প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড যৌক্তিক দাবি

আগের সংবাদ

সমাজ বিনির্মাণে শিষ্টাচারের প্রয়োজনীয়তা

পরের সংবাদ

বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা হোক সর্বত্র

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ , ১১:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ , ১১:০৩ অপরাহ্ণ

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তান, আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের ভাষা বাংলা হলেও বিশ্বব্যাপী ভাষার আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি ছিল না। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। পাকিস্তান সরকারের এই ঘোষণার পর ক্ষোভ তৈরি হয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে, মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্ত। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বাংলা তথা ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ছাত্র এবং অনেক রাজনৈতিক কর্মীসহ সাধারণ নাগরিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করলে নিহত হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ আরো অনেকে, একাধিকজন আহত হন। ২২ ফেব্রুয়ারি শফিউর রহমান শফিক, রিকশাচালক আউয়াল এবং এক কিশোর নিহত হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতাল পালন করা হয়। পাকিস্তান পুলিশের নির্মম হত্যাকা- ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মুসলিম লীগ সংসদীয় দল থেকে একই দিনে পদত্যাগ করে। ছাত্রদের দ্বারা তৈরিকৃত শহীদ মিনার ২৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। একুশে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া আন্দোলন চলমান থাকার ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গৃহীত হয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হলে ২১৪নং অনুচ্ছেদে বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকদের মাতৃভাষা হয় বাংলা। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংগঠন ইউনেস্কো কর্তৃক বাংলা ভাষা আন্দোলন ও বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান জানিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ‘এখন থেকে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে জাতিসংঘ’ এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে।

১৯৫২ সালে সালাম, বরকত, জব্বারদের তাজা রক্তের বিনিময়ে যে ভাষা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে আজ ইতিহাস না জানা এবং ইতিহাসকে তোয়াক্কা না করা প্রজন্ম বাংলা ভাষার বিকৃতিকরণসহ বাংলা-ইংরেজির মিশ্রণে কথা বলার অশুভ প্রচেষ্টায় লিপ্ত। এছাড়া অনলাইন, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, সাইনবোর্ডে ভুল বানানে বাংলা লেখা হয়, শুদ্ধ বাংলা বানান আড়ালে থেকে যায়। বানান জানা মানুষ ভুল করে ফেললেও সংশোধন করে নেয় পরবর্তীতে। কিন্তু যারা শুদ্ধ বাংলা বানান সম্পর্কে অবগত নয়, তাদের ভুল সংশোধন হয় না। তাদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হয় বাংলা ভাষা। বাংলার বিকৃত উচ্চারণ কিংবা অশুদ্ধ বানানে লেখে যারা তাদের শুধু পাঠ্যবইয়ে প্রদত্ত শিক্ষার মাধ্যমেই নয়, বাংলা ভাষার প্রতি নিবেদিতপ্রাণ সব মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং শুদ্ধ বাংলা বলতে ও লিখতে আগ্রহী করে তোলার প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষার্থী, বিজেম
কাঁটাবন, ঢাকা।
[email protected]

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়