গৃহকর্মী আবিরন হত্যা: সৌদি গৃহকর্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

আগের সংবাদ

দেশে করোনায় মৃত্যু আরও ১১, শনাক্ত ৪৪৬

পরের সংবাদ

করোনা প্রতিরোধী টিকা নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়ার কিছু নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১ , ৩:৪৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১ , ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত করোনা প্রতিরোধী টিকা কর্যক্রম অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটরিয়ামে এই টিকা নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর পর্যাক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ করোনার টিকা নেন।

টিকা নেওয়ার পর তাদের তিন জনকেই ৩০ মিনিট অবজারভেশনে রাখা হয়েছিল। তবে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রীয়া লক্ষণীয় হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়ার পর কোনো ধরণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিকুলতা থেকে আজ আমরা এমন একটা জায়গায় এসেছি যে, আমাদের দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের রেট কমে গেছে। এগুলো সব সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শিতা ও সময় উপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই। বর্তমানে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণের তালিকায় ১৭ তম স্থানে বাংলাদেশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন দেশে প্রথম করোনা ভারইরাসের সংক্রমণ হয়, তখন আমরা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমরা জানতাম না যে কিভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তখন পুলিশের মধ্যে একটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিলো। সেসময় পুলিশ সদস্যরা একের পর এক আক্রান্ত হতে থাকে। এরপর পুলিশ হাসপাতালের সেবার মান করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন একটি জায়গায় আসলো, সবাই বলা শুরু করলো যে সিএসই ও পুলিশ হাসপাতাল একই সমান্তরাল লাইনে চালছিলো। কে প্রথম আর কে দ্বিতীয় তা বলা যায়নি।

তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা ফ্রন্টলাইন এর হিসেবে কাজ করেছে। তারা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কিত হয়নি। পুলিশ নিজেরা আক্রান্ত হলেও দাফনের কাজেও পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এসেছে।

বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদের সঠিক সিদ্ধান্ত পুলিশ সদস্যদের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও পুলিশ সদস্যদের তদারকির মাধ্যমে এই রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল আজ অত্যাধনিকে একটি হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। এবং এই সেবা যারা নিয়েছে তারা সবাই মনে রাখবে। করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার কার্যক্রমেও পুলিশ হাসপাতাল পিছিয়ে নেই।

তিনি বলেন, সরকার প্রধান নির্দেশনা দিয়েছেন কেউ যেন এই টিকা দেয়া থেকে বাদ না পড়ে। পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্যরাই যেন টিকা নেন। শুধু রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালই নয়, দেশের সকল পুলিশ হাসপাতাল ছাড়াও অন্যান্য হাসপাতালে তারা (পুলিশ সদস্যরা) টিকা নিচ্ছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনার টিকা বাংলাদেশে আসবে কি আসবে না অনেকেই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে ছিলেন। কোন বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কাজ হয়নি। সময়মত বাংলাদেশে টিকা এসেছে ও তা জনগণকে দেয়া হচ্ছে। অনেক দেশ এখন পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধী টিকা পায়নি। সারা দেশে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়ার কাজ চলছে। টিকা নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। নির্ভয়ে সবাই টিকা নিতে পারেন। টিকা নিয়ে দেশকে করোনা মুক্ত করুন।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) প্রতিরোধী টিকা (কোভিশিল্ড) দেয়ার জন্য ১৮টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন ৩ হাজার মানুষকে টিকা দেয়া হচ্ছে। পুলিশ সদস্য ছাড়াও সাধারণ জনগণও রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এখানে এসে টিকা নিতে পারছেন।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়