নগরীয় কৃষি নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি

আগের সংবাদ

যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুততর করা হোক

পরের সংবাদ

অপশক্তির অপতৎপরতা দেশে ও বিদেশে

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১ , ১০:২৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১ , ১০:২৩ অপরাহ্ণ

স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশে একটি জঙ্গিবাদী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য উগ্র, হঠকারী, জঙ্গি এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। তবে এ ধরনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেটি যেন না করতে পারে সেজন্য দেশের গণমাধ্যমগুলোকে দৃঢ় ভ‚মিকা রাখতে হবে। উন্মোচন করতে হবে নেপথ্যের অপশক্তিকে এবং বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিবাদী, মৌলবাদী, হানাহানি রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার বেশ জোরেশোরে শুরু করেছে বলেই রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে শুধু এই সময়েই নয়, ২০০৯ সালে সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে একের পর এক সরকার উৎখাতের ঘটনা সংঘটিত করা হয়েছে। যেগুলোর নেপথ্যে বিভিন্ন অপশক্তি জড়িত ছিল। যাদের উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে উৎখাত করা। যেমন ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের অভ্যন্তরে আকস্মিকভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা। সেই হত্যাকাণ্ড এতটাই বর্বর ও নিষ্ঠুর ছিল যা সম্পূর্ণরূপে হত্যাকারীদের পৈশাচিকতা দেখে বিবেকবান যে কোনো মানুষ হতভম্ব হয়ে যান। পরে বুঝাই গিয়েছিল যে শেখ হাসিনা সরকার বিপুল বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসার কারণে নেপথ্যের কোনো অপশক্তি তৎকালীন বিডিআরের সাধারণ জোয়ানদের ব্যবহার করেছিল। শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে ২০১১ সালে ১৮ ডিসেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ শিরোনামের আড়ালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারসহ যুবকদের একটি অংশ জড়ো করার মাধ্যমে ঢাকায় ‘তাহরি স্কয়ার’-এর অনুরূপ স্থায়ীভাবে সমাবেশ ঘটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত ঢাকায় আওয়ামীবিরোধী সব শক্তির অবস্থান গ্রহণ নিশ্চিত করা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে ভণ্ডুল করার জন্য দেশে-বিদেশে বিভিন্ন শক্তিকে ব্যবহার করা হয়েছিল। বড় বড় লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছিল। সেসব করে যখন ব্যর্থ হলো তখন গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে দেশব্যাপী বিস্তৃত না হওয়ার পরিকল্পনা থেকে হেফাজতে ইসলাম ও কওমি মাদ্রাসাকে সম্মুখে নিয়ে আসা হয়, গণজাগরণের মঞ্চকে নাস্তিকদের মঞ্চ উপাধি দিয়ে দেশে একটি বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। দেশে ও বিদেশে প্রচার মাধ্যমগুলোর একটি অংশ এই অপপ্রচারে নানাভাবে ইন্ধন জোগায়। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও তরুণদের একটি অংশের মধ্যে দ্বিধা ও দ্ব›দ্ব তৈরি হতে থাকে। এই সুযোগে হেফাজত ও কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের রাস্তায় নামানো হয়। ঢাকার শাপলা চত্বরে প্রথমে ৪ এপ্রিল সমাবেশ ঘটিয়ে স্টেজ রিয়ার্সেল দেয়া হয়। এরপর ৫ মে তারিখে শাপলা চত্বরে সারাদেশ থেকে কওমি শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ঘটিয়ে ৬ তারিখ ঢাকায় ‘তাহরি স্কয়ার’-এর অনুরূপ অবস্থান গ্রহণকে কাজে লাগিয়ে সরকার পতনের নীলনকশা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেটি সরকারের বুদ্ধিমত্তার কারণে রাতেই ভেস্তে যায়। কিন্তু বিএনপি, জামায়াত প্রত্যক্ষভাবে এসব ‘মেহমান’ যোদ্ধাদের সরকার পতনের যুদ্ধে ব্যবহার করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। বেগম খালেদা জিয়া ঢাকাবাসীকে ‘মেহমানদের’ আপ্যায়নের ডাক দিয়েছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সন্ধ্যা বেলায় মেহমানদের পানি খাওয়াতে ছুটে গিয়েছিলেন। মেহমানরা অবশ্য জানত না তাদের কী ভ‚মিকা হবে। কিন্তু পরিকল্পনাকারীরা জানতেন পরদিন ভোরবেলায় ফজরের নামাজ আদায়ের নামে ঢাকার সব রাস্তা-ঘাটে মেহমানরা অবস্থান গ্রহণ করবেন। এ ধরনের পরিকল্পনা তখন একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য জামায়াত-বিএনপি গ্রহণ করেছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য। এরপর ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর নির্বাচন বয়কট করার পেছনেও ছিল ৬ জানুয়ারিতে ঢাকায় ‘তাহরি স্কয়ার’ অনুরূপ মহাসমাবেশ সংঘটিত করা। এর জন্য প্রস্তুতি নেয়া ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পূর্ববর্তী ২ মাস দেশে যানবাহনে আগুন জ¦ালিয়ে মানুষ হত্যা, বিভিন্ন থানা, উপজেলা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেল, পুল, কালভার্ট ইত্যাদি পুড়িয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার ফলে মানুষ ভীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে। সে কারণে নির্বাচন-পরবর্তী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম সমর্থন পাওয়া যায়নি। মানুষ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেভাবে ঘরবন্দি ও জীবন-জীবিকা হারাতে বসেছিল তা মানুষকে এ ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করার একটি দিনক্ষণের অপেক্ষায় রেখেছিল। ৫ জানুয়ারির পর মানুষ আপনা থেকেই কর্মজীবনে বের হয়ে আসে। সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যে কোনো মূল্যে উতরে নেয়ার ফলে বিরোধী দল পরবর্তী সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে এক বছর পর ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে জামায়াত-বিএনপি একইভাবে অবরোধ, হরতালের নামে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশকে বিচ্ছিন্ন করা, অগ্নিসংযোগ, তাণ্ডব ইত্যাদি চালিয়ে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর শেষ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ে কয়েকজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হন। সেই রায়ও সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কার্যকর করে। এর ফলে জামায়াত-বিএনপির সরকারবিরোধী অবস্থান আগের মতো কঠোর হওয়ার পর্যায় ছিল না। সরকার ২০০৯ সাল থেকে নানা জটিলতার মধ্যেও দেশে বিদ্যুৎ, ডিজিটাল, শিক্ষা, কৃষি, গার্মেন্টস, তথ্যপ্রযুক্তি, মেধা প্রকল্প, যোগাযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে যেসব সাফল্য অর্জন করে তাতে মানুষের জীবন-জীবিকার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে থাকে। বিরোধী দল আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। সরকার বড় বড় মেগা প্রকল্পে হাত দেয়। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ইত্যাদিতে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হতে থাকে। হেফাজতকে নিয়ে আগে এককভাবে জামায়াত, বিএনপি যে ধরনের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করত তাতে সরকার কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাকে নানাভাবে প্রণোদনা দানের মাধ্যমে এক ধরনের বিভাজন তৈরি করতে সক্ষম হয়। তবে যেসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আগে দেশের অভ্যন্তরে থেকে সরকার উৎখাতে নানাভাবে কাজ করত তাদের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে চলে যায়। সেখান থেকে তারা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপপ্রচার জোরদার করতে থাকে। ২০১৯-এর নির্বাচন প্রাক্কালে গণফোরামসহ সাবেক উদারবাদী কিছু রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি জোট গঠিত হয়। ড. কামাল হোসেন এবং বি. চৌধুরী প্রথমদিকে এই জোট থাকলেও এক পর্যায়ে বি. চৌধুরী জোট থেকে বের হয়ে আসেন। বিএনপি যেহেতু খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের উপস্থিত নেতৃত্ব শূন্যতায় ছিল তাই বিএনপি ও বিশ দলীয় জোট কামাল হোসেনকে সম্মুখে নিয়ে নির্বাচন বৈতরণী পার হতে চেয়েছিল। কিন্তু নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং সরকারের নানা ধরনের কৌশলের কাছে নির্বাচনে এই জোট ধরাশায়ী হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সরকার উৎখাতের বিষয়টি আপাতত মনে হয়েছিল স্থগিত রেখে সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে অপপ্রচারের মধ্যেই এই শক্তি আত্মনিবেশ করেছে। কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর প্রচার-অপপ্রচার অনলাইনে সয়লাভ করা হয়। এতে ইংল্যান্ড, কানাডা, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী অনেকেই সরকারের বিরুদ্ধে করোনা মোকাবিলা, স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতি, অনিয়ম ইত্যাদিকে অতিরঞ্জিত করে দেশে করোনা মহামারি এবং বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির সম্ভাবনা, ব্যাপক প্রাণহানি ইত্যাদি প্রচারণা চালাতে থাকে। কিন্তু সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি যেমন দমন করেছে, একইভাবে করোনা চিকিৎসা, খাদ্য সরবরাহ, টিকা প্রাপ্তি ইত্যাদি নিশ্চিত করার ফলে পরিস্থিতি অপ্রচারকারীদের অনুক‚লে যায়নি। তবে দেশে সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি খুব সীমিত আকারে পালন করার বিষয়টিকে এসব অপপ্রচারকারী মানুষের মনে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের সব ধরনের চেষ্টা করেছে। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বিরোধ সৃষ্টির নানা কাহিনী প্রচার করা হয়েছে। ওসি প্রদীপ কাণ্ডসহ বেশকিছু ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার ২০১৯ সাল থেকেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ক্যাসিনো কাণ্ডসহ নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকায় দেশের অভ্যন্তরে মানুষ শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সদ্বিচ্ছার প্রমাণ খোঁজে পায়। বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের অপপ্রচার কিংবা দেশের অভ্যন্তরে যারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যাচার করছিল তা খুব একটা বাজার মূল্য পায়নি। এরপরও বিদেশে অবস্থানকারী গোষ্ঠীর প্রচার-প্রচারণা থেকে যে বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হতে থাকে তা হচ্ছে ২০২০ এবং ২০২১ সালের মধ্যে সরকারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি-ধমকিও দেয়া হচ্ছিল। বিষয়গুলো যে খুব হালকা করে দেখার ছিল তা নয়। অক্টোবর মাসের দিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে হেফাজত এবং ইসলাম নামধারী কিছু দল ও ব্যক্তিকে মাঠে নামানো হয়। তারা এসবকে ইসলামবিরোধী বলে ফতোয়া দেয়। তাদের ধারণা ছিল এ নিয়ে দেশে একটা সরকারবিরোধী উত্তেজনা সৃষ্টি হবে, জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে। ডিসেম্বর মাসে সে ধরনের কর্মসূচিও দেয়া হয়। কিন্তু সেসব কর্মসূচি তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিষয়টি নিয়ে আমাদের বেশিরভাগ ইলেকট্রনিক মিডিয়া সৌদি আরব, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, মিসর, ইরান ইত্যাদি মুসলিম দেশে রাজনৈতিক নেতাদের ভাস্কর্যের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে প্রচার করে। ফলে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তাদের বক্তব্য খুব একটা হালে পানি পায়নি। তারপর চেষ্টা করা হয়েছিল সরকারি অবসরপ্রাপ্ত আমলা, সেনা কর্মকর্তা এবং সরকারবিরোধী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের রাস্তায় একটি সমাবেশ ঘটানোর। কিন্তু সেটিও সফল হয়নি। এরপর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় ‘দোয়া ও মোনাজাত’-এর ব্যানারে বেশকিছু জামায়াত, বিএনপি, নাগরিক ঐক্য, কল্যাণ পার্টি এবং তাদের ঘরানা কিছু বুদ্ধিজীবী, সাবেক আমলা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তার সমাবেশ ঘটিয়ে কিছু কথা বলা হয় যা গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশবাসী শুনেছে। অনেকের কাছেই এসব বক্তব্য বেশ হাস্যরস সৃষ্টি করেছে। আবার একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা পরিচয়ধারী ‘মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে রাজাকার’ হওয়া ভালো ছিল মন্তব্য করার বিষয়টি মানুষকে তাদের আদর্শ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। বুঝাই যাচ্ছে দেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি সরকার পতনে অস্থির হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে আল জাজিরা অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স ম্যান শিরোনামে একটি তথাকথিত অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সামরিক বাহিনী, সরকার তথা শেখ হাসিনাকে ‘মাফিয়া’ সরকার হিসেবে চিত্রায়িত করেছে। এই প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, জোড়াতালি, নানা ভুলভাল তথ্য ও বক্তব্য সংবলিত অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। এর নেপথ্যে ডেবিড বার্গম্যান, তাসমিন খলিলসহ যারা ছিলেন তারা সবাই দীর্ঘদিন থেকে সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত আছে। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশে একটি জঙ্গিবাদী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য উগ্র, হঠকারী, জঙ্গি এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। তবে এ ধরনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেটি যেন না করতে পারে সেজন্য দেশের গণমাধ্যমগুলোকে দৃঢ় ভ‚মিকা রাখতে হবে। উন্মোচন করতে হবে নেপথ্যের অপশক্তিকে এবং বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিবাদী, মৌলবাদী, হানাহানি রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টাকে। তাহলেই বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয় আদর্শগতভাবেও বর্তমান আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলতে পারবে।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়