি বছরই ফেব্রæয়ারি মাস এলে সরকার, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক মহল, রাজনৈতিক কয়েকটি দল এবং নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করা হয়। বলা চলে বাংলাদেশে বাংলা ভাষার বিস্তার, উন্নয়ন ও প্রয়োগ ৫০ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসন এবং শহরকেন্দ্রিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠানেই কমবেশি হচ্ছে। তবে কাক্সিক্ষত মান কিংবা প্রসার নিয়ে আমাদের হতাশা ও ক্ষোভ রয়েছে। দেশে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার দ্রুত প্রসার ঘটছে, একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের মাদ্রাসায় আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষার নামে যেভাবে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে তাতে মানের সংকট যথেষ্ট পরিলক্ষিত হচ্ছে।

অন্যদিকে আকাশ সংস্কৃতির মাধ্যমে পড়ে হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজির প্রভাব আমাদের শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে যেভাবে পড়ছে তাতে মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা এদের মধ্যে সেভাবে গড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। ফলে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে বাংলা, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, উর্দু, হিন্দি ভাষার এক গোলমেলে অবস্থা তৈরি হয়েছে। এর ফলে জাতি গঠনে আমরা চরম এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমাদের সমাজে জাতীয়তার পরিচয় নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলা ও বাংলাদেশি পরিচয়ের বিষয়টিকে অনেকেই লঘু করে ফেলেছেন। অনেকের কাছেই ধর্মীয় পরিচয়ই জাতীয়তার সমর্থক হয়ে উঠেছে। সেভাবে তাদের কাছে ভাষার মর্যাদা কল্পিত হচ্ছে। মাতৃভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তাদের কাছে অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন ইংরেজি ভালো জানার মধ্যে বিদেশে পাড়ি জমানো, কিংবা দেশে করপোরেট অথবা শিক্ষা ব্যবস্থায় বাণিজ্য করে অর্থবিত্তের সন্ধান খুঁজে পাচ্ছে। বাংলা ভাষায় জীবন-জীবিকাকে সমৃদ্ধ করার প্রেরণা পাচ্ছে না। এ ধরনের হাজারো প্রশ্ন এবং অজানা উত্তর নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে বৃহত্তর তরুণ প্রজন্ম এবং তাদের অভিভাবক মহল। এর কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে ৭০ বছর ধরে আমরা একুশ ফেব্রæয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পালন করে এলেও মাতৃভাষার চর্চা, শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতির প্রসার, জ্ঞানবিজ্ঞানসহ সর্বত্র এর প্রয়োগ ঘটানোর পদ্ধতিগত উপায়গুলো বের করত পারেনি, নেয়নি উন্নত জাতি-রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতা ও উদাহরণ। সে কারণে আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে মাতৃভাষা হিসেবে বাংলার ব্যাপক চর্চার সঙ্গে বিদেশি ভাষা শিক্ষার পদ্ধতিগত দিকটিও আমরা যথাযথ নিয়মে প্রয়োগ করতে পারিনি। আমরা বরং শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে মাতৃভাষা এবং বিদেশি কয়েকটি ভাষার বোঝা আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর অপরিকল্পিতভাবে ছাপিয়ে দিয়েছি। এর ফলে বিরাটসংখ্যক শিক্ষার্থী মাতৃভাষাও যেমন ভালোভাবে জানার সুযোগ পায় না বিদেশি, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায়ও দক্ষতা খুব একটা অর্জন করতে পারে না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে অপরিকল্পিতভাবে বহু ধারার মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান কিংবা ভাষাগত জ্ঞানলাভের সুযোগ করে দিতে পারছে না। এ কারণেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশই কার্যত দক্ষ, চিন্তাশীল, মেধাবী, সৃজনশীল শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে সফল হচ্ছে না।
মনে রাখতে হবে প্রতিটি ভাষাই ঐতিহাসিক নানা পরিবর্তন ও বিবর্তনের পথ ধরে বেড়ে ওঠে। প্রতিটি জনগোষ্ঠী ইতিহাসের হাজার বছরের পথপরিক্রমায় নিজের ভাষা সৃষ্টি যেমন করে, এর বিকাশ সাধনেও ক্রমাগত ভ‚মিকা রেখে থাকে। বিশেষত বর্ণমালার উদ্ভাবন এবং শিক্ষার বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে ভাষার চর্চা ক্রমেই উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। এ সময় শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় বইপুস্তক রচনা, গবেষণা, মেধা, মনন ও বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার উৎকর্ষ সাধনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয় তাতে ভাষাভিত্তিক জাতি গঠনের একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়। একইসঙ্গে ভাষারও বহুমাত্রিক উন্নয়ন ঘটে। যেমন বাংলা ভাষার আদিরূপের বিবর্তন অনেকটাই মৌখিক ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বাংলা বর্ণমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের সুযোগ অষ্টাদশ ও উনিশ শতকে শুরু হওয়ার পর থেকে বাঙালি জাতি গঠনের একটি নির্ভরযোগ্য যাত্রা শুরু হয়। উনিশ ও বিশ শতকে বাংলা সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি তার মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পেয়েছে। উনিশ শতকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন কলেজ ও স্কুল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাঙালি ও বাংলা ভাষা একে অপরের অস্তিত্বকে শুধু টিকিয়ে নয় বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে বিশ শতকের শুরু থেকে রাজনীতির বিকাশে বাঙালি অগ্রসর সমাজ গোটা জাতি গোষ্ঠীকে টেনে তোলার আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখে, স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখায়। ঔপনিবেশিক শক্তিকে হটিয়ে নিজেদের রাষ্ট্র পাওয়ার স্বপ্ন দেখে। এটি ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকার জাতিসমূহের স্বাধীন রাষ্ট্র লাভের আন্দোলন সংগ্রাম ও স্বপ্নের সঙ্গে অনেকটাই এক ধরনের যাকে আমরা জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার লাভের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে থাকি। পৃথিবীর অভিজ্ঞতায় বড়-ছোট বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী গত তিন-চার শতকে এভাবেই নিজ নিজ জাতীয়তার পরিচয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছে। জাতীয়তা এই শক্তি জুগিয়েছে জাতিসমূহের ভাষা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বৃহত্তর জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে প্রসারিত করার মাধ্যমে। শিক্ষা ব্যবস্থা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ‚মিকা রেখেছে। সে কারণেই ইউরোপে বলা হয়ে থাকে আঠারো শতক হচ্ছে শিক্ষা-দীক্ষার আলোকিত যুগের সূচনা এবং উনিশ শতক হচ্ছে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের যুগ। এর জন্য ইউরোপের জাতিসমূহ আন্দোলন, সংগ্রাম, বিপ্লব এবং বুদ্ধিভিত্তিক চর্চার ক্ষেত্রে সাহিত্য দর্শন ইতিহাস শিল্পকলা জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় নিজ নিজ জাতিকে সংগঠিত করেছে, জাতির মধ্য থেকে সর্বক্ষেত্রে মেধাবী নেতৃত্ব ও পাণ্ডিত্য সৃষ্টি করেছে। এটি ঘটেছে সম্পূর্ণরূপে মাতৃভাষায়। অবশ্য প্রতিবেশী জাতিসমূহের ভাষা ও সংস্কৃতি থেকেও অনেক কিছু শিক্ষা নিয়েছে। তবে সেটি ঘটেছে পদ্ধতিগতভাবে। এর ফলে ইউরোপের জাতিসমূহ আগের মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিভক্ত ভূখণ্ডের সামন্ত জমিদার শ্রেণির কর্তৃত্বকে ভেঙে দিয়েছে, গঠন করেছে শক্তিশালী জাতি-রাষ্ট্র। যেমন জার্মানি গঠিত হয়েছে ৩৬০টির মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সামন্ত রাজ্যকে নিয়ে, ইতালিও গঠিত হয়েছে ১০-এর অধিক অঞ্চলকে একত্রিত করে। এর পেছনে ছিল ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার, যা জাতিগতভাবে শক্তি জুগিয়েছে বিভক্ত জনগোষ্ঠীকে। এখানেই ভাষার শক্তির পরিমাপটা অনুমান করতে হয়। জাপান থেকে ইউরোপ পর্যন্ত, কিংবা লাতিন আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকা দেশগুলোর উন্নতির মূলে রয়েছে ভাষাকেন্দ্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভ‚মিকা। জাপান তার সমগ্র জনগোষ্ঠীকে জাপানি ভাষায় সুশিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে। পাশাপাশি বিদেশি ভাষা শেখার ব্যবস্থা রাখছে। কিন্তু জাপানি শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিদেশি কোনো এক বা দুটো ভাষাকে চাপিয়ে দিয়ে নয়। বিদেশি ভাষা শিক্ষার্থীরা শিখবে, কিন্তু মূল পঠন-পাঠন ও উচ্চতর পর্যায়ের গবেষণা চলবে নিজের মাতৃভাষায়, বিদেশি ভাষা তাকে দুনিয়ার সর্বশেষ আবিষ্কার ও জ্ঞানর্জনকে জানতে সাহায্য করবে মাত্র। ইউরোপের অন্যান্য দেশও তাই। মাতৃভাষায়ই হচ্ছে শিক্ষার প্রধান মাধ্যম, বিদেশি ভাষা মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষায় শেখার ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হয়েছে। এখানেই আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে উন্নত জাতিরাষ্ট্রগুলোর পার্থক্য। এর ফলে ওইসব দেশে এক বা একাধিক জাতি বসবাস করলেও প্রত্যেকেই তার নিজের মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভ করে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। তাদের জনগোষ্ঠীর এক শতাংশও মেধার অপচয়ে পড়ে না। অন্যদিকে আমাদের নব্বই শতাংশ শিক্ষার্থী মানের সংকটে ভোগে। ফলে জাতিগত চেতনা তৈরি হচ্ছে না, জাতিরাষ্ট্রটিও চেতনার অভাবে গঠিত হতে পারছে না। সুতরাং মাতৃভাষার চর্চাকে জাতি-রাষ্ট্রগুলোর মতোই আমাদেরও চর্চা করতে হবে। তাহলেই আমরা জাতিগতভাবে মেধা, মনন, জ্ঞানবিজ্ঞান, সংস্কৃতিসহ আধুনিক রাষ্ট্র দর্শনে শক্তিশালী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হব।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়