মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে রোসাটমের ওয়েবিনার

পরের সংবাদ

জাগ্রত হোক অমর একুশের প্রকৃত চেতনা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ

‘বাংলা’ আপামর বাঙালির প্রাণের ভাষা। পৃথিবীর অন্য কোনো জাতিকে রক্ত ও জীবন দিয়ে মায়ের ভাষাকে কিনতে হয়নি। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা আরো অনেকের আত্মত্যাগে সমৃদ্ধ ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনই ’৭১-এর মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের নিখাদ প্রেরণার উৎস। ’৫২-এর ঐতিহাসিক আত্মত্যাগকে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই অর্জন নিঃসন্দেহে গর্ব ও অহঙ্কারের। অথচ প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষার প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় আমরা বাঙালিরাই আজ নির্লিপ্ত! দিনের পর দিন অবহেলা আর অবমাননায় ‘বাংলা’ ভাষা আজ অনেক ক্ষেত্রে বিবর্ণ ও অস্তিত্ব সংকটে। ভুল উচ্চারণ, বাংলার সঙ্গে ইংরেজি শব্দ মিশিয়ে কথা বলা, লেখার ক্ষেত্রেও প্রচলিত শব্দের ভুল বানানের ব্যবহার এবং সংশোধনের প্রতি চরম উদাসীনতা ইত্যাদি বাংলার প্রতি করা আমাদের অপমানেরই এক একটা প্রতিচ্ছবি। টিভি ও রেডিওর বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলছে বাংলা ও ইংরেজির মিশেলে উপস্থাপনা ও বক্তব্য-বিবৃতি প্রদানের লজ্জাজনক প্রতিযোগিতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশাল পরিসরে এমন অপচর্চা প্রতিনিয়ত বাড়ছেই। অথচ ভাষার মাসজুড়েই টেলিভিশনের কোনায় শোভা পায় মহান ভাষা আন্দোলন ও অকুতোভয় ভাষাশহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারের ছবি। আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গায়ে তখন রক্ত দিয়ে কেনা বাংলা বর্ণমালার ছবিসমৃদ্ধ পাঞ্জাবি বা শাড়ি। আবার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবার প্রচার ও প্রসারে যেসব বিজ্ঞাপন তৈরি করছে তাতেও বিকৃত হচ্ছে প্রিয় মাতৃভাষা। অর্ধেক বাংলার সঙ্গে গড়ে তোলা হচ্ছে ইংরেজির সখ্য। মহামান্য আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার পরও বাংলার পরিবর্তে বিদেশি ভাষায় লেখা হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের নামফলক ও সাইনবোর্ড। অন্যদিকে বিভিন্ন মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছে ইংরেজি বর্ণে বাংলা বাক্য লিখে ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে যেন মাতৃভাষার অবমাননার ষোলোকলা পূরণের অঘোষিত প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন করছে! সবমিলিয়ে, মায়ের ভাষা এবং অদম্য ভাষাশহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কতটা কৃত্রিম তা এসব কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট। কেবল ফেব্রুয়ারি এলেই মহাসমারোহে একুশ উদযাপনের তোড়জোড় শুরু হয়। নগ্ন পায়ে ফুল হাতে কণ্ঠে একুশের করুণ সুর তুলে প্রভাতফেরি করে ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানাই। কিন্তু তারা যে চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে তাদের অমূল্য প্রাণ বিসর্জনের বিনিময়ে আমাদের পৃথিবীর ইতিহাসে জায়গা করে দিয়েছেন তার খোঁজ নিতে আমরা বড্ড অপারগ! তাই তো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পরও প্রাণের ভাষা ‘বাংলা’কে ছেড়ে ভিনদেশি ভাষায় কথা বলে নিজেদের ব্যক্তিত্ব বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে আমরাই আবার ‘বাঙালি’ বলে গর্ববোধ করি! ভাষা আন্দোলন বিশ^ দরবারে আমাদের গর্ব ও অহঙ্কারের প্রথম উপলক্ষ। আমাদের মাতৃভাষা আমাদের অমূল্য সম্পদ। এর মর্যাদা রক্ষায় আমাদেরই সরব ও সচেতন হতে হবে। সর্বক্ষেত্রে শুদ্ধ ও প্রমিত বাংলা বলা ও লেখার পাশাপাশি মিষ্টিমধুর আঞ্চলিক ভাষাগুলোর বিকৃতি রোধে সচেতন না হলে মাতৃভাষার সম্ভ্রম অক্ষুণœ রাখা মুশকিল। মহান ভাষাশহীদদের প্রতি নিশ্চিতভাবেই আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাদের অমূল্য আত্মত্যাগের মূল চেতনাকে আমাদের অন্তরে লালন করতে হবে।

সহকারী শিক্ষক
ভাগ্যকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
সদর, বান্দরবান।
[email protected]

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়