ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ

আগের সংবাদ

থমকে আছে যুদ্ধাপরাধের আপিল মামলার শুনানি

পরের সংবাদ

শপিংমলে বিক্রি হচ্ছে চোরাই ফোন

নতুন মোবাইলেও বিপত্তি!

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১ , ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১ , ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অন্তর্ভুক্ত ৭ কলেজের একটির রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থবর্ষের ছাত্র শক্তি প্রণয়। গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ সদরে। তার বাবা প্রশান্ত প্রণয় স্থানীয় চা দোকানি। নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ছেলেকে ঢাকায় রেখে পড়ালেখা করান তিনি। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার একটি মেসে থাকেন শক্তি। দীর্ঘদিনের মোবাইলটি পুরনো হয়ে যাওয়ায় বাবার কাছে নতুন একটি মোবাইল কেনার বাইনা ধরেন। ছেলের আবদার ফেলতে পারেননি বাবা। ধার দেনা করে ১৫ হাজার টাকা পাঠান ছেলেকে। টাকা পাওয়ার পর এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ফার্মগেটের একটি শোরুম থেকে শাওমি ব্রান্ডের একটি মোবাইল কেনেন। সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি ফোন কল তাকে অবাক করে দেয়।

প্রথমে বিশ্বাস না হলেও একপর্যায়ে বুঝতে পারেন, বাবার কষ্টার্জিত ধার দেনায় কেনা ফোনটি মূলত একটি চোরাই ফোন। পরে বাধ্য হয়ে ফোনটি ডিবি অফিসে জমা দিতে বাধ্য হন শক্তি। শুধু শক্তিই নয়, শোরুম থেকে যথাযথ উপায়ে ফোন কিনে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই। এমনকি শোরুমের মালিকরাও বুঝতে পারছেন না পাইকারি দামে চোরাই ফোন কিনে আনছেন তারা। মোবাইল বিক্রির জন্য জনপ্রিয় রাজধানীর মোতালেব প্লাজাসহ বিভিন্ন নামিদামি শপিংমল থেকে এরকম চোরাই ফোন ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। মূলতো মোবাইল চোর চক্র বিভিন্ন মোবাইল শোরুম থেকে চুরি করে মোবাইলগুলো বিক্রি করে দিচ্ছে মোতালেব প্লাজাসহ বিভিন্ন শপিংমলের পাইকারি দোকানে। পরে সেখান থেকে ফোন কিনে প্রতারিত হচ্ছে শোরুম মালিকরা। আর শোরুম থেকে যথাযথ উপায়ে কিনে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মালিবাগের হোসাফ টাওয়ারের সামনে থেকে মোবাইল চুরি চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবির মতিঝিল বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সোহেল, আনোয়ার হোসেন ও সাইদুল ইসলাম ওরফে সবুজ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের অপপো, শাওমি, আইটেল ভিভো ও রেডমি ব্রান্ডের ১১টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে এ বিষয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, চক্রের সদস্যরা গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোভন ইলেক্ট্রনিক্সের মালিক মো. শোভন ডিবি অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে ফোনগুলোর আইএমইআই মিলিয়ে দেখেন, তার দোকান থেকে গত ৭ জানুয়ারি ভোরে চুরি হওয়া ৩৫টি ফোনের ১১টি ফোনই ওগুলো। শোভন ভোরের কাগজকে বলেন, তার দোকানের তালা ভেঙে ফোনগুলো চুরি করে এক চোর। এ ঘটনায় তিনি ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে চুরির ওই ঘটনার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেন ডিবি পুলিশকে। পরে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, সিসি ক্যামেরা ফুটেজের ওই চোরের নাম হাসমত আলী ওরফে আবুল হাসনাত। ডিবির দাবি, হাসমতের কাছ থেকেই ফোনগুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন শপিংমলে ছড়িয়ে দিত গ্রেপ্তারকৃতরা।

ডিবির মতিঝিল জোনের এসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে তথ্য পেয়ে হাসমত আলীকে গ্রেপ্তারে নবীনগর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। পাশাপাশি এ ধরনের আরো চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ফোন কিনতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে : ডিবি কর্মকর্তা মামুন বলেন, যে দোকান থেকে মোবাইল কেনা হবে অবশ্যই ওই দোকানের রিসিট নিতে হবে। রিসিটে সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ ও আইএমইআই উল্লেখ থাকতে হবে। বিক্রেতার স্পষ্ট স্বাক্ষর থাকতে হবে। রিসিটে ফোনের ব্রান্ডের নাম, মডেল ও কালার উল্লেখ থাকতে হবে।

 

 

 

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়