ফের টালমাটাল পুঁজিবাজার!

আগের সংবাদ

ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় হচ্ছে না

পরের সংবাদ

‘গোলাপ গ্রামে’ হাসি নেই

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১ , ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১ , ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ফুলচাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

ভরা মৌসুমেও ফুলচাষিদের মুখে হাসি নেই। পহেলা ফাল্গুন, ভ্যালেন্টাইনস ডে, মহান একুশে ফেব্রুয়ারির মতো দিবসে ফুলের অনেক চাহিদা থাকলেও কোনো আশার আলো দেখছে না ব্যবসায়ীরা। দিবসগুলো নিয়ে কোনো বিশেষ প্রস্তুতিও নেই তাদের। করোনা মহামারির কারণে সামাজিক অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এসব দিবস নিয়ে এবার বাড়তি আয়োজন নেই। এ বছর ফুলের দর ভালো পেলে করোনা ও আম্পানের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন এমন আশায় রয়েছেন ফুলচাষিরা। তবে তা কতখানি সফল হবে সে বিষয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা। এদিকে, জটিল শর্তে ও দুর্নীতির অভিযোগে করোনা মোকাবিলায় সরকারি প্রণোদনার ঋণ পাচ্ছেন না বলে জানান তারা।

গ্রামের নাম বিরুলিয়া। অথচ গত কয়েক বছরে এ নাম ছাপিয়ে সাভারের এ গ্রামটি এখন গোলাপগ্রাম নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে দেশবাসীর কাছে। এ গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, মেঠোপথের ধার আর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের বাহারি গোলাপ। রীতিমতো যত্ন নিয়ে ফসলি মাঠে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয় ফুলের। দেশের গোলাপের চাহিদার বড় অংশই আসে এ গ্রাম থেকে। গোলাপ ছাড়াও হরেক রকমের ফুলের চাষ হচ্ছে এ গ্রামের মাঠে মাঠে।

সাভার উপজেলার সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ৭০০ থেকে ৮০০ হেক্টর জমিতে গোলাপের চাষ হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বিরুলিয়া, মোস্তাপাড়া, সামাইল ও শ্যামপুর এলাকায়। প্রায় চার শতাধিকে চাষি বাণিজ্যিকভাবে এ ফুলের চাষ করে আসছে। ফলন আর চাহিদা ভালো হওয়ায় দিনে দিনে বাড়ছে এ চাষির সংখ্যা। ঢাকাসহ সারাদেশ থেকেই ফুল ব্যবসায়ীরা ভিড় করছেন গোলাপ গ্রাম নামে খ্যাত এই বিরুলিয়ায়।

গোলাপ চাষিরা বলেন, এ বছর ফুলের দাম একটু ভালো। ফুলচাষি মোফাজ্জেল হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, আজ (গতকাল শুক্রবার) অনেক বেশি ক্রেতা এসেছেন ফুল নিতে। প্রায় ১৫০-২০০টি ফুল ভর্তি ট্রাক বাজারে আনা হয়েছে। ৩০০ ফুল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিটি ফুলের দাম পড়ছে ৭-৮ টাকা।

গোলাপের চারা লাগানোর পরে একটু যত্ন নিলে দশ পনেরো বছর গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করা যায় বলে লাভ বেশি। ফুল চাষে রীতিমতো পাল্টে গেছে গ্রামের কৃষকদের জীবনমান। কিন্তু বিপত্তি ঘটেছে গেল বছর থেকে। করোনা মহামারির ধাক্কায় মলিন হয়ে গেছে ফুলের হাসি। পুঁজি হারাতে শুরু করেছে এখানকার ফুলচাষিরা। একই অবস্থা দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। গেল বছর নানা দিবসকে ঘিরে বড় প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি। সম্ভাবনাময় খাত ফুল বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এ খাতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। ফুল চাষকে আরো লাভজনক করে তুলতে সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম।

করোনাকালের ক্ষতি পোষাতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে বিরুলিয়ার ফুলচাষি মোফাজ্জেল হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, কৃষি অফিসার ও সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আমাদের প্রণোদনা প্যাকেজের কথা বলেছিলেন। তারা একলাখ টাকা দিবে, যা বছরে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা ফেরত দিতে হবে। তাদের কথা অনুযায়ী, আমরা ২০০ জন চাষি একত্রে জড়ো হয়েছিলাম। আমার মতো অনেক চাষিদের ইচ্ছা ছিল, এ টাকা পেলে আমাদের খালি জায়গাগুলোতে ফুল চাষ করব। কিন্তু ব্যাংকে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে জানানো হয়, জমির আসল দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কিছু কাগজপত্র লাগবে। এছাড়া তাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। অর্থাৎ আমাকে ব্যাংক দিবে ৯০ হাজার টাকা, কিন্তু বছর শেষে ফেরত দিতে হবে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা। ১৪ হাজার টাকা বাড়তি দিয়ে এত ঝামেলা করে ব্যাংক থেকে প্রণোদনা নেয়ার চেয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে সুদে বছরে ১৮ হাজার টাকা নিলে সমস্যা কোথায়? এখানে কোনো দলিল লাগে না। ফলে এ এলাকার কেউ প্রণোদনা নেয়নি।

সাভারের গোলাপগ্রাম ঘুরে জানা গেছে, করোনা মহামারি আর বন্যার ছোবলে গোলাপ চাষিরা ভালো নেই। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোজ্জামেল হক জানান, এলাকার ৯৫ শতাংশই বর্গাচাষি। কোভিডের সময় ১০০ জন চাষির কাগজপত্র সোনালি ও কৃষি ব্যাংকে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার জানা মতে, কেউ ঋণ পাননি।

প্রসঙ্গত, বিরুলিয়ার সাতটি গ্রামে ২৫০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষে সম্পৃক্ত অন্তত ৯০০ চাষি। তাদের ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কৃষি কর্মকতা মো. মোজ্জামেল হক বলেন, প্রতি হেক্টরে সাত বিঘা জমি আর প্রতি বিঘা জমিতে বছরে ৪ লাখ ফুল হয়। ১ টাকা করে ফুল হলেও ৭০ কোটি টাকা এই এলাকার ফুল চাষিরা বছরে আয় করে। কিন্তু করোনার কারণে তা একেবারেই বন্ধ ছিল।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়