আদালতে বিয়ে, অতঃপর ধর্ষণ মামলার আসামির জামিন

আগের সংবাদ

বাংলাদেশ বিদ্যুতের সুষম বন্টন নিশ্চিত করতে চায়: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

পরের সংবাদ

রাজস্ব আহরণে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন করদাতারা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ , ৫:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ , ৫:৩৫ অপরাহ্ণ

রাজস্ব প্রদানে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর বাছাই করা হয় সেরা করদাতা। এবারও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন ক্যাটগরিতে সারাদেশের ১৪১ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সেরা করদাতার পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিপর্যায়ে ৭৬ জনকে, কোম্পানি পর্যায়ে ৫৩টি ও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ১২টি ট্যাক্সকার্ড দেওয়া হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে করদাতাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুনিম। জাতীয় ট্যাক্স কার্ড নীতিমালা-২০১০ (সংশোধিত) এর বিধান অনুযায়ী এই ট্যাক্সকার্ড দেয়া হল।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সেরা করদাতাদের হাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ট্যাক্স কার্ড তুলে দেয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং সভাপতি হিসেবে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এছাড়া এনবিআরের ঊর্ধতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের জনগণ কর দিতে চায়। কিন্তু আমরা সেগুলো নিতে পারি না। সেগুলো আমাদের নিতে হবে। আমরা ইনডিরেক্ট ট্যাক্সের তুলনায় ডিরেক্ট ট্যাক্স বেশি পাচ্ছি। ট্যাক্স আরও বেশি পাওয়ার জন্য আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের কর আদায় ব্যবস্থা আরও সহজ করতে হবে। আমরা এমনটা চাইছি যেন সবাই অনলাইনের মাধ্যমেই তাদের কর দিতে পারে। ডিজিটাল সিস্টেমে গেলে আমরা কর আরো বেশি পাব। আগে একটা রাস্তা-পুল-কালভার্ট করতে গেলে আমাদের বিদেশি অনুদানের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। কিন্তু এখন আমরা নিজেদের টাকায় দেশের উন্নয়ন করছি। দেশের মানুষ চাইলে পারে না, এমন কিছু নেই। অনেকেই বলছেন আমাদের রেভিনিউ আদায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের তুলনায় নিচে পড়ে আছে। আমরা মনে করি এটা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, ট্যাক্স যদি বেশি থাকে তাহলে রেভিনিউটা সেভাবে আদায় হবে না। আপনারা আশেপাশের দেশগুলো দেখেন, সেটা দেখে ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমি ওদের চাইতে বেশি নিতে চাই না, আবার কমও নিতে চাই না। রেট কমালে ট্যাক্স বাড়বে। আমরা রেভিনিউটা ব্যবসায়ী বান্ধব হিসেবে দেখতে চাই। ট্যাক্স নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যে ভয়-ভীতি ছিল তা এখন আর নেই। এখন আমরা সিস্টেমেটিকভাবে এগোতে চাই।

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে আয়করের পরিমাণ ৭৩ হাজার ৪২০ কোটি টাকা, যা মোট আহরিত রাজস্বের ৩৪ ভাগ। চলতি অর্থবছরে সরকারের ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে আয়করের পরিমাণ ১ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আমরা দেখতে পাচ্ছি জনগণের মধ্যে কর দেওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। এ জন্য কর পরিশোধ সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ করা হয়েছে। এ বছর এনবিআরের সহযোগিতায় এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে আমি আশা করি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে একই স্থানে অতিরিক্ত লোক সমাগম পরিহার করে ট্যাক্সকার্ড প্রদান ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ট্র্যাক্সকার্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৫ জন করে মোট ১০ জন উপস্থিত ছিলেন। কোম্পানি পর্যায়ে গ্রামীণ ফোন লিমিটেড, শেখ আকিজ উদ্দিন লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো লিমিটেড ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক লিমিটেডের পাঁচজন। ব্যক্তি পর্যায়ে ছিলেন- আলহাজ সৈয়দ আবুল হোসেন, রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন, হোসনে আরা হোসেন, লায়লা হোসাইন এবং হাজী মো. কাউস মিয়া। ট্যাক্সকার্ড প্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছেও তাদের সম্মাননা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিপর্যায়ে ট্যাক্সকার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে বিশেষ শ্রেণিতে ক্যাটাগরি রয়েছে পাঁচটি। সেগুলো হলো- সিনিয়র সিটিজেন, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী ও তরুণ ক্যাটাগরি। এছাড়া আয়ের উৎস বা পেশার মধ্যে ক্যাট্যাগরি রয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে আছে- ব্যবসায়ী, বেতনভোগী, ডাক্তার, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, হিসাববিদ, নতুন করদাতা, খেলোয়াড়, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী (গায়ক-গায়িকা) ও অন্যান্য। ট্যাক্সকার্ড পাওয়া ব্যক্তি করদাতা, কোম্পানি বা অন্যান্য শ্রেণির করদাতারা ট্যাক্স কার্ডধারী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। যেকোনো ভ্রমণে বিমান, রেল ও জলপথে সরকারি যানবাহনে টিকিটপ্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন। ট্যাক্স কার্ডধারীর স্ত্রী-স্বামী, নির্ভরশীল ছেলেমেয়ে ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন। বিমানবন্দরে সিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। তারকা হোটেলসহ সব আবাসিক হোটেলে বুকিং প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়