তোমার জন্যে

আগের সংবাদ

সফল প্রেমের কবি রফিক আজাদ

পরের সংবাদ

ভ্যাকসিন গ্রহণ সমাধান নয়, মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

পৃথিবী এক অদৃশ্য শক্তির কাছে মস্তক অবনত করেছে। গত একশ বছরে পৃথিবী এমন ভয়াবহতা দেখেনি। ২০১৯ সালের শেষের দিকে হঠাৎ করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ নামে একটি ভাইরাসের খবর জানল বিশ্ববাসী। খুব দ্রুত পৃথিবীব্যাপী এই নামে ভাইরাসটি যেমন পরিচিতি লাভ করল তেমনি নিজের বিস্তার অব্যাহত রাখল। প্রতিদিন বিভিন্ন নিত্য-নতুন দেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়া শুরু হলো। এই অদৃশ্য ভয়ঙ্কর মহাশত্রু র ভয়ে যে দেশ যেমনভাবে পারে ভাইরাসের বিস্তার রোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করল। দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হলো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হলো। একটি অজানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে গোটা পৃথিবী থমকে দাঁড়াল। বিশ্বব্যাপী আমাদের দেশসহ বিভিন্ন দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র সবার সামনে দিবা-রাত্রির মতো পরিষ্কার হয়ে গেল।

বিশ পেরিয়ে একুশের দেখা পেল বিশ্ববাসী। ২০২১ সালকে করোনা প্রতিরোধক ভ্যাকসিন বা টিকা আসার কারণে আশীর্বাদ মনে করল। তবে কিছু কিছু দেশে এই প্রতিযোগিতার বাজারে ডিসেম্বরে টিকা প্রদান শুরু হলো। করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর পরেই বিশ্ব এক নোংরা ভ্যাকসিন রাজনীতি দেখল। অনেক দেশ বা প্রতিষ্ঠান জননিরাপত্তার চেয়ে ব্যবসায়ী মনোভাব নিয়ে, কে কার আগে টিকা বাজারে নিয়ে আসতে পারে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করল। বৈশ্বিকভাবে ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে নেমে পড়ল প্রায় ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, তাদের তালিকায় প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে ১৫৪টি ভ্যাকসিন। এছাড়া ফেস-ওয়ানে ছোট আকারে নিরাপত্তা নিয়ে ট্রায়ালে রয়েছে ২১টি ভ্যাকসিন। ফেস টুতে নিরাপত্তা ট্রায়ালে রয়েছে ১২টি এবং ফেস থ্রিতে বিস্তারিত পরীক্ষা এবং কার্যকারিতার ট্রায়ালে রয়েছে আরো ১১টি ভ্যাকসিন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভাইরাসের টিকা কোভিশিল্ড দেয়া হচ্ছে। গত রবিবার এই প্রতিষেধক দেয়া শুরু হয়েছে। সারাদেশে একযোগে ১ হাজার ৫ কেন্দ্রে ২ হাজার ৪০০ স্বাস্থ্যকর্মীর দল এই কাজে নিয়োজিত আছেন। টিকা নিয়ে প্রথমদিকে সংশয় থাকলেও আস্তে আস্তে টিকা গ্রহণে জনসাধারণের আগ্রহ বাড়ছে। টিকা গ্রহণের আগ্রহ বাড়লেও সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি যেন একবারে মানতে চাচ্ছে না মানুষ।

করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়ে অনেকেই নিজেকে শক্তিশালী ভাবছেন। তবে সংখ্যায় কম হলেও সারাদেশে ভ্যাকসিন গ্রহণ করার পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০৭ জন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অ্যাডভান্স ইভেন্ট ফলোইং ইমিউনাইজেশন বা (আইএফআই) এর কারণে। করোনার টিকা গ্রহণ করার ফলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এই সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছিল অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সব মানুষের মধ্যে দেখা দেবে না। যারা আগে থেকেই দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগছেন তাদেরই টিকা গ্রহণ করার পরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, একবার টিকা নিলে কতদিন সুরক্ষিত থাকা যাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো টিকাই শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারে না। আর একবার টিকা নিলে কতদিন সুরক্ষা মিলবে সেটি এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আর তাই এখনো পরামর্শ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, টিকা নিলেও যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীনতা সব সময় লক্ষ্য করা গেছে। বহির্বিশ্বে যেভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে টিকা প্রদান করা হচ্ছে বাংলাদেশে সে নিয়ম একবারে মানা হচ্ছে না। কোনো ভিআইপি যদি ভ্যাকসিন গ্রহণ করে তার আশপাশ জুড়ে শত মানুষের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। অথচ করোনা ভাইরাস একে অপরের সংস্পর্শ থেকে একমাত্র ছড়াতে পারে। তাই টিকা গ্রহণ করার পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে গাইডলাইন তা মানতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি ও সচেতন থাকার কোনো বিকল্প নেই। তাই বারবার বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতাই করোনার কার্যকর ভ্যাকসিন। তাই দেশের সব মানুষের কাছে আহ্বান থাকবে শুধু টিকা গ্রহণ করেই নিজেকে নিরাপদ না ভেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার।
শিক্ষার্থী : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়