গ্রামের অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আর্থিক সমৃদ্ধি

আগের সংবাদ

যানজট নিরসনে নৌপরিবহনের সম্ভাবনা

পরের সংবাদ

পাখি নয় যেন সুনিপুণ কারিগর

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ , ৯:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ , ৯:২১ অপরাহ্ণ

‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়েঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই।’ বাসা তৈরিতে যে এমন সুনিপুণ কারিগর সে তো শিল্পের বড়াই করতেই পারে। চমৎকার বুননে বাসা তৈরির জন্য পরিচিত বাবুই পাখি। নান্দনিক এবং অসাধারণ শৈল্পিক বাসা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে এটি নিয়ে তৈরি হয়েছে বহু গবেষণাপত্র। অনেকে বাবুই পাখিকে প্রকৃতির তাঁতি বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন।
এদের বাসা দেখতে অনেকটা উল্টানো কলসির মতো। তাদের ঝুলন্ত বাসায় প্রবেশের সুড়ঙ্গ পথ আঁকাবাঁকা। সাধারণত গ্রীষ্মকাল এদের প্রজনন ঋতু। বাবুই পাখিকে দক্ষিণ এশিয়ায় এনডেমিক পাখিও বলা হয়। কারণ এরা দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, ভারত, নেপাল এবং বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানে সীমাবদ্ধ। এই চারটি দেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও এদের দেখতে পাওয়া যায় না। বাবুই পাখিকে শিল্পী বলা হয় তাদের সুনিপুণ বাসা তৈরিতে সূদক্ষতার জন্য। মানুষ যেমন নানারকম জিনিস দিয়ে নানা কায়দায় সযত্নে তার বাড়ি বানায় বাবুইও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু পাখিটির বাসা বুননে একটু লক্ষ্য করলে তা প্রতিটি মানুষকে মুগ্ধ করবে। পাখিরা তাদের বাসা বানানোর জন্য ঢালপালা, পালক, ঘাস বা বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে। বাসা বানানোর পেছনে তাদের পরিশ্রম, কৌশল বা বুদ্ধি যে কোনো মানুষ বা কারিগরকে সহজে হার মানায়। বাবুই পাখি বাসা তৈরিতে নলখাগড়া, কাশ বা হোগলা ব্যবহার করে। এক সময়ে গ্রামের আনাচে-কানাচে তালগাছের পাতায় পাতায় দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা।
বাসা বানানোর জন্য বাবুই খুব পরিশ্রম করে। ঠোঁট দিয়ে ঘাসের আস্তরণ সারায়। যত্ন করে পেট দিয়ে ঘষে (পালিশ করে) গোল অবয়বকে মসৃণ করে তোলে। শুরুতে দুটি নিম্নমুখী গর্ত থাকে। পরে একদিক বন্ধ করে ডিম রাখার জায়গা হয়। অন্যদিকটি লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ হয়।
বাসা তৈরির কাজের এক পর্যায়ে পুরুষ বাবুই পার্শ্ববর্তী বাবুইয়ের বাসায় গমন করে সঙ্গীর খোঁজে। সঙ্গী পছন্দ হলে পুরুষ বাবুই পাখি স্ত্রী বাবুই পাখিকে সঙ্গী বানানোর জন্য ভাব-ভালোবাসা নিবেদন করে। সেই সঙ্গে বাসা তৈরির কাজ অর্ধেক হতেই স্ত্রী বাবুইকে কাক্সিক্ষত বাসা দেখায়। কারণ বাসা পছন্দ হলেই কেবল স্ত্রী বাবুই সম্পর্ক গড়ে তোলে। স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকি কাজ শেষ করতে পুরুষ বাবুই পাখির সময় লাগে চার থেকে পাঁচ দিন।
তবে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে একদিকে পরিবেশের বিপর্যয় অন্যদিকে সামাজিক অসচেতনতা এবং পাখি শিকারের ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির তাঁতি। পাশাপাশি যত্রতত্র বৃক্ষনিধন, বন উজাড়, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলা পাখিটি আজ বিলুপ্তের পথে। শৈল্পিক এই পাখিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমার আপনার আমাদের সবার। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশে স্থান না পেলে একদিন জাদুঘরে ঠাঁই হবে প্রাকৃতিক এই শিল্প। কাজেই আমাদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়