আগামী বিশ্ব পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করবে প্রযুক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

আগের সংবাদ

পুনর্বাসনসহ ১০ দাবিতে হকার ইউনিয়নের সমাবেশ

পরের সংবাদ

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গৃহবধুর আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৭:৩২ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৭:৩২ অপরাহ্ণ

শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক গৃহবধু আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ নম্বর থেকে এ খবর পেয়ে ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের (ওই গৃহবধুর শ্বশুর বাড়ি) বাড়ি থেকে ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করা হয়। গৃহবধুর নাম ফৌজিয়া আকতার রিয়া (২০)। তাঁর শ্বশুর বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামে। স্বামীর নাম আরিফুল ইসলাম। পার্শ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শাহবাজ গ্রামের মো. রিংকু চৌধুরীর মেয়ে।

শনিবার বিকালে ফৌজিয়া আকতারের মামা আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত বছরের ৬ মার্চ পারিবারিকভাবে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ফৌজিয়া আকতারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফৌজিয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করতো।

তিনি আরও জানান, ফৌজিয়ার দাদি অসুস্থ হওয়ায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসেন। পরে ফৌজিয়া তার ফুফু ও চাচিকে সঙ্গে নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে শ্বশুর বাড়িতে যান। ফৌজিয়ার শ্বাশুড়ি ফজিলা বেগম তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিলেও তার ফুপু ও চাচিকে গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফৌজিয়া আকতার জানায়, ওই সময় বাড়িতে তার স্বামী না থাকায় শ্বাশুড়ি তাকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। পরে শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম ও শ্বাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন তাকে বেদম মারপিট করেন। এই নির্যাতন সইতে না পেরে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

ফৌজিয়ার ভাই রিফাত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি। এরপর পুলিশ গিয়ে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শনিবার বিকালে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুরঞ্জন কুমার জানান, গৃহবধূ ফৌজিয়া আকতার নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাই তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে স্বামী আরিফুল ইসলাম ও তার বাবা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার বিকালে সাদুল্লাপুর থানার ওসি মো. মাসুদ রানা জানান, গৃহবধুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়ছে। তবে শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগে পেলে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়