২১১ দেশের মধ্যে সেরা বাংলাদেশের মাহির

আগের সংবাদ

নতুন মোবাইলেও বিপত্তি!

পরের সংবাদ

ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১ , ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১ , ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ

বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট নেই। দোকানে থরে থরে সাজানো একাধিক কোম্পানির ভোজ্যতেলের বোতল। পাশাপাশি খোলা তেলেরও সরবরাহ পর্যপ্ত। এরপরও বিক্রেতারা প্রতি সপ্তাহে বাড়তি দরে তেল বিক্রি করছেন। কয়েক মাস ধরেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। দাম নাগালের বাইরে হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা বেকায়দায়। এরই মধ্যে ভোজ্য তেলের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকারের দর নির্ধারণ কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, বোতলজাত ১৩৫ এবং পাম সুপার তেল প্রতি লিটার ১০৪ টাকায় বিক্রি হবে। গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলুু কুমার সাহা, বিএফটিআইর পরিচালক ওবায়দুল আজম, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য (বাণিজ্যনীতি) আবু রায়হান আলবেরুনী, এনবিআরের সদস্য (শুল্ক) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) হাফিজুর রহমান, ডব্লিউউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হাফিজুর রহমান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, টিকে গ্রæপের পরিচালক সফিউল আফসার তাজলিম, সিটি গ্রুপের উপদেষ্টা অমিতাভ চক্রবর্তী, এস আলম গ্রæপের সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক কাজী সালাহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ডিজিএফআই এবং এনএসআইর প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, এখন থেকে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার মিল গেটে ১০৭, পরিবেশক পর্যায়ে ১১০ ও খুচরা ১১৫ টাকায় বিক্রি হবে। পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার মিল গেটে ১২৩, পরিবেশক পর্যায়ে ১২৭ ও খুচরা ১৩৫ টাকা বিক্রি হবে। এ ছাড়া সয়াবিনের ৫ লিটার বোতল মিল গেটে ৫৯০, পরিবেশক পর্যায়ে ৬১০ ও খুচরা ৬৩০ টাকা বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। ভোজ্যতেল হিসেবে বিক্রি হওয়া পাম সুপার তেল এখন থেকে মিল গেটে প্রতি লিটার ৯৫, পরিবেশক পর্যায়ে ৯৮ ও খুচরা পর্যায়ে ১০৪ টাকায় বিক্রি হবে।
তিনি বলেন, অবিলম্বে এ দাম কার্যকর হবে। আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত মজুত সৃষ্টি করতে হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট না হয়। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাসে ৬৫ শতাংশ তেলের দাম বেড়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিপিং খরচও বেড়েছে। এ ছাড়া জাহাজের তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের আমদানিতে আরোপিত ভ্যাট ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনা আরো বেশি যৌক্তিক হারে নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভোজ্যতেলের মূল্য অস্থিতিশীল থাকায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশকবিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা প্রতি মাসেই আয়োজন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক বছরে দেশে সয়াবিন তেলে ২৪ দশমিক ৩২ শতাংশ ও পাম অয়েলের ২২ দশমিক ৮৪ শতাংশ দাম বেড়েছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) গতকাল বুধবারের হিসাবে দেখা যায়, ১ লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১১৬ থেকে ১২০ টাকায়, যা গত ১২ ফেব্রæয়ারি ছিল ১১৫ থেকে ১১৮ টাকা। পাম সুপার তেল ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়ে প্রতি লিটার ১০২-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বোতলজাত প্রতি ৫ লিটার তেল ২০ টাকা বেড়ে ৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজারের সোনালী ট্রেডার্সের মালিক আবুল কাশেম বলেন, কোম্পানিগুলোর নির্ধারিত দামে ক্রেতারা তেল কিনতে চান না। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হয়।
তবে টিসিবির নির্ধারিত দামের সঙ্গে অনেকটাই পার্থক্য পাওয়া যায় বাজারগুলোতে। বাজারগুলো থেকে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা, এখন এ তেল বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়। একই অবস্থা পাম তেলের ক্ষেত্রেও। সেপ্টেম্বরে যেখানে প্রতি কেজি সুপার পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা দরে। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা দরে।
খিলগাঁয়ের এক মুদি বিক্রেতা বলেন, পাইকারি খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় বাড়াচ্ছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া বোতলজাত তেল কোম্পানিগুলোও প্রতি সপ্তাহে নতুন রেট দিচ্ছে। ফলে বোতলজাত সয়াবিনের দামও বেড়েছে।
আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এখন যে দামে ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম) বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহের আমদানিমূল্য ধরে বিক্রি করলে খুচরা মূল্য আরো বেশি হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক বাজারের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোয় ভোজ্যতেলের দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা পরিশোধনকারীদের। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত তিন মাসে ব্যাপকভাবে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম, ফলে সার্বিকভাবে খাদ্যপণ্যের এ বাজার ঊর্ধ্বমুখী।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার তুলনায় সয়াবিন ও পাম অয়েলের সরবরাহ কম এমন অজুহাতে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত ১০ বছরের মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এক মাসের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর বছর ব্যবধানে এ হার ১২ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে। ৮৮ টাকা লিটার দরের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়