অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে সোভিতোলিনা

আগের সংবাদ

প্রশ্নপত্র ফাঁসে আরও ৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ

পরের সংবাদ

দীপন হত্যা

দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ , ১০:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ , ১০:১৫ অপরাহ্ণ

এটা খুবই স্বস্তির বিষয় যে, প্রায় ৬ বছর পর জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও বøগার ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার রায় হয়েছে গত বুধবার। মামলার আট আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দীপনের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। এ রায় কার্যকর হলে ভবিষ্যতে কেউ এ রকম নৃশংস কাজ করার সাহস পাবে না। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীর অফিস থেকে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনের (৪০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার ঘাড় ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। দীপনকে হত্যার দিনই দুপুরে রাজধানীর লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে হামলায় আহত হন প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল (৫০), লেখক এবং বøগার প্রকৌশলী তারেক রহিম (৪২) ও রন দীপম বসু (৪০)। তারা প্রাণে বেঁচে যান। দেশে লেখক, প্রকাশক, বøগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর হামলার ঘটনা শুরু ২০০৪ সালে। ওই বছরের ২৭ ফেব্রæয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে ১২ আগস্ট তিনি মারা যান। ২০১৫ সাল ছিল বিভীষিকাময়। ওই বছর ২৬ ফেব্রæয়ারি লেখক অভিজিৎ রায়কে টিএসসি এলাকায় কুপিয়ে হত্যার পর একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটে চাপাতি হামলায়। ওই বছর অন্তত ২২ জনকে হত্যা করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে নব্য জেএমবি, আনসার আল ইসলামসহ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নাম আসে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ধ্বংস করে দেয়াই ছিল দীপন হত্যা মামলার আসামিদের একমাত্র উদ্দেশ্য। ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করার কারণে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ও প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের এই সদস্যদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ব্লগার, লেখক, প্রকাশকদের হত্যা করে মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেয়া। মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা। আমরা দ্রæত ঘাতকদের শাস্তি দেখতে চাই। এর বাইরে ওই ঘটনায় যারা পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে এ রকম অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দাবি। আমরা আশা করব, দীপন হত্যাসহ সব ব্লগার হত্যার রায় যাতে দ্রুত নিষ্পন্ন হয় তার জন্য সচেষ্ট থাকবেন সংশ্লিষ্টরা। দীপনদের মতো নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি যাতে এ দেশে আর কোনোভাবেই ঘটতে না পারে তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে আমাদের।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়