হুজুগে ফেসবুক শেয়ার ডেকে আনে বিপত্তি

আগের সংবাদ

যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ পাক

পরের সংবাদ

বসন্তে বাংলার প্রকৃতি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৯:২২ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৯:২২ অপরাহ্ণ

বিদায় নিচ্ছে শীত আর ফাল্গুনের হাত ধরে আগমন ঘটেছে বসন্তের। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৫৮৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেছিলেন। এর মধ্যে ‘বসন্ত উৎসব’ অন্যতম। অর্থাৎ ১৪০১ বঙ্গাব্দে বসন্ত উৎসব উদযাপনের রীতি চালু হয়। তারপর থেকেই বাঙালি প্রতি বছর বিভিন্ন উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে বরণ করে নেয় ঋতুরাজ বসন্তকে। বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হয়, কেননা বসন্ত প্রকৃতিকে এক নতুন সাজে সাজিয়ে তোলে। গাছে গাছে আসে নতুন পাতা, শোনা যায় কোকিলের কুহুকুহু গান, চারদিকে থাকে শিমুল-পলাশের মতো বিভিন্ন ফুলের সমাহার, দখিনা দুয়ার খুলে বইতে থাকে ফাল্গুনী হাওয়া। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে এই বসন্তের আগমনের মাধ্যমেই নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে প্রকৃতিতে, রঙিন হয়ে উঠে সবকিছু। সেই সঙ্গে রঙিন হয়ে উঠে মানুষের হৃদয়, তরুণ সমাজ মেতে উঠে উৎসবে। এ ছাড়াও প্রতিবার বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় বসন্তকে।
এই বসন্তকে বরণ করে নেয়ার আকাক্সক্ষা বাঙালির চিরকালের। কারণ সবসময়ই এই বসন্তের আগমন নিয়ে আসে বাঙালির মিলনের বার্তা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বসন্তের রূপ-লাবণ্য-রসে সেজে উঠে সমগ্র বাঙালি, নিজেদের রাঙিয়ে তোলে বাসন্তী রঙে। শুরু হয় বিভিন্ন আনন্দ উৎসব। আবার এই বসন্ত একদিক দিয়ে যেমন আনন্দের, অন্যদিক দিয়ে তেমন বেদনার ও। এই বসন্ত নিয়ে আসে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির আগমনী বার্তা। বাঙালি জাতিকে মনে করিয়ে দেয় ভাষাশহীদদের রক্তের ইতিহাস। মনে করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেননা এ সময় থেকেই শুরু হয়েছিল দেশ স্বাধীন করার প্রাণপণ লড়াই। বসন্তকে ঘিরে রয়েছে তারুণ্যের বিভিন্ন রকম চিন্তাভাবনা, কবিদের বিভিন্ন কবিতা, আরো রয়েছে বিভিন্ন গান। এই বসন্তকে নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান : তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান : আমার আপন হারা প্রাণ; আমার বাঁধন ছেড়া প্রাণ।’ সবকিছু মিলে বসন্ত আছে বাঙালির মনের অনেকখানি জায়গা জুড়ে। প্রতি বছরের মতো এবারো বাঙালি তার চিরায়িত ভালোবাসা দিয়ে বরণ করে নিয়েছে বসন্তকে। অতিমারি করোনার কারণে এবারের উৎসব ছিল ভিন্ন। করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব খানিকটা তাল কাটলেও সংস্কৃতিমনা নানা বয়সী শ্রেণী-পেশার মানুষ মেতে উঠে উৎসবে। তরুণ সমাজ থেকে প্রবীণ সমাজ পর্যন্ত সবাই যেন প্রকৃতির রঙের সঙ্গে নিজেদেরও রাঙিয়ে তোলে আগামীতে সেই আশায় ব্যক্ত করি।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়