ফ্রান্সের টেকনোলজি-নলেজ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিভিসিআই গ্রহণ করতে পারে

আগের সংবাদ

সংস্কৃতির বিকাশে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র

পরের সংবাদ

প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৯:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১ , ৯:০৭ অপরাহ্ণ

ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। পরিবেশ বিপর্যয় ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য মানুষই বিশেষভাবে দায়ী। মানুষের আচরণ ও অবহেলার কারণে ক্রমে পরিবর্তিত হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। শহরাঞ্চলে অপরিকল্পিত নগরায়নের দাপটে পরিবেশ দূষণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। একটা দেশের ভৌগোলিক আয়তনের ৩৩ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন; অথচ বাংলাদেশে আছে মাত্র ৭-৮ শতাংশ। উদ্বেগের বিষয় এর পরিমাণ প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে। শহরাঞ্চলে ক্রমাগত বৃক্ষনিধন, পাহাড় কর্তন, অধিক যানবাহন চলাচল, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, ইত্যাদি কারণে দেশের জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্যে রক্ষা করা জরুরি। এক সময় পরিবেশে পর্যাপ্ত জীববৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিলুপ্তপ্রায় জীববৈচিত্র্য। নানান কারণে শহর ও গ্রামাঞ্চলে বন্য পশু-পাখি কমতে শুরু করেছে। নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে পাখির প্রজননের জন্য নেই পর্যাপ্ত জায়গা। তাছাড়া পাখির অন্যতম খাবার পোকামাকড়।
কিন্তু বর্তমানে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার জন্য জমিতে বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে খাদ্য সংকটের ফলে পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে, বিপরীতে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ায় ফসলি জমিতে পোকামাকড় বৃদ্ধি পাচ্ছে। পোকার আক্রমণ কমাতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, প্রযুক্তির প্রসারে উচ্চগতির নেটওয়ার্কের ব্যবহারের ফলে পরিবেশের বন্যপাখির মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া এক শ্রেণির শিকারির ফাঁদে এখন দেশের নানান প্রজাতির বন্যপ্রাণী। শিকারির অত্যাচারে বন্যপ্রাণীর জীবনযাত্রা এখন অস্বাভাবিক। শীত এলেই এক সময় প্রচুর অতিথি পাখির দৃশ্য দেখা গেলেও পরিবেশ বিপর্যয় ও শিকারির অত্যাচারে অতিথি পাখির বিচারণ এখন প্রায় কমতে শুরু করেছে। এছাড়া কলকারখানার দূষিত বর্জ্য, জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক ইত্যাদি নদী-খানের পানিতে মিশে পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। এসব বিষাক্ত পানি পান করে বনের অনেক প্রাণীর মৃত্যু ঘটেছে।
বর্তমানে প্রাণীর মধ্যে বাঘ, হরিণ, বন্য শূকর, হনুমান, ময়ূর, শকুনসহ অনেক পরিবেশ উপকারী প্রাণী প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য শৃঙ্খল প্রক্রিয়া। এ ছাড়া খাদ্য সংকটের ফলে অনেক বন্যপ্রাণী এখন লোকালয়ে প্রবেশ করে মানুষের ওপর আক্রমণ ও বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি করছে। মূলত বনাঞ্চল ও পাহাড়ে বন্যপ্রাণী বাসযোগ্য পরিবেশের অভাবেই লোকালয়ে বিচরণ করে। লোকালয়ে বন্যপ্রাণী দেখলেই অনেক মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুঝে-না বুঝে বিভিন্ন ফাঁদ সৃষ্টি করে বন্যপ্রাণী হত্যা করছে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে বন্যপ্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। এভাবে পরিবেশ থেকে উধাও হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। দিন দিন জনসংখ্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতে বন উজাড়, পাহাড় কেটে নির্মাণ করছে বসতবাড়ি, ফলে একদিকে যেমন বনভ‚মির পরিমাণ ছোট হয়ে আসছে, অন্যদিকে মানুষ ও পরিবেশ উপকারী গাছপালা যেমন গরান, কড়ই, বট, অশ্বত্থ, পলাশ, শিমুল, হরীতকী, জারুলসহ বহু প্রজাতির গাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়। মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে বুঝে কিংবা না বুঝে জীবন উন্নতির জন্য পরিবেশের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে প্রতি বছর দেশে, বন্যা, খরা ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে। মানুষ প্রতিনিয়ত পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়ে নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছে। দেশের নদীগুলো এখন শুকিয়ে মৃতপ্রায়। বর্তমানে যেসব নদী আছে সেগুলো ও জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছে। শিল্পবর্জ্যসেহ নানান কারণে নদীর পানিগুলো এখন বিষাক্ত। এসব নদীতে এখন মাছও পাওয়া যায় না। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মানুষ অনেকটাই উদাসীন।
বর্তমানে দেশে বেড়েই চলেছে প্লাস্টিক দূষণের পরিমাণ। করোনাকালে এর পরিমাণ আরো দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। প্লাস্টিক দূষণ সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য সবচেয়ে হুমকিস্বরূপ। একটি পরিসংখ্যান বলছে, সমুদ্রের পানিতে ৫ ট্রিলিয়নের বেশি প্লাস্টিক ভেসে থাকে। ১৪ মিলিয়ন টনের বেশি প্লাস্টিক প্রতি বছর সমুদ্রে জমা হচ্ছে। সমুদ্রে প্লাস্টিকের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সামুদ্রিক প্রাণীর ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। খাদ্য হিসেবে ভুল করে প্লাস্টিক খাওয়ার ফলে প্রতিনিয়ত সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। ভোক্তা সমাজ ও উৎপাদনকারীদের মানসিকতা এবং আচরণ সম্পূর্ণভাবে প্লাস্টিক দূষণের জন্য দায়ী। তাই বিপন্ন পরিবেশের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে নিরাপদ পরিবেশ গোড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব ব্যবহার নিশ্চিত এবং পরিবেশ দূষণরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়