গুলিতে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাংবাদিক মুজাক্কিরের মৃত্যু

আগের সংবাদ

ভারত থেকে টিকার দ্বিতীয় চালান আসছে সোমবার রাতে

পরের সংবাদ

গণতন্ত্রপন্থিদের রক্তে আরও তেজি জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ , ৭:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ , ৭:০৬ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারে পুলিশের গুলিতে নিহত তিন গণতন্ত্রপন্থির রক্তে স্নাত হয়ে আরও তেজি হয়ে উঠেছে সেনাশাসন বিরোধী বিক্ষোভ। মারমুখী সেনাবাহিনী এবার দেশটির খ্যাতিমান অভিনেতা লু মিন-কেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, কবি, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখ লাখ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন। সেনা, পুলিশের তাক করা বন্দুকের আর তোয়াক্কা করছেন না গণতন্ত্রপন্থি ক্ষুব্ধ জনতা। অন্যদিকে ঘৃণাবাদী প্রচারণা ঠেকাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মূল পেজ বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

সেনা শাসনের অবসান এবং কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চি ও রাজনৈতক নেতাদের মুক্তির দাবিতে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। তবে গত শনিবার ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর দিন। এ দিন মান্দালয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি ছুড়ে পুলিশ ও সৈন্যরা। এতে দুই জন নিহত হন এবং আহত হন বহু মানুষ। নিহতদের একজন কিশোর এবং অন্যজনের বয়স ২০ বছর। এর আগে মাথায় গুলিবিদ্ধ এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এই তিনজন নিহতের পর সাধারণ মানুসের মাঝে ক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। সেনাবাহিনী নতুন নির্বাচন করে বিজয়ীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আর কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে নেতা লু মিন-কে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তার স্ত্রী বলেন, ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থান বিরোধী প্রতিবাদ সমর্থন করার কারণে ওই অভিনেতাকে খোঁজা হচ্ছিল। সরকারি কর্মচারীদের ‘আইন অমান্য’ আন্দোলনে যোগ দিতে উৎসাহিত করার জন্য যে ছয় খ্যাতিমান ব্যক্তির বিরুদ্ধে উস্কানি-বিরোধী আইনে সেনাবাহিনী বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল অভিনেতা লু মিন তাদের একজন। মিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে তার দুই বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

আগের দিন শনিবার দু’জন নিহত হওয়ার পর মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর টম অ্যানড্রু বলেন, তিনি ভীত শঙ্কিত। বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে জলকামান। আর সেনারা এখন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর খুব কাছ থেকে গুলি করছে।

সাধারণ জনগণের উপর নির্যতনের কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিচালিত মূল পেজটি মুছে দিয়েছে ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্মটি জানিয়েছে, সহিংসতার উস্কানির নীতিমালা ভঙ্গ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর ওই সহিংসতার পর ফেসবুকের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, বৈশ্বিক নীতিমালা অনুযায়ী ফেসবুক থেকে সেনাবাহিনীর ‘টাটমাডাও ট্রু নিউজ ইনফরমেশন টিম’ পেজটি মুছে দেওয়া হয়েছে। কারণ এটি বারবার আমাদের সহিংসতা এবং ক্ষতিরোধকারী কমিউনিটি নীতিমালা ভঙ্গ করেছে। ফেসবুকের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি দেশটির সেনা মুখপাত্র।

আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়