বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা হোক সর্বত্র

আগের সংবাদ

আদালতে ক্ষমা চাইলেন সালমান

পরের সংবাদ

সমাজ বিনির্মাণে শিষ্টাচারের প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ , ১১:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ , ১১:০৭ অপরাহ্ণ

মানব জীবনে শিষ্টাচারের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজ গঠনে বা ব্যক্তি গঠনে যার প্রয়োজনীয়তা অতুলনীয়। আমাদের সমাজে বহু মানুষের বসবাস। ছোট-বড়, ধনী-গরিব, সুন্দর-অসুন্দর, ভালো-খারাপ। এসব মিলিয়ে আমাদের সমাজ। আর একটি সমৃদ্ধশীল সমাজ গঠনের জন্য জরুরি সঠিক শিষ্টাচার শিক্ষা। কোনো জাতি সুসভ্য মানুষরূপে গড়ে ওঠার জন্য শিষ্টাচার অতি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আমাদের অশান্ত ও উচ্ছৃঙ্খল সমাজে শান্তি আনতে হলে সমাজের মানুষদের শিষ্টাচারসম্পন্ন হতে হবে। কারণ শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে নিজেকে জড়ায় না, কারো সঙ্গে শত্রুতা করে না বা কারো স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করে না। শিষ্টাচার হচ্ছে ভদ্র, মার্জিত ও রুচিসম্মত আচরণ। একজন মানুষ ভালো না মন্দ তা বিবেচিত হয় মূলত সে ব্যক্তির আচরণ দেখেই। শিষ্টাচার মানুষকে সংযমী ও বিনয়ী করে তোলে। শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তি তার ভদ্র ও সংযত ব্যবহার দিয়ে যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কোনো পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে। শিষ্টাচারসম্পন্ন মানুষকে সবাই শ্রদ্ধা করে। তাদের স্থান সমাজের উঁচু স্তরে। হোক সে ব্যক্তি অসুন্দর কিংবা গরিব। একমাত্র শিষ্টাচারই মানুষকে প্রকৃত মর্যাদায় ভূষিত করে।

পৃথিবীতে যারা মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তারা কেবল শিষ্টাচার ও নম্র-ভদ্র ব্যবহারের মাধ্যমেই মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। প্রত্যেক ধর্মে শিষ্টাচারের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মহানবী (স.) ছিলেন শিষ্টাচারের মূর্ত প্রতীক। উন্নত ব্যবহারের জন্য তিনি ছোট-বড় সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। সংযম, বিনয়, ভদ্রতা তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কখনো তিনি কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি, ঔদ্ধত আচরণ করেননি। এ কারণেই যুগে যুগে মানুষের কাছে তিনি এত শ্রদ্ধার পাত্র। এক দার্শনিক তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘আকল (বুদ্ধি) ছাড়া যেমন আদব হয় না; তেমনি আদব ছাড়াও বুদ্ধিমান হয় না।’ অর্থাৎ একটি আরেকটির পরিপূরক।
শিষ্টাচার হঠাৎ করে কারো মধ্যে গড়ে উঠে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রস্তুতি পর্ব। শিষ্টাচারের বীজ মূলত বপন হয় শিশুকালেই। আর এ ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা প্রধান। শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। পরিবারের বড়রা যে রকম ব্যবহার করে শিশুরা তাই অনুকরণ করে। বাল্যকালে শিশুদের সংযম, বিনয় ও উন্নত রুচির চর্চা ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে শিষ্টাচার গড়ে তোলে।

যে ব্যক্তি শিষ্টাচার অর্জন করতে পারে না, তার মানুষ হয়ে জন্মানোর কোনো সার্থকতা নেই। শিষ্টাচারহীন মানুষ কেবল আকৃতির দিক থেকেই মানুষ, তাদের মনুষ্যত্বের কোনো বিকাশ ঘটে না। ফলে তারা সমাজের চোখে হয়ে থাকে ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ সাদৃশ্য। সমাজ এদের কোনো মর্যাদায় ভূষিত করে না, কুরুচিপূর্ণ এসব মানুষকে ফেলে রাখে আঁস্তাকুড়ে। সমাজে শিষ্টাচারের অভাব নৈতিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। সমাজজীবন হয়ে ওঠে অশান্তিপূর্ণ। নানা কদর্যতা, অন্যায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ফলে সমাজে বসবাসকারী মানুষরা ভোগে অস্তিত্বের সংকটে। শিষ্টাচারহীনতা একটি দেশ ও জাতির উন্নয়নের অন্তরায়। আমাদের সমাজে বর্তমানে একটি চিত্র ফুটে ওঠে, আর সেটি হচ্ছে শিষ্টাচারের অভাব। আর সেটা বেশি উপলব্ধি করা যায় কতিপয় কিছু তরুণ কিশোরের মাঝে। কারণ তাদের যদি কোনো কাজে বাধ্য করা হয় তাহলে তারা সেটি করতে অনীহা প্রকাশ করে। তারা অন্যকে দেখে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে পছন্দ করে।

বড়দের তিরস্কার করার জন্য উপায় খুঁজে। অথচ আজকের তরুণরাই দেশের সম্পদ। কিন্তু তাদের এমন আচরণ সত্যিই হতাশাজনক। তাই পরিশেষে বলতে চাই, শিষ্টাচার ও নম্র-ভদ্র ব্যবহারের শিক্ষা দেয়া হোক ছোটকাল থেকেই। আর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে পরিবার। পরিবারের মাধ্যমেই প্রতিটি শিশু শিষ্টাচারসম্পন্ন হয়ে জীবন অতিবাহিত করুক। ফিরে আসুক সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা। আর দূরীভূত হোক মানুষের মধ্যকার কলহ। শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তির আবেদন সমাজের সব মানুষের কাছেই চিরস্থায়ী। হোক সে ব্যক্তি গরিব কিংবা দেখতে অসুন্দর। তাই শিষ্টাচারসম্পন্ন জীবন গড়ি, আলোকিত সমাজ গড়ি।

শিক্ষার্থী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।
[email protected]

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়