মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান ও এর ভবিষ্যৎ

আগের সংবাদ

বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা হোক সর্বত্র

পরের সংবাদ

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড যৌক্তিক দাবি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ , ১১:০০ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ , ১১:০০ অপরাহ্ণ

শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। অতি যতেœর সঙ্গে একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। অথচ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, যা দিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩তম গ্রেড ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা এখনো তা পাননি। আগে সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল পুরুষদের স্নাতক এবং নারীদের এসএসসি। কিন্তু নতুন নতুন নীতিমালায় সহকারী শিক্ষকদের নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক করা হয়েছে। স্নাতক পাসে যোগ্যতা অনুযায়ী দ্বিতীয় শ্রেণির ১০ম গ্রেডে পাওয়ার যোগ্য। অথচ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সহকারী শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। নিম্নমানের বেতন-ভাতার কারণে উচ্চ শিক্ষিতরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চান না।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষকদের ভিআইপি মর্যাদা দেয়া হয় অথচ বাংলাদেশের শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। আর একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী থেকে দেশ ভালো কিছু আশা করতে পারে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু শিক্ষকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরছে না।

প্রাথমিকের একজন প্রধান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি সব প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। অথচ তাদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়া হয়।

মাধ্যমিকের একজন সিনিয়র শিক্ষক ৯ম গ্রেডে বেতন পান আর প্রধান শিক্ষক ৭ম গ্রেডে বেতন পান। অথচ প্রাথমিক শিক্ষকদের বেলায় ঠনঠন। ঘরে খাবার না থাকলে সম্মান ধুয়ে পানি পান করলে দিন চলবে না।

আজকাল একজন শিক্ষিত মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের বিয়ে করতে চান না এটা ভেবে যে, একজন শিক্ষক এই সামান্য বেতনে সংসার চালাবেন কীভাবে! শিক্ষকতা সম্মানের পেশা কিন্তু তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী।

এ অভিশাপ থেকে প্রাথমিকের শিক্ষকরা মুক্তি চান। যোগ্যতা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড, প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেড, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ৮ম এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের ৭ম গ্রেডে বেতন দেয়া উচিত।

মানসম্মত শিক্ষা পেতে হলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে। যোগ্যতার মাপকাঠি সব স্তরে সঠিক রাখতে হবে, তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।

তাই প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে বেতন প্রদানের প দক্ষেপ গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সহকারী শিক্ষক, মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল।

[email protected]

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়