প্রেমে জড়াতে না দেয়ায় মা-মেয়েসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম

আগের সংবাদ

ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে সমতায় ফিরল ভারত

পরের সংবাদ

অনুমতি না নিয়ে অফিসে ঢোকায় ক্ষেপলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১ , ২:২৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১ , ৪:৪০ অপরাহ্ণ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক লুৎফর রহমান লাড্ডু। খেলার মাঠ ও বাইরে স্থানীয় ছেলে বুড়ো সব বয়সের মানুষই তাকে ‘‌লাড্ডু ভাই’ নামে চেনেন। এই মানুষটির সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শারমিন লুবনা। অনুমতি না নিয়ে তার হাসপাতালের অফিসে কক্ষে প্রবেশ করায় ক্ষেপে গিয়ে লুৎফর রহমানকে তীব্র গালিগালাজ করেন ওই কর্মকর্তা। এরপর তার কাছে ক্ষমা চাওয়া সহ পুলিশ দিয়ে লুৎফর রহমানকে ধরিয়ে দিতেও উদ্যত হন।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুবনার এমন অমানবিক আচরণের খবর শুনে ক্ষুব্ধ হয়েছে কালীগঞ্জে ক্রীড়াপ্রেমীসহ সব পেশার মানুষ। তারা এ বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক লুৎফর রহমান লাড্ডু জানান, সোমবার সকালে তিনি কালীগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে করোনার টিকা গ্রহন করেন। এরপর তার অসুস্থ স্ত্রী ওই টিকা গ্রহণ করতে পারবে কিনা জানতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অফিসে ঢোকামাত্রই ক্ষেপে উঠেন ডা. লুবনা। শুরুতেই অনুমতি না নিয়ে বা কেন ঢুকলেন বলেই শুরু করেন মুখখিস্তি ও গালিগালাজ।

তিনি ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে দাম্ভিকতার সুরে বলেন, ইউএনওর অফিস রুমে ঢুকতে অনুমতি না লাগলেও আমার অফিস রুমে অনুমতি ছাড়া ঢোকা যাবে না। এ সময় ভুক্তভোগি তার বিষয়টি খুলে বলতে গেলে ডা. লুবনা আরো ক্ষেপে বাইরে বের করে দেন তাকে। এরপর তিনি উচ্চস্বরে তার অফিসের ষ্টাফদের হাকডাক দিয়ে বলেন লোকটাকে ধরে আনতে বলেন, এবং তাকে নেশাখোর বলে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দিতে হবে বলে হুংকার দেন। এ নিয়ে জটলা বাঁধায় সেখানে জড়ো হয় হাসপাতালের ষ্টাফসহ স্থানীয় মানুষজন। এরপর ডা. লুবনা হাসপাতাল অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে থাকা লাড্ডুকে আবারো হেনস্থা করতে মুখ খিস্তি শুরু করেন। তিনি বলেন, এই ব্যক্তিকে মাফ চাইতে হবে, নইলে হাসপাতাল থেকে তাকে বের হতে দিবেন না। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে ডা. লুবনা ক্ষ্যান্ত হয়।

পরে ডা. লুবনার এমন দুর্ব্যাবহারের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে উঠেন ক্রীড়াঙ্গনসহ সর্ব্বস্তরের মানুষ। প্রতিবাদের ঝড় উঠে শহরে। তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয় জনগণ। তারা তাৎক্ষণিক বিষয়টির সুষ্ঠু বিচারের জন্য কালীগঞ্জ ক্রীড়া ফেডারেশনের সভাপতি স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার ও কালীগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সূবর্ণা রানী সাহাকে অবহিত করেন।

ডা. শামীমা শিরিন লুবনা মুঠোফোনে জানান, অফিসে এসে কথা বলতে হবে। আমি অফিসে আছি। যেহেতু হাসপাতালে ঘটনা ঘটেছে, তাই এই প্রতিবেদককে হাসপাতালে যেতে বলেন। তিনি জানান, ফোনে এসব বলা যাবে না।

স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার জানান, লাড্ডু ভাইয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অবশ্যই তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে।

ইউএনও সূবর্ণা রানী সাহা জানান, লাড্ডু ভাইয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দূর্ব্যাবহারের ঘটনাটি মোটেও কাম্য নয়। তিনি স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।

এর আগেও কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই কর্মকর্তা সাংবাদিকসহ হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে “করোনায় হোটেলে না থেকেও চিকিৎসকদের বিল ৫৭৬০০’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। করোনা প্রণোদনার ৩ লাখ টাকা হরিলুট হওয়ায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে হৈ চৈ পড়ে যায়। ডা. লুবনা এ টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়