করোনায় আরও ১০ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৮৮

আগের সংবাদ

ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলায় বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

পরের সংবাদ

বিয়ের ফাঁদে ফেলে মোহরানা আদায়ই এ নারীর কাজ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ , ৫:৫৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ , ৫:৫৭ অপরাহ্ণ

প্রেমের জালে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে টাকা হাতিয়ে নেয়া পুরনো কৌশল হলেও এবার বিয়ে করে মোটা মোহরানা আদায়ের ফাঁদে ফেলে প্রতারনা করে আসছে একটি চক্র। এ ঘটনায় একজন নারী ছাড়াও তার সহযোগী কাজি ও যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- লিনা মাহমুদা (৪২), কাজি হাবিবুর রহমান (৪০) ও সহযোগী মো. মমিনুল ইসলাম মনির (৩৪)। এ চক্রের হোতাসহ আরো দুজন পলাতক রয়েছে। তাদেরকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল ভোরের কাগজকে এসব তথ্য জানান।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ি চুড়ি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিমের সহকারী কমিশনার বায়েজিদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ চক্রের হোতা রাজীব (২৯)। সে মূলত প্রতারণার মূল পরিকল্পনা করে। সাধারণত তারা মোটামুটি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে থাকে। তিনি আরো বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী লিনা টার্গেটের সঙ্গে নানা কৌশলে পরিচিত হয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ট হয়ে ছবি ধারণ করে। এক পর্যায়ে ওই নারী ভিকটিমকে তার বাসায়ও নিয়ে যায়। সেখানে তাদের কথা-বার্তা চলাকালীন সময় আগে থেকেই অন্য কক্ষে ওৎ পেতে থাকা রাজিব এসে অবৈধকর্মকাণ্ড হচ্ছে বলে চিৎকার শুরু করে। এর কিছু পরেই ভূয়া পলিশ সেজে সেখানে প্রবেশ করে সিয়াম (৩২) নামে আরো একজন। পরে লিনাও তাদের কাছে ভিকটিম সেজে টার্গেটের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে জানায়। পরে তারা বিয়ের চাপ দিতে থাকে ও কাজি ডেকে জোর করে অনেক টাকা মোহরানায় বিয়ে দেয়। পরে ঘনিষ্ট হওয়া ছবি দিয়ে মামলা ও নানা ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তালাক দিয়ে মোটা অংকের মোহরানার টাকা আদায় করে ভিকটিমের কাছ থেকে।

উপকমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, এরকম দুজন ভিকটিমকে আমরা পেয়েছি। মো. ফাইয়াজ নামে একজন মুরগী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬৫ হাজার নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করেছিল চক্রটি। এর মধ্যেই তারা ধরা পড়ে আমাদের হাতে। গত ২০১৭ সাল থেকে তারা এ ধরণের প্রতারণা করে আসছিল। আমরা ধারণা করছি, প্রায় দুই ডজনের বেশী এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। এ চক্রের হোতা রাজীব ছাড়াও সিয়াম পলাতক রয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা রিমান্ডের আবেন করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করছি। তিনি অনুরোধ জানিয়ে আরো বলেন, আসলে প্রতারণা থেকে সাবধাণতার কোন বিকল্প নেই। তার পরেও এসব ঘটনায় অনেকেই পুলিশকে অবহিত করতে চায়না। তাই আমাদের অনুরোধ থাকবে কিছু ঘটলে আমাদের জানান। আমরা আপনাদের পাশে আছি।

আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়