নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

পঞ্চগড়ে ৬ ইট ভাটাকে ৩১ লক্ষ টাকা জরিমানা

পরের সংবাদ

মৃধা আলাউদ্দিনের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ

প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ , ৮:৪০ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ , ৮:৪০ অপরাহ্ণ

জীবন, যুদ্ধ, যাপিত প্রেম, বিষণ্নতা ইত্যাদি স্পর্শ করে আছে কবি মৃধা আলাউদ্দিনের মনোজগৎ। সংসার কিংবা বাস্তবতা এড়িয়ে কবি হয়ে উঠেছে তার এই কাব্যগ্রন্থ। তিনি কখনো সত্যকে জীবনে লুকোননি। প্রকাশ করেছেন পয়ারে পয়ারে। বাঁধা ছন্দে নিজেকে বাঁধেননি তিনি।

মৃধা আলাউদ্দিনের তৃতীয় কবিতার বই ‘প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ’। নামের মধ্যেই অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুমেয়। মলাট উল্টালে প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা অবধি একেকটি কবিতা সামনে এসে দাঁড়ায়- নিজস্ব অধিকার নিয়ে। ডিঙ্গিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা থাকলেও চয়ে যাওয়া যায় না। কয়েক লাইন পড়ে বাদ দেয়া যায় না একটি কবিতাও। ‘প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ’- বইটিতে চৌষট্টিটি কবিতা সন্নিবেশিত হয়েছে। চৌষট্টিটি কবিতাই যে সুবিবেচিত গ্রন্থিত তা পাঠোত্তর স্বীকার না করে পারা যায় না। কবিতা যদি বাক্যপরিধি আর বাক্যসংখ্যার ওপর নির্ভর না করে তবে বলা যায়, মৃধা আলাউদ্দিনের ছোট ছোট পরিসরের কবিতাগুলো স্বল্প কথায় বৃহৎ ভাবের এক পরিচ্ছন্ন প্রকাশ। উপমায়, উৎপ্রেক্ষা এবং পরিষ্কার, ঝরঝরে-সুন্দর চিত্রকল্পের ছোঁয়া আছে। আছে একটি নান্দনিক বক্তব্য। বিষয়ের স্বচ্ছতা আছে কয়েক লাইনের ভেতরেই। ‘ফিনিক্স পাখির মতো উড়তে শিখেছি/ আগুন-আকাশ ও নীল দিগন্তে।/এবং আমি আগুনে হাত রেখে দেখেছি/ কিছুই পোড়ে না, হৃদয় ছাড়া. . ./যুদ্ধের ময়দানে আমি অশ্বারোহী আপেল/নরম নদীর মতো ঝাপটে ধরেছি বন্দুকের বাঁট, আগুনের ঢেউ।’- (আগুনের ঢেউ)।
জীবন, যুদ্ধ, যাপিত প্রেম, বিষণ্নতা ইত্যাদি
স্পর্শ করে আছে কবি মৃধা আলাউদ্দিনের মনোজগৎ। সংসার কিংবা বাস্তবতা এড়িয়ে কবি হয়ে উঠেছে তার এই কাব্যগ্রন্থ। তিনি কখনো সত্যকে জীবনে লুকোননি। প্রকাশ করেছেন পয়ারে পয়ারে। বাঁধা ছন্দে নিজেকে বাঁধেননি তিনি। মুক্ত ছন্দে এঁকেছেন কবিতার শরীর, মেজাজ। আপন মনন রসে ধরতে চেয়েছেন প্রচল সত্য আবার দেখতে চেয়েছেন প্রবাহমানতার নিগূঢ়তা। ধরা ও দেখায় তিনি সার্থক হয়ে উঠেছেন। যখন তার কবিতাগুলো ব্যঞ্জনা তৈরি করে পাঠক ভাবনায়, মনে দোলা দিয়ে আন্দোলিত করে কাব্যপ্রেমিক মন। কোথাও কোথাও যদিও মনে হয়েছে কবি একটু তাড়াহুড়ো করে গ্রন্থটি রচনা করেছেন বা প্রকাশ করেছেন। তবে মোটা দাগে তা ব্যাঘাত ঘটায় না পাঠক মনে। কবিতার রসাস্বাদনে ধরাও পড়ে না তেমন। অতলের ঝঙ্কার কাটিয়ে নেয় সামান্য ছায়া। ‘নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা/ উড়ে যায় শীতের পাখি;/ ঘাস-মাটি, হিজল ফুল, ঝরা মেপল পাতা/ রাস্তা পড়ে থাকে রাস্তায়…/নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা/ প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ/ ইলিশ, বেলে, বাইম… সমুদ্র-সাগর/এবং আপেলগুলো বদলে যায়Ñ/নীল ঢেউ, পাখির গুঞ্জন-কাফকার আকাশ/এবং হরিণ হয় কোনো কোনো আপেল…’- (প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ)।
মৃধা আলাউদ্দিনকে পাঠ করে আনন্দ এই, তার কবিতায় নেই সেই ঘোর-প্যাঁচ- যা পাঠকের বোধকে দ্বিধায় ফেলে তিক্ততায় ভরিয়ে তোলে সর্বাঙ্গ কবিতা থেকে বিমুখ করিয়ে দেয়। মৃধার কবিতা, গ্রন্থের বাহিরেও বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠের জ্ঞান থেকে বলছি, তার কবিতা প্রতারণা করে না। সুন্দর মলাটের আকর্ষণে মনগড়া হাবিজাবি পড়তে বাধ্য করে না ও কবিতার সাথে তিনি অসততা করেননি কখনো। আর এর জন্যই তাকে পাঠে তৃপ্তি আসে। ‘প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ’ গ্রন্থটির কবিতাগুলো কবিতার চেয়েও কী যেন একটা প্রকাশ করে। কী যেন একটা বলতে চায় তার ভাষা। ভাষার ব্যবহার, শব্দের গাঁথুনি মাত্র দুই লাইনের কোনো কোনো কবিতাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। দর্শনও উপস্থাপিত হয়েছে কোনো কোনো কথায়। ‘বিধাতা এমন করেই আমাকে নির্মাণ করেছেন-/ তোমার ঘুম ভাঙলে, ভাঙে আমারও ঘুম।’- (সংযোগ)। আরেকটি কবিতা, ‘আমারে জড়াও বাহুযুগলে/উর্বর করো ভূমি-/চাষির কর্ষণ ছাড়া দেশ সুজলা, সুফলা হয় না।’-
(চাষি)।
জীবন ও জাগতিকতাকে আবিষ্কার করতে গিয়ে মৃধা আলাউদ্দিন তার কাব্যগ্রন্থটিতে বিচিত্র কৌশল অবলম্বন করেছেন। একটি কবিতা থেকে আরেকটি কবিতাতে যেতে রূপ বদলিয়েছেন, রঙের ব্যবহার বদলিয়েছেন, অল্পবিস্তর দেখার অভিজ্ঞতাকে প্রজ্ঞায় হাজির করেছেন কবিতায়। মৃধা যা দেখেছেন, যা বুঝেছেন তার জীবদ্দশায় পৃথিবীর দিকে প্রগাঢ় তাকিয়ে তাই চোখের গহিন গাঙ থেকে তুলে এনে তুলিতে এঁকেছেন তার কর্মের নাম কবিতা। হাঁটতে হাঁটতে নয়, বেড়াতে যাবার পথে বা বিশ্রামে নয়, এক ধ্যানে কবিতার মাঝে ডুব দিলে অদেখা এক দেখা ভেসে ওঠে ‘প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ’-এর শরীর থেকে। আপাত সহজ মনে হলেও অধিকাংশ কবিতায় একটা দর্শন, একটা অভিজ্ঞান, একটা মতপ্রকাশ করেছেন এই কবি। কিছু একটা বলতে চেয়েছেন। দেখাতে চেয়েছেন। আঁকতে চেয়েছেন। যে চেষ্টাটা কবি মাত্রই করে থাকেন কিন্তু সবাই পেরে ওঠেন না। মৃধা তা পেরেছেন কবিতার প্রতি তার একগ্রতার কারণে। শেষাংশে বলা যায়, মৃধা যে দায় হাতে তুলে নিয়েছেন ও কর্তব্য পালন করছেন কবিতায় তা একদিন তাকে শিল্পসম্মত কবির উপমা থেকে দূরে রাখবে না। পাঠকই তার কবিতা খুঁজে নেবে কবিতার আকর্ষণে। পোড় খাওয়া, যন্ত্রণাকাতর, অর্ধেক জবেহ হওয়া কবি মৃধা আলাউদ্দিন ও তার ‘প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ’ গ্রন্থটির জন্য নিত্য শুভকামনা করছি। সব ঠিক থাকলে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২১ শে গ্রন্থটি প্রকাশ পাওয়া যাবে ‘স্টুডেন্ট ওয়েজ’ পাবলিকেশন থেকে। এর মূল্যমান রাখা হয়েছে ২০০ টাকা। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছেন- ‘নির্ঝর নৈঃশব্দ্য। মৃধা এই কাব্যগ্রন্থটি আপনার সংগ্রহকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা বইটির সাফল্য কামনা করছি।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়