আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করল শিলচরের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ

আগের সংবাদ

ভাড়ার জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা করল সিএনজি চালকরা

পরের সংবাদ

ভাষা আন্দোলনে আক্কেলপুর

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ , ১০:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ , ১০:২৭ অপরাহ্ণ

বাংলা ভাষাই বিশ্বের একমাত্র ভাষা, যে ভাষার জনগণ ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মোৎসর্গ করেছে, প্রাণ দিয়েছে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের কিছু দিন পরে আত্মপ্রকাশ করে বামপন্থি ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন। ছাত্র ইউনিয়ন ছিল তখনকার দিনে একটি অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। এই পথ ধরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ ও পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ১৯৫৬ সালে তাদের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়। আক্কেলপুরের ভাষাসৈনিক ডা. আজিজার রহমানের কাছ থেকে জানা যায়, ঢাকার আন্দোলনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে বগুড়া জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠন আক্কেলপুর শাখার তখনকার যুবলীগ সহসভাপতি ডা. আজিজার রহমানের সভাপতিত্বে প্রয়াত খয়ের চৌধুরীর বাসায় গোপনে আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, আক্কেলপুরের ভাষার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষাসৈনিক কবি আতাউর রহমান ঢাকা থেকে আক্কেলপুর আসেন।

সেই দিনই আবার রাতে একই স্থানে ভাষাসৈনিক কবি আতাউর রহমান, ভাষাসৈনিক ডা. আজিজার রহমান, ভাষাসৈনিক ছুমির উদ্দিন মণ্ডল, ভাষাসৈনিক ওঙ্কারমল মোর, ভাষাসৈনিক মোন্তাছার রহমান, ভাষাসৈনিক সত্যনারায়ণ আগরওয়ালা, ভাষাসৈনিক আব্দুস ছাত্তার চৌধুরী, ভাষাসৈনিক আব্দুল খালেক মণ্ডল, ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম রব্বানী, ভাষাসৈনিক মোহাম্মদ আলী লস্কর, ভাষাসৈনিক শৈলেশ ঘোষ, ভাষাসৈনিক প্রভাত রায়, ভাষাসৈনিক হাজি আব্দুল আজিজ মণ্ডল, ভাষাসৈনিক নবির উদ্দিন আহমেদ, ভাষাসৈনিক ডা. শিশির মহন্ত, ভাষাসৈনিক প্রণব চৌধুরী, ভাষাসৈনিক দেওয়ান কোরবান আলী, ভাষাসৈনিক মুজিবর রহমান (আক্কেলপুরী), বগুড়ায় বসবাসরত ভাষাসৈনিক সুমন্ত কুমার বসাক সবাই মিলে আলোচনা করেন এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- ২৪ ফেব্রুয়ারি শহীদের উদ্দেশে ছাত্রদের নিয়ে আক্কেলপুরে মিছিল করা হবে এবং আক্কেলপুরে ভাষাশহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার তৈরি করার প্রস্তাব করেন ভাষাসৈনিক শৈলেশ ঘোষ।

শহীদ মিনার তৈরি হবে আক্কেপুর হাইস্কুল প্রাঙ্গণে, কর্মসূচি মোতাবেক ২৪ ফেব্রুয়ারি স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে মিছিল করা হয়, তখনকার আক্কেলপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক ভাষাসৈনিক প্রমোদ বাবুর কাছ থেকে রাতে গোপনে অনুমতি নেয়া হয়। আক্কেলপুর স্কুলে শহীদ মিনার তৈরি করার জন্য গোপনে রাতেই আক্কেলপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ইট জোগাড় করা হয়। স্কুলের পাশেই বসবাস ছিল হরিজন সম্প্রদায় ল²ণ বাঁশফোর তার পরিবারের। বাসা থেকে কোদাল সংগ্রহ করে শহীদ মিনারের ভিতের জন্য প্রথম মাটি কাটেন ভাষাসৈনিক ছমির উদ্দিন মণ্ডল। সারা রাতে সবাই মিলে ইট, কাদা মাটি দিয়ে তৈরি করা হয় শহীদ মিনার। ভাষাসৈনিক কবি আতাউর রহমানের সাথে আলাপে জানা যায়, ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গোলাগুলিতে ৭ জন শহীদ এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। ঢাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা মনিং নিউজ পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে ফেলে। ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারাসহ কারফিউ জারি করা হয়। একুশের প্রতিবাদে বেতার শিল্পীদের ধর্মঘট, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকদের পদত্যাগের হুমকি, ছাত্রছাত্রীদের উত্তাপ মিছিল।

আমরা সবাই মিলে আক্কেলপুরে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন গড়ে তুলি। ভাষা আন্দোলনে যারা অংশ গ্রহণ করেছেন বা সংগঠিত করেছেন বা নেতৃত্ব দিয়েছেন বা যারা শহীদ হয়েছেন সব শহীদ এবং জীবিত সেনানিদের কাছে জাতি ঋণী। অনেক বছর পার হয়েছে কিন্তু আজো গেজেট প্রণিত হয়নি ভাষাসৈনিকদের। এ ব্যাপারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসা উচিত। ভাষা আন্দোলন শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না, ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র পূর্ব বাংলায়। আজকের প্রত্যয় হোক- দেশের ভাষাসৈনিকদের আমরা হারাতে চাই না। তাদের যথাযথ সম্মানের সঙ্গে ইতিহাসে স্থান দেয়া এবং আমাদের মনের মণিকোঠায় স্থান দেয়া তথা তাদের আদর্শকে লালন করা, তবেই একুশের শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।

লেখক: মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়