আফগানিস্তানে ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ২৬

আগের সংবাদ

নদ-নদী রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে

পরের সংবাদ

ভাঙনের ৩০ বছর

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি স্বাধীন দেশ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২১ , ৯:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২১ , ৯:২৬ অপরাহ্ণ

গত সপ্তাহে প্রকাশের পর

সোভিয়েত কমিউনিজমের সমাপ্তি
১৯৯১-এর ১৮ আগস্ট অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা সোভিয়েত কমিউনিজমে মৃত্যু ডেকে আনল, তবে ১৯৮৫ তে গর্বাচেভের সংস্কারের আমল থেকেই সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব কমতে শুরু করেছিল। অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা ফুলানো-ফাঁপানো কমিউনিস্ট পার্টি প্রভাবের বেলুন ফুটো করে দেখিয়ে দিল একদা যত প্রভাবই থাকুন না কেন এখনো এটা ভীষণ ফাঁপা পার্টির হুমকির অসারতাও সবার জানা হয়ে গেল। সোভিয়েত ইউনিয়নকে একটি আধুনিক গতিশীল রাষ্ট্র ও সমাজে পরিণত করতে না পারার ব্যর্থতার জন্য তিক্ততা ও ঘৃণার ফসল পার্টিরই পাওনা হয়ে রইল। ১৯৮০’র দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের আর্থিক দুরবস্থা জাতিগত দ্ব›দ্ব ও উত্তেজনা বাড়াল, সৃষ্টি হলো আঞ্চলিকতাবাদ, জাতীয়তাবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। যে অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল প্রথমত এবং মুখ্যত সোভিয়েত সার্বভৌমত্ব বৃদ্ধির চেষ্টা বানচাল করা, তার ব্যর্থতা গোটা সোভিয়েত সাম্রাজ্যের খণ্ডকিরণ ত্বরান্বিত করল।
গ্লাসনস্ত ও পেরেস্ত্রোইকা সংস্কারের মাধ্যমে গর্বাচেভ কমিউনিস্ট পার্টি অব সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা হ্রাস করে পার্টিকে দুর্বল করে ফেললেন এবং কার্যত নিজের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণও ভঙ্গুর অবস্থায় এসে ঠেকল। অভ্যুত্থানের আগের পর্যায়টিকে দুটি ধারায় চিহ্নিত করা যায়- একটি হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত রিপাবলিকসমূহের জন্য অধিকতর স্বায়ত্তশাসন আদায়- একই সঙ্গে চলল তা প্রতিহত করার জন্য কেন্দ্রের চলমান উদ্যোগ আর অন্যটি হচ্ছে ইউনিয়নটিকে ধরে রাখা- যা গর্বাচেভের প্রয়াস হিসেবে দেখা যায়।
এই পরস্পরবিরোধিতা এবং ইউনিয়নভুক্ত রিপাবলিকসমূহের অসন্তোষ ঢেকে রাখার পর্যায় ফুরিয়ে যায়। তারা রাস্তায় নামে; সোভিয়েত সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত ঝরতে থাকে। ১৯৯১’র জানুয়ারিতে লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াস টেলিভিশন স্টেশনে সোভিয়েত বাহিনীর আক্রমণে ১১ জন বেসামরিক ব্যক্তি, একজন কেজেবি কর্মকর্তার মৃত্যুর সংবাদ ইউনিয়নের সর্বত্রই ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এ কাজে যে বিশেষ বাহিনীকে কাজে লাগানো হয় সেটি হচ্ছে স্পেশাল পারপাস পুলিশ ইউনিট, তাদের রুশ নাম ওমোন। অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারী পুগোর নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল এই বাহিনী; তার ডেপুটি গ্রোমোভ সোভেতস্কায়া রুশিয়ার পত্রে স্বাক্ষরকারীদের একজন। বাড়াবাড়ি করার জন্য গর্বাচেভ স্থানীয় কমান্ডারদের দায়ী করলেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলেন না। অভ্যুত্থান পর্যন্ত সময়ে এই বাহিনী সারাদেশেই ছড়িয়ে গেল, লাটভিয়াতে একইরকম নির্মম আচরণ করল। তারা নিষ্ঠুরতার জন্য পরিচিত হয়ে উঠল। স্বায়ত্তশাসিত নাগারনো-কারাবাখ আজেরবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আর্মেনিয়ার সঙ্গে যোগ দেবার লক্ষ্যে পূর্ণ সশস্ত্র যুদ্ধের হুমকি দিল। বিভিন্ন রিপাবলিকে সহিংসতা শুরু হওয়ায় গর্বাচেভকে ইউনিয়ন ধরে রাখার চেষ্টায় আরো ক্ষমতাশালী করতে ১৭ মার্চ ১৯৯১ প্রথম গণভোটের আয়োজন করা হলো। যারা ভোট দিয়েছে তাদের ৭৬ ভাগ সোভিয়েত ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রাখার পক্ষে রায় দিল। তবে যেসব রিপাবলিকে ইয়েলেৎসিন জনপ্রিয় সেখানে এই অনুপাত অনেক কম প্রমাণিত হলো। ইউক্রেনের ভোটাররা কমিউনিস্ট নেতা লিওনিদ ক্রাভচুককে তাদের পক্ষে কেন্দ্রের সঙ্গে ইউনিয়ন ট্রিটির দর কষাকষির দায়িত্ব প্রদান করল। তবে বাল্টিক অঞ্চলের জর্জিয়া, মলডোভা এবং আর্মেনিয়া গণভোট অনুষ্ঠানেই অস্বীকৃতি জানাল। তার বদলে বাল্টিক রিপাবলিকগুলো এবং জর্জিয়া স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের আয়োজন করল- তিন বাল্টিক প্রদেশই স্বাধীনতার পক্ষে অধিকাংশ ভোটারের রায় পেল।
২০ মে ১৯৯১ জর্জিয়া কেন্দ্রীয় সরকারবিরোধী নেতা জভিয়াদ গামছাকুর্দিয়াকে সর্বসম্মতভাবে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে স্বাধীন জর্জিয়া শাসনের ম্যান্ডেট প্রদান করল। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর আর্মেনিয়ায় গণভোটের ফলাফল কী হবে তা জানাই ছিল। ‘অল-ইউনিয়ন রেফারেন্ডাম’ কেন্দ্রকে হতচকিত করে উল্টোমুখী হয়ে গেল। বিজয়ী হলো রিপাবলিকগুলো- স্বাধীন হবে না নামমাত্র বন্ধনে কেন্দ্রের সঙ্গে থাকবে সে সিদ্ধান্ত তারাই নেবে, কেন্দ্রের চাপিয়ে দেবার ক্ষমতা কার্যত রহিত হয়ে গেল। কিন্তু কোনো কোনো রিপাবলিকে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি এমন পর্যায়ে চলে গেল যে সেখানকার সরকারও আন্দোলন সামলাতে ব্যর্থ হতে শুরু করল। এই অবস্থায় মস্কোভিত্তিক শক্তিশালী একটি গণতন্ত্র-সমর্থন আন্দোলন শুরু হলো।
১৯৯১-র জুলাই মাসে শেভারনাদজে এবং ইয়াকোভলেভ মস্কোর মেয়র গ্যাভরিল পোপোভ এবং লেনিনগ্রাদের মেয়র আনাতোলি সবচাকের সঙ্গে যোগ দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার আন্দোলনের ঘোষণা দিলেন। যদিও মুরব্বি নেতারা পেরেস্ত্রোইকার আদর্শে বিশ্বাস করে আসছিলেন- এটা নবীনদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে সোভিয়েত ইউনিয়ন কমিউনিস্ট কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সত্যিকারের কোনো পরিবর্তন আনা অসম্ভব।

ইয়েলেৎসিনের উত্থান ও সোভিয়েত-উত্তর রাশিয়া
গর্বাচেভের অন্যতম মিত্র হিসেবে ইয়েলেৎসিন ১৯৮৫ সালে খ্যাতিমান হয়ে উঠেন, কিন্তু সংস্কারের শ্লথগতিতে অসন্তুষ্ট হয়ে এক সময় পার্টি রাজনীতির মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। মস্কোর স্বল্পকালীন মেয়র হিসেবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্যতম দাবিদার হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। গর্বাচেভ যখন সোভিয়েত পার্লামেন্টের জন্য গণতান্ত্রিক নির্বাচন চালু করলেন মস্কো নির্বাচনী এলাকার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরে এলেন। গর্বাচেভের আপত্তির পরও পরের বছর তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে রুশ রিপাবলিকের জন্য অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানালেন। গর্বাচেভের ইউনিয়ন ট্রিটি পাস হবে ধরে নিয়ে তিনি সোভিয়েত পার্লামেন্ট এবং কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব সোপান এবং স্থানীয় সরকার উপেক্ষা করে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী শাসন করতে শুরু করলেন। তিনি গর্বাচেভের ভ্রান্তি মোচনের কাজে হাত দিলেন। ইউএসএসআর প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এন্ড সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্বাহী কাঠামো নির্মাণে গর্বাচেভ ব্যর্থ হয়েছিলেন।
ইয়েলেৎসিনের নির্বাহী ক্ষমতার চারটি উৎস : স্টেট কাউন্সিল, কাউন্সিল অব মিনিস্টার্স, কাউন্সিল অব ফেডারেশন এন্ড টেরিটোরিস এবং সিকিউরিটি কাউন্সিল। ১৯১৭-র আগে রাশিয়ার সর্বোচ্চ পরামর্শক পর্ষদের নামও স্টেট কাউন্সিল ছিলÑ কমিউনিজম পূর্ব রাশিয়ার সঙ্গে একটি অব্যাহত যোগসূত্র রাখা এর উদ্দেশ্য।
ইয়েলেৎসিনের টিমের তিনটি গ্রুপ : একটি মস্কো কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক কর্মকর্তাদের নিয়ে, তিনি ছিলেন তাদের সেক্রেটারি; দ্বিতীয় গ্রুপের রুশ প্রধানমন্ত্রী সিলায়েভ ও অন্যান্য, কেজিবি প্রধান ভিক্টর ইভানেনকো এবং মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং তৃতীয়টি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবার পর যে বিতর্ক সামনে এলে তার দুটো দিক : একটি হচ্ছে কেন্দ্র নিজে সংস্কার শুরু করে রিপাবলিকগুলোকে অনুসরণ করতে বলবে না রিপাবলিকগুলো নিজেদের মতো সংস্কার করে নেবে। নভেম্বর নাগাদ নিজেদের মধ্যে দ্ব›েদ্বর অবসান ঘটিয়ে ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার নেতৃত্ব রাশিয়া গ্রহণ করতে বলা হয়।

স্বাধীনতা আন্দোলন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি
ব্যর্থ অভ্যুত্থান কেন্দ্রের দুর্বলতা ফাঁস করে দিলে রিপাবলিকগুলো দ্রæত স্বাধীনতার দাবি নিয়ে এগিয়ে এলো। গর্বাচেভ মস্কো ফেরার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেলারুশ স্বাধীনতার ঘোষণা দিল। ২৭ আগস্ট মলডোভিয়ার পার্লামেন্ট এবং গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি রিপাবলিকের নাম বদলে মলডোভা রাখল এবং ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবার প্রক্রিয়া শুরু করল। সেপ্টেম্বরে বাল্টিক অঞ্চলের তিনটি রিপাবলিকই স্বাধীনতা ঘোষণা করল এবং এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুনিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান। জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া নিজেদের পথ ধরল। কিরগিজিয়া নাম বদলে কিরগিজস্তান হলো। কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করে দ্রুত রিপাবলিকের সম্পদসমূহের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করল এবং ব্যক্তিমালিকানায় পথ উন্মুক্ত করল।
প্রতিবেশী রিপাবলিকগুলোর মতো আর্থিক সমর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় সেন্ট্রাল এশিয়ান রিপাবলিকগুলো ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার প্রস্তাব করল। ১৯৯১-র নভেম্বরে রাশিয়াসহ ৭টি রিপাবলিক ‘ইউনিয়ন অব সোভিয়েত স্টেটের ঘোষণা দিলেও তা ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল। ইউক্রেন সর্বসম্মতভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিল। তিনটি ¯øাভ রিপাবলিক বেলারুশ, রাশিয়া এবং ইউক্রেন বেলারুশের ব্রেস্ট বৈঠকে ঘোষণা করল সোভিয়েত ইউনিয়নের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা কমনওলেথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস (সিআইএস) ঘোষণা করল, যার প্রশাসনিক কেন্দ্র হবে বেলারুশের মিনক্স।
১৯ ডিসেম্বর ইয়েলেৎসিন রুশ সরকারকে প্রতিরক্ষা ও আণবিক শক্তি উৎপাদন বাদে সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের সব দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিলেন। দুদিন পর ১১টি রিপাবলিকের সরকার প্রধান স্বাধীন দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে কাজাখস্তানের আলমা-আতায় মিলিত হলেন; গর্বাচেভকে যতটা সম্মানের সঙ্গে সম্ভব বিদায় দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন।
২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১ খ্রিস্ট্রীয় বড়দিনে গর্বাচেভ টেলিভিশনে ভাষণের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। গর্বাচেভের ভাষণ শেষ হবার আধ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ক্রেমলিন থেকে শেষবারের মতো হাতুড়ি ও কাস্তের সোভিয়েত পতাকা নামিয়ে ফেলা হলো।
নামেমাত্র আরো ৬ দিন সোভিয়েত ইউনিয়ন টিকে থাকার পর ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯১ মধ্যরাতে চিরদিনের মতো সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।
(এই রচনাটি ব্রিটানিকা সম্পাদকমণ্ডলীর ‘কলাপস অব সোভিয়েত ইউনিয়ন’-এর অনুসৃতি।)

টীকা ১ : সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫ দেশ
দেশের নাম স্বাধীনতা ঘোষণার তারিখ
১ লিথুয়ানিয়া ১১ মার্চ ১৯৯০
২ জর্জিয়া ৯ এপ্রিল ১৯৯১
৩ এস্তোনিয়া ২০ আগস্ট ১৯৯১
৪ কিরগিজস্তান ২৪ আগস্ট ১৯৯১
৫ রাশিয়া ২৪ আগস্ট ১৯৯১
৬ বেলারুশ ২৫ আগস্ট ১৯৯১
৭ মলডোভা ২৭ আগস্ট ১৯৯১
৮ আজারবাইজান ৩০ আগস্ট ১৯৯১
৯ উজবেকিস্তান ১ সেপ্টেম্বর ১৯৯১
১০ লাটভিয়া ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯১
১১ তাজিকিস্তান ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১
১২ আর্মেনিয়া ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৯১
১৩ তুর্কমেনিস্তান ২৭ অক্টোবর ১৯৯১
১৪ ইউক্রেন ২৪ নভেম্বর ১৯৯১
১৫ কাজাখস্তান ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯১
সোভিয়েত ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯১।

টীকা ২ : ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯১ রাশান ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলেৎসিন জাতিসংঘের মহাসচিবকে জানিয়ে দেন সোভিয়েত ইউনিয়নের নিরাপত্তা পরিষদসহ অন্যান্য সংস্থায় যে অবস্থান ছিল আরো ১১টি সোভিয়েত রাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট হয়ে রাশিয়াই সেখানে প্রতিস্থাপিত হবে। বেলারুশ এবং ইউক্রেন ১৯৪৫ সালেই জাতিসংঘভুক্ত থাকা অবস্থায় সোভিয়েতের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। নাম বদলে ইউক্রেন ও রিপাবলিক অব বেলারুশ হিসেবে আবার জাতিসংঘভুক্ত হয়। বেলারুশ আগে ছিল বেলারুশিয়ান সোভিয়েত সোশালিস্ট রিপাবলিক এবং ইউক্রেন ছিল ইউক্রেনিয়ান সোভিয়েত সোশালিস্ট রিপাবলিক।
১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া জাতিসংঘভুক্ত হয়; ২ মার্চ ১৯৯২ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে : আর্মেনিয়া, মলডোভা, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তান। জর্জিয়া সদস্য হয় ৩১ জুলাই ১৯৯২।
বিংশ শতকের বিশ্বরাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ সময়ে এত বড় ভাঙন ধনবাদী দেশগুলোর জন্য আনন্দের বিষয় হলেও সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসীদের জন্য এটা ছিল মারাত্মক আঘাত। দ্বিমেরু বিশ্ব একমেরু হয়ে গেল, মার্কিন দৌরাত্ম্য চ্যালেঞ্জ করার আর কেউ থাকল না।

ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়