সেঞ্চুরির পথে মুমিনুল, ড্রেসিং রুমে সাকিব

আগের সংবাদ

দশম টেস্ট সেঞ্চুরি, সবাইকে ছাপিয়ে মুমিনুল

পরের সংবাদ

স্মৃতির ভাঁজে বইমেলা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১ , ১২:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১ , ২:৩৪ অপরাহ্ণ

বই পড়ুয়াদের আবেগ-উদ্দীপনার অপর নাম ‘অমর একুশে বইমেলা’। এ বছর করোনার কারণে যদিও এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, বইমেলা হবে কি হবে না! অবশেষে সেই উৎকণ্ঠার অবসান হলো। ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে আগামী ১৮ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বইমেলা। আর এ মেলাকে ঘিরে তারকারা জানিয়েছেন তাদের স্মৃতিকথা এবং কী ধরনের বই পড়তে ভালোবাসেন তারা। অনুলিখন শাকিল মাহমুদ ও রাব্বানী রাব্বি।

ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ বই পড়ি

আবুল হায়াত।

বইমেলা হবে কি হবে না! তা বুঝতে বুঝতে এখন বই বের হবে কিনা সেটাই বুঝতে পারছি না। আর যদি হয় তাহলে দুটি বই আসবে। প্রকাশক ছাপায় যদি তবে! এর মধ্যে একটির নাম হচ্ছে ‘দুটি মঞ্চ নাটক’, অন্যটি গল্পের বই ‘স্বপ্নের দৃষ্টি’। ছোটবেলায় আমি বেড়ে উঠেছি চট্টগ্রামে। সেখানে লাইব্রেরিতে যেতাম, সেখান থেকেই বই কিনতাম। যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি তখন একুশে বইমেলায় যেতাম। বন্ধু-বান্ধবরা ঘুরতাম, বই কিনতাম- ভালো লাগত। পরে যখন ভিড়-ভাট্টা বাড়তে লাগল, তখন নিজেকে আস্তে আস্তে দূরে সরিয়ে নিলাম।

এখন বইমেলায় খুব একটা যাওয়া হয় না। হয়তো একদিন বা দুদিন যাই আর কি! আগে বইমেলায় একদিন গিয়ে বই দেখে আসতাম, পরদিন গিয়ে কিনতাম। তখন বাংলা একাডেমির বইয়ের প্রতিই আমাদের আগ্রহ বেশি ছিল, সস্তায় খুব ভালো বই পাওয়া যেত। আর এখন বইমেলায় আমার কোনো বই বের হলে কিছুক্ষণ সেই স্টলে বসি। পাঠকরা আসেন, তাদের সঙ্গে কথা বলা খুব আনন্দের মুহূর্ত। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, অস্বস্তি বোধ করি। আর বই কেনার কথা বললে, শুধু মেলা বলে কথা না; বেশির ভাগ সময় বই এমনিতেই কিনি।

এছাড়া কিছু উপহারও পাই। আর পড়ার ক্ষেত্রে, গবেষণামূলক বই খুব একটা আমার পছন্দের তালিকায় নেই। ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ বই পড়ি। গল্প-উপন্যাসও পড়ি, যদিও এই সময়ে খুব বড় উপন্যাস পড়ার ধৈর্য থাকে না। গল্পের বইয়ের দিকেই নেশা বেশি থাকে। আত্মজীবনীমূলক বইগুলো পড়ে তাদের সম্পর্কে জানা যায়। জীবনের অনেক গভীরে পৌঁছানো যায়, জ্ঞানও বৃদ্ধি করে।

মানুষজনের বই পড়ার আগ্রহ বাড়ছে

মাকসুদুল হক, সংগীতশিল্পী।

এ বছর আমার কোনো বই আসছে না। ২০১৯ বইমেলায় ‘হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ রক : দ্য লিগেসি অব আজম খান’ বের হয়েছিল। এটার একটা অনুবাদ করেছিল তানভীর হোসেন, তা বেরিয়েছিল গত বছর বইমেলায়। এবার করোনাকালে কিছু করতে পারিনি। তবে লেখালেখির মধ্যে আছি। আর গত বইমেলায় যেতে পারিনি। ধরা যেতে পারে, জ্যাম-ধুলাবালি আর বাসা মিরপুর পল্লবীতে হওয়ায় যাওয়া-আসাই মূলত প্রধান সমস্যা। তবে এ বছর যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। দেখি যেতে পারি কি-না! ছোটবেলায় আমরা বন্ধু-বান্ধবরা মিলে বইমেলায় যেতাম; বই কিনতাম, আড্ডা দিতাম। বই-পত্র নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতো। সেগুলো খুব মধুর স্মৃতি। সময়টা ভালো কাটত।

এখন বইমেলায় সব ধরনের মানুষই যান। তখন যারা বই পড়তেন শুধু তারাই যেতেন। বাংলা একাডেমি চত্বরের আশপাশেই মেলা ছিল। এখন উদ্যানে বইমেলা হচ্ছে। স্টল এবং বইয়ের প্রকাশনাও বাড়ছে। মানুষজনের বই পড়ার আগ্রহ বাড়ছে। ডিজিটাল সময়ে এটা দরকার আছে। আর বই পড়া নিয়ে আমার নির্দিষ্ট কোনো ঘরানা পছন্দ নেই। সম্প্রতি শেষ করলাম বারাক ওবামার ‘ অ্যা প্রমিজড ল্যান্ড’, আরো দুটা বই পড়েছি। ফিকশন টাইপ কম পড়ি।

আত্মজীবনীমূলক ও তথ্যসমৃদ্ধ বই একটু বেশি পড়ি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ওপর আমি প্রচুর বই পড়ি, সংগ্রহ করি। ঐতিহাসিক বই নিয়ে আমার প্রচণ্ড আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে যেসব বই রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ছোট ছিলাম। তবুও তো এই ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী আমরা।

ফেব্রুয়ারির বইমেলা শুধু বইমেলাই নয়

ফারজানা ছবি, অভিনেত্রী।

আমার বই পড়া শুরু হয় বাবা-মায়ের বিয়েতে পাওয়া উপহার বই দেখে। ছোটবেলায় পাওয়া সেই বই পেয়েই পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সে আগ্রহ বইমেলার প্রতি টান তৈরি করে। ছোটবেলায় অনেক বইমেলা দেখতাম। স্কুল-কলেজে বিভিন্ন উৎসব ধরে বইমেলা হতো। সে সব মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক স্মৃতি রয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারির বইমেলা শুধু মাত্র বইমেলাই নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য।

প্রতি বছরই তালিকা করে বই কেনা হয়। আমি আর তন্ময় আগে থেকেই তা করে রাখি। এবারো কী কী বই কিনব তা ঠিক করা হয়েছে। তবে কষ্টের বিষয় হলো, এবার ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা হচ্ছে না। একুশকে কেন্দ্র করেই মূলত আমাদের দেশের বইমেলা। করোনার কারণে তা হচ্ছে না বলে খারাপ লাগা রয়েছে। আর অভিনয় আমি খ্যাতির জন্য করি না। তবুও এ জগতে কাজ করলে খ্যাতি আপনা আপনিই আসে। আমারো কিছু ভক্ত আছে। প্রতি বছর যেহেতু বইমেলায় যাওয়া হয় সেহেতু কারো না কারো চোখে পড়ে যাই। তবে এটাকে খ্যাতির বিড়ম্বনা বলে মনে হয় না। তাদের ভালোবাসা, আপন করে নেয়া আমাকে টানে।

বাবা মেলায় নিয়ে স্টলে বসিয়ে দিতেন

জিনাত শানু স্বাগতা, অভিনেত্রী।

বাবা শিশু একাডেমিতে শুক্রবার সকালে এবং শনিবার বিকেলে গানের ক্লাস নিতেন। বিকেলে ক্লাস শেষ করে আমাদের নিয়ে যেতেন বইমেলায়। নিয়েই বসিয়ে দিতেন স্টলে, বই বিক্রির জন্য। স্টলে বসে বসে বই পড়তাম। যে কারণে ছোটবেলাতেই বইমেলাকে খুব কাছ থেকে দেখা হয়েছে, বইমেলার আবেগ ছুঁয়ে গেছে। বড় হওয়ার পরে বইমেলাতে যাওয়া হয় কিন্তু বই কেনার জন্য নয়। বই যা কেনার বাইরে থেকেই কিনি।

মেলায় যাওয়া পরিবেশ দেখার জন্য, আবেগ অনুভব করার জন্য। মেলায় গেলে অনেক ভক্ত দেখে ফেলে, বিরক্তও করে। কিন্তু বিরক্ত করার ভক্ত তুলনামূলক কম। যে ভক্তরা থাকেন তারা বই কেনা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। স্বাগতা চলে গেলে পাওয়া যাবে, বই চলে গেলে পাওয়া যাবে না; ধরনের ভাবনা নিয়ে থাকেন তারা। আমাদের বইমেলা একটি ঐতিহ্য বহন করে চলেছে অনেক বছর যাবত। একুশে বইমেলার মধ্যে যেমন প্রাণ রয়েছে তেমনই রয়েছে ইতিহাস।

বইমেলা তো অনেক হয়- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বইমেলা, কলকাতার বইমেলা; কিন্তু আমাদের একুশে বইমেলার প্রতি সারাবিশ্বের মানুষের ভিন্ন রকম টান রয়েছে। এবারের মেলা যেহেতু ফেব্রুয়ারিতে হচ্ছে না সেহেতু একটু খারাপ লাগা রয়েছে। কিন্তু মেলা একেবারে না হওয়ার চেয়ে হচ্ছে এটাই আনন্দের। তবে এবার যেমন করোনার কারণে বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে না হয়ে মার্চে হচ্ছে একই চক্রে যেন প্রতি বছর ঘুরপাক না খায়, যেহেতু একুশে বইমেলা কেবলই বইমেলা নয়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ রইল।

ছোটবেলায় আমি কমিকসপোকা ছিলাম

অভিনেত্রী শানারেই দেবী শানু।

সিলেটে যে বইমেলা হতো সেখানে ছোটবেলায় বাবা আমাদের ভাইবোনদের নিয়ে যেতেন। সেখানে গিয়ে মেলায় ঘোরা, স্টলে স্টলে বই দেখা, বই কেনার যে মজা সেটা আসলে অন্য রকম এক অনুভ‚তির। ছোটবেলায় আমি কমিকস পোকা ছিলাম। ফলে আমার বইমেলা মানেই কমিকস বইকেন্দ্রিক ছিল। বর্তমান সময়ের প্রজন্ম অনেক আধুনিক, যন্ত্রকেন্দ্রিক। বইমেলার আমেজটা অনুভব করতে পারে না। আমি যেহেতু লেখালেখির সঙ্গে এখন যুক্ত সেহেতু প্রতি বছরই বইমেলায় যাওয়া হয়। কিন্তু ছোটবেলার বইমেলা আর এখনকার বইমেলার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হলেও একটা নস্টালজিয়া কোথাও থেকে যায়। আমি যেহেতু অভিনয় করি সেহেতু একটি গ্রহণযোগ্যতা আছে মানুষের কাছে অভিনেত্রী হিসেবে। প্রথম দিকে যখন বই লিখি তখন আমার অভিনয়ের ভক্তরাই বই কিনতেন। অভিনেত্রী শানুর বই! প্রথম উপন্যাসের ক্ষেত্রে অভিনেত্রী শানুর বই কিনে ভক্তরা সাড়া দিয়েছিলেন।

বইমেলায় দেখা করতেন অভিনেত্রী শানুর সঙ্গে। কিন্তু আমি যখন বই লিখছি তখন আমি লেখক। আমি চাইতাম সবাই আমাকে লেখক হিসেবেই দেখুক, বই কিনুক। সে সাড়াটা আমি পাঠকদের কাছে দ্বিতীয় উপন্যাসে পেয়েছি। এই বিষয়টাকে আমি খুব উপভোগ করি। মানুষ আসছে, বইমেলায় ঘুরতে ঘুরতে অপরিচিত কেউ এসে পরিচিত হচ্ছে, বেশ ভালো লাগে। করোনার কারণে এবারে বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে হচ্ছে বলে খানিকটা খারাপ লাগছে। কেননা আমাদের বইমেলার আমেজ পুরোটা এই ফেব্রুয়ারিকে ঘিরেই। কিন্তু যেহেতু মহামারির একটি প্রকোপ রয়েছে এবং রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে সচেতনভাবেই বইমেলা করতে সেহেতু তাদের সিদ্ধান্ত মেনেই আমাদের এবারের বইমেলা উদযাপন করতে হবে আগের মতো করেই।

লুকোচুরি করে বইমেলায় যাই

অর্চিতা স্পর্শিয়া।

সাধারণত ফিকশন এবং কবিতার বই পড়তে ভালোবাসি। নন-ফিকশন আগে আমি পড়তাম না। গত দুই বছর হলো এ ধরনের বই পড়তে শুরু করেছি। ইদানীং জাপানিজ, কোরিয়ান কিংবা ইরানিয়ান সাহিত্য পড়ছি। বর্তমানে কোরিয়ান লেখক হ্যান ক্যাংয়ের ‘দ্য ভেজিটেরিয়ান’ নামে একটি বই পড়ছি। আর প্রতি বইমেলাতেই আমি যাই, এবারো যেতে চাই। এমনিতে পাবলিক ফিগারের যে বিড়ম্বনা থাকে; সে কারণে আমি একটু লুকোচুরি করে বইমেলায় যাই। ভিড় একদমই আমার ভালো লাগে না। আর বইমেলার সময়ে বই নিয়ে পেপারে আপডেট রাখি।

এছাড়া আমার মা- বইয়ের জন্য তাকে একজন উইকিপিডিয়া বলা যায়। বই কেনার ব্যাপারে তিনিই গাইড দেন। বইমেলা ছাড়াও সারা বছরই তিনি বইয়ের খোঁজখবর রাখেন। আমার মা নিজেও একজন লেখক। মা-মেয়ে আমরা দুজনই বই পড়ি। এমনকি আমার বই পড়ার অভ্যাসটিও মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। এছাড়া নির্মাতা অমিতাভ রেজা ভাই, তিনিও আমাকে বইয়ের ব্যাপারে গাইড দেন।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়