অলিম্পিক লিঁও

আগের সংবাদ

রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে ভালবাসা হারাতে চাই না

পরের সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চোখ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১ , ১২:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১ , ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

করোনার কারণে গত বছর কয়েকটি গ্রান্ড স্লাম টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়নি। বিশ্বের যখন এই মহামারি প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে তার ঠিক আগেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শেষ হয়। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে এবারের ১০৯তম আসর। যা মূলত ১৮-৩১ জানুয়ারি মাঠে গড়ানোর কথা ছিল। করোনার কারণে সম্ভাব্য সেই তারিখটি পিছিয়ে গিয়ে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। চলমান এই আসরের মধ্যই চলুন জেনে নেয়া যাক এই গ্রান্ড স্লামের আদ্যোপান্ত।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯০৫ সালে। প্রথম মৌসুমে এর নাম ছিল অস্ট্রেলেশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। তখন খেলা হতো অ্যামেচার পর্যায়ে। ১৯২৭ সালে নাম পরিবর্তন হয়ে এটি হয় অস্ট্রেলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। ১৯৬৯ সালে নতুন নাম দেয়া হয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। সেই থেকে অ্যামেচার পর্যায় বাদ দিয়ে শুরু হয় উন্মুক্ত যুগ। তার আগে দুই বিশ্বযুদ্ধের কারণে কয়েকবার এর আয়োজন বাতিল করা হয়েছিল। এর মধ্য ১৯১৬ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে আসর বসেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বন্ধ ছিল ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পুরুষ এককে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ। গত বছর অস্ট্রিয়ান তারকা ডমিনিক থিয়েমকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। এবারের আসরে এই দুজনই আছেন। যেখানে জোকোভিচের সিড সবার শীর্ষে, থিয়েম আছেন তিন নম্বরে। স্প্যানিশ টেনিস গ্রেট রাফায়েল নাদাল জোকোভিচের পরের সিডটিই দখলে রেখেছেন। সময়ের সেরা চার টেনিসারের মধ্য টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সুইজাল্যান্ডের রজার ফেদেরার। ইনজুরির কারণে আগেই খেলা অনিশ্চিত ছিল ইংল্যান্ডের অ্যান্ডি মারের।

নারীদের বিভাগে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আমেরিকার সোফিয়া কেনিন। ২০২০ সালে স্পেনের গার্বেইন মুগুরোজাকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লামের স্বাদ নেন তিনি। এই দুজন এবারের আসরেও খেলছেন। তবে তাদের কেউই সিডের দিক থেকে শীর্ষে নেই।

সোফিয়া কেনিন রয়েছেন সর্বোচ্চ চারে। মুগুরোজার অবস্থান ১৩ নম্বরে। ২০১৮ সালে ইউএস ওপেনের শিরোপা জেতা অস্ট্রেলিয়ান টেনিস সুন্দরী অ্যাশলে বার্টি রয়েছেন সবার উপরে। তার পরেই স্থান রোমানিয়ার দুইবারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী সিমোনা হালেপের। উল্লেখযোগ্য নারী টেনিসারদের মধ্য এবার ইনজুরির কারণে খেলছেন না নেদারল্যান্ডসের কিকি বার্টেনস ও আমেরিকার ম্যাডিসন কেয়াস।

এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রাইজমানি রাখা হয়েছে ৮ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার। যা অন্য টুর্নামেন্টগুলোর তুলনায় ১২.৭ শতাংশ বেড়েছে। তার মধ্য পুরুষ ও নারীদের একক খেলায় বিজয়ীরা পাবেন ২৭ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার করে। বাকিদের মধ্য ফাইনালিস্টরা ১৫ লাখ ও সেমিফাইনালিস্টরা ৮ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার করে প্রাইজমানি পাবেন। দ্বৈথ খেলায় বিজয়ীরা ৬ লাখ, ফাইনালিস্টরা ৩ লাখ ৪০ হাজার ও সেমিফাইনালিস্টরা ২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করে পাবেন।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের রাজার কথা যদি বলা হয় তবে সেটি নোভাক জোকোভিচ। ফ্রেঞ্চ ওপেনে রাফায়েল নাদালের যেমন একক আধিপত্য নোভাক জোকোভিচ তেমনি জ্বলে উঠেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন আসলে। অন্য টুর্নামেন্টগুলোতে যে খুব একটা খারাপ খেলেন তা কিন্তু না। তবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনই তার কাছে সবার চেয়ে প্রিয়। সেজন্যই হয়তো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে বরবাবারই দাপুটে খেলে থাকেন নোভাক জোকোভিচ।

ক্যারিয়ারের ১৮টি শিরোপার মধ্য এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই তিনি জিতেছেন ৮টি শিরোপা। এই টুর্নামেন্টে তিনিই সবচেয়ে বেশি শিরোপা জেতার রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছেন। রয় এমারসন ৬টি শিরোপা জিতে রয়েছেন দুই নম্বরে। জোকোভিচের অন্য দশটি ট্রফি এসেছে ইউএস ওপেন, উইম্বলডন ওপেন ও ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়