জাবি ছাত্রী হলে তালা প্রশাসনের, ৬ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

আগের সংবাদ

ভৈরবে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ-গুলি, আহত ১৫

পরের সংবাদ

শহীদ মিনারে মানুষের ঢল, স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ , ৩:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ , ৬:১১ অপরাহ্ণ

ভাষা আন্দোলনে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের ঢল। মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ছেয়ে যায় শহীদ বেদি। উদ্দেশ্য মহৎ হলেও, সেই ঢলে উপেক্ষিতই থেকে গেল করোনা আতঙ্ক ও সরকারের বেধে দেওয়া স্বাস্থবিধি। সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, শহীদ মিনারে আগতদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা একেবারেই চোখে পড়েনি। শুধু তাই নয়, বেদিতে ফুল দিতে এসে কে কার আগে সেলফি তুলবেন এটা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে অধিকাংশদের।

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাদের সামরিক সচিবরা শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান। এর পরই জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় শহীদ মিনার। ভোরের সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে ফুল হাতে দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন ছুটে এসেছে শহীদ মিনারে। কোলের শিশু থেকে শুরু করে শেষ বয়সে উপনীতরা এসেছেন সালাম, বরকত, রফিক, জাব্বার, শফিউলদের অন্তরের ভালোবাসা ও সম্মান জানাতে। প্রতিবারের মতো এমনই দৃশ্য ছিল এবারের শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে।

এর আগে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। করোনা পরিস্থিতির কারণে শহীদ মিনারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের কথা জানানো হয়। বলা হয়, ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বোচ্চ দুই জন ও কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানালে সর্বোচ্চ পাঁচজন ব্যক্তি বেদিতে প্রবেশ করতে পারবেন। করোনার কারণে প্রত্যেককে মাস্ক পরে বেদিতে আসা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছিল। জোরদার করা হয়েছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। সব সতর্কতাই যেন উপেক্ষিত ছিল জনসাধারণের কাছে।

একুশের প্রথম প্রহরে জনসধারণের জন্য শহীদ মিনার খুলে দেওয়ার পর পরই সাধারণ মানুষের ভিড় জমে। কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রবেশের কথা বলা হলেও সর্বনিম্ন ৫ জনের অধিক ছিল প্রতিটি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যানারে শতাধিক নেতাকর্মী একসঙ্গে ঠেলাঠেলি ধাক্কাধাক্কি করেও প্রবেশ করতে দেখা গেছে। অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক। শুধু তাই নয়, বেদিতে ফুল দিতে এসে কে কার আগে সেলফি তুলবেন এটা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে অধিকাংশদের।

এবিষয়ে প্রশ্ন করলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে ভোরের কাগজ লাইভকে একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা বলেন, আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছি সরকার ও প্রশাসনের বেধে দেওয়া নিয়ম মেনেই শহীদ মিনারে আসতে। কর্মীদের কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু আমাদের কমিটিতে যে কজন পদ-পদবিতে থাকেন, তারা কেউই থেকে যেতে রাজি হন না। সবাই চান এমন একটা মহান দিনে ব্যানারে আসতে। এজন্যই আমরা এসব নিয়ম মেনে আসতে একটু হিমশিম খাচ্ছি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় আমাদের এবারের নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেকটাই কম।

শহীদ মিনারকে ঘিরে রাখা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। এমন নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেও কেন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা। তবে মুঠোফোনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মানুষকে শৃঙ্খলতার মধ্যে রাখতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা সদস্যরা যথেষ্ট সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করছে। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যাপার ঘটেছে। অনেকেই অসচেতনতাবসত স্বাস্থ্যবিধি মানেননি। আমরা তাদেরকে বারবার সাবধান করেছি। অনেককে আমরা ফিরিয়েও দিয়েছি। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও মানুষ আবেগবসত চলে আসছেন। সব মিলিয়ে আমাদের বাহিনীর সদস্যদের প্রচেষ্টায় কোনো কমতি ছিল না।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর এমন অসচেতনমূলক আচরণের কারণে ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে অনেক সাধারণ মানুষকে। করোনার কারণে পরিবার রেখে অনেকেই একা চলে এসেছেন ফুল দিতে। তাদের অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, পরিবার রেখে আসলাম সরকারের বেধে দেওয়া নিয়ম মেনে। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম অধিকাংশই মানছেন না নিয়ম। এতে আমাদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়