প্রাকৃতিক জলাধারগুলো এ দেশের প্রাণ

আগের সংবাদ

জামাই এলেন শ্বশুরবাড়ি, সঙ্গে ২০ হাজার টাকার আইড় মাছ

পরের সংবাদ

শিকারির সামনে থাকা জ্যান্ত প্রাণীর আহাজারি বন্ধ করা প্রয়োজন

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ , ৮:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ , ৮:৫১ অপরাহ্ণ

দুদিন যাবতই একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বারবার চোখের সামনে আসছে। চিড়িয়াখানায় জ্যান্ত খরগোশ সাপের খাবার হিসেবে দেয়া হয়। এ বিষয়টি নতুন না হলেও খুব কষ্টের। খুব মায়াময় এ পৃথিবীতে কে না বাঁচতে চায়! কিন্তু জলজ্যান্ত একটি প্রাণীকে অন্য প্রাণীর খাবার হিসেবে দেয়ার বিষয়টি একদমই মানবিক নয়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও প্রাণীর অধিকার বিবেচনা করে এ বিষয়গুলো বিস্তর ভাবা প্রয়োজন। ক্ষুধার্ত খরগোশ নিজের বাঁচার চিন্তা করতে করতে পেটে চলে যায় সাপের! শুধু সাপ নয়, অন্যান্য কিছু প্রাণীর জন্যও এমন ব্যবস্থাই আছে। ইঁদুর, মুরগিও দেয়া হয় শিকারের জন্য।
আমাদের অনেক বিষয় নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। সাপ যদি মৃত খাবার খায় তবে জীবিত প্রাণী এভাবে না দেয়ার জন্য অনুরোধ রইল। এ বিষয়ে কোনো আইন বা গবেষণার প্রয়োজন হলে সেটিও পরিবেশ, বন, জলবায়ু মন্ত্রণালয় চিন্তা করবে প্রত্যাশা তাই।
চিড়িয়াখানা, সাফারি পার্ক এমনিতেই বদ্ধ জায়গায় প্রাণীদের হাহাকারে পরিপূর্ণ থাকে। আমরা মানুষেরা তা দেখে মনে করি বা ভাবি প্রাণী দেখছি এটাই প্রাপ্তি। এর বাইরেও চিন্তা আছে। চেতনার জায়গায় আনতে হবে তারা বদ্ধ অবস্থায় তাদের জীবনের স্বাদ হারিয়ে মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে! বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম করা হচ্ছে বর্তমানে যাতে তারা সঠিকভাবে বিচরণ করতে পারে। একজন মানুষকে যদি হঠাৎ বনে নিয়ে আটকে রাখা হয় তবে নিশ্চয়ই সে তার জীবনের সবটুকু স্বাদ হারাবে! সেদিন বিবেচনায় চিড়িয়াখানা বা বদ্ধ জায়গায় বন্যপ্রাণী রাখার ক্ষেত্রে আরো শান্ত ও বৃক্ষশোভিত পরিবেশ দেয়াটা খুবই জরুরি। প্রাণীদের অধিকার সংরক্ষণে তাদের জন্য আরো বিস্তর ও কার্যকরী ভাবনা ও গবেষণার জন্য প্রস্তাব রাখছি। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হতে সংগৃহীত। যারা এ বিষয়ে কথা বলেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সম্মিলিতভাবেই আমাদের সুন্দর ও মানবিক কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে হবে। দেখে আমারও খারাপ লেগেছে। চিন্তায় এসেছে অন্য প্রাণীদের অনেক কষ্টের জীবনযাপনের কথা। কয়েকদিন আগে গাজীপুরের তরুণ কবি মেহেদী হাসান রনী তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছিল বনের মধ্যে গাড়ির গতিসীমা বেঁধে দেয়ার জন্য কারণ ভাওয়াল মধুপুরের গড়ে প্রায়ই মেছো বাঘ, বন বিড়াল, বানরসহ অন্যান্য প্রাণী সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে মরে থাকে। এই প্রাণীরা লাইট দেখলে ভয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে মারা যায়। সে ক্ষেত্রে গাড়ির গতি কম থাকলে এদের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। গতবার বর্ষায় আমি লিখেছিলাম নদী ভ্রমণের সময় যাতে উচ্চৈঃস্বরে মাইক না বাজানো হয়, কারণ নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে শব্দের পর যদি এমন কোনো ভাইব্রেশনাল সাউন্ড জলে প্রবেশ করে, তবে জলজ প্রাণীরা ভয় পেয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হতে পারে। এক্ষেত্রে কখনো কখনো জলজ প্রাণী মারাও যেতে পারে। সুতরাং বনের ভেতরে, নদীতে আলাদা শব্দের মাত্রা নির্দিষ্ট করে প্রজ্ঞাপন জারি করা উচিত। বনের ভেতর গাড়ি চললে হর্ন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার বিধান করা হোক এবং বন শুরু হওয়ার রাস্তায় হর্ন বাজানো নিষেধ এই সাইনবোর্ড দিয়ে দেয়া হোক। বন্যপ্রাণী ও বনের সুরক্ষায় কার্যকরী চিন্তার পাশাপাশি গবেষণা বাড়ানোও খুব প্রয়োজন। আশা করি এ বিষয়গুলোও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছবে এবং আমরা একটি মানবিক পৃথিবী পাব।

গাজীপুর।
[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়