মিয়ানমারে জরুরি অবস্থার মধ্যেও টেকনাফে এসেছে আচার ও শুটকি

আগের সংবাদ

পাখি নয় যেন সুনিপুণ কারিগর

পরের সংবাদ

গ্রামের অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আর্থিক সমৃদ্ধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ

মাত্র একটি দশকের মধ্যেই সবকিছু কেমন যেন ভেতরে ভেতরে একদম বদলে গেল। একেবারে খোলনলচে বদলানোর মতোই! সেই শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবন আর যৌবন থেকে পৌঢ়ত্বে পরিবর্তন হওয়ার মতো যেন।
এই বদল যেমন ঘটেছে এই ঢাকা শহরে, তেমনি ঘটেছে গ্রামেও। আর এই বদল শুধু তো বাহিরেরই নয় বহিরাঙ্গের সঙ্গে পরিবর্তন ঘটেছে অন্তরঙ্গেরও কম নয়। মনমানসিকতারও ঘটে গেছে এক আমূল পরিবর্তন। এ যেন এক বিবর্তন! গ্রাম যেমন আর সেই আগের গ্রাম নেই, গ্রামের পরিবেশও সেই আগের মতো নেই এবং গ্রামের মানুষও আর আগের মতো নেই।
গ্রামের সেই কাদামাখা রাস্তাগুলো এখন কালো পিচঢালা পাকা সড়ক। ধূলি-ধুসরিত প্রধান সড়ক থেকে আগে এক সময় শত গজ দূরে থাকতে হতো ট্রাক কিংবা কোনো হঠাৎ চলা গাড়ির চাকায় উড়া ধুলোয় শরীর ধুসরিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য। সেই বড় সড়কসহ গ্রামের ভেতরের কাঁচা রাস্তাগুলো থাকত ভাঙা, এবড়োথেবড়ো। দুপাশের জমির উঁচু দিক থেকে নিচু দিকে বর্ষার জলপ্রবাহের জন্য কিছুদূর পর পর এই রাস্তাগুলো যেত ভেঙে। বর্ষায় ছিঁড়ে যাওয়া এসব রাস্তা আর মেরামত হতো না। এমনি পড়ে থাকত যুগের পর যুগ ধরে। এখন বড় সড়ক তো বটেই, গ্রামের ভেতরের চিকন কাঁচা রাস্তাগুলো পর্যন্ত পাকা হয়ে গেছে। আর সেসব সড়ক ও রাস্তার বর্ষার জলপ্রবাহে সেই স্থানে স্থানে ভেঙে যাওয়া জায়গায় তৈরি হয়েছে পাকা ছোটখাটো ব্রিজ কিংবা কালভার্ট। আর গ্রামের রাস্তার এসব ব্রিজ-কালভার্ট এবড়োথেবড়ো আর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন রাস্তাকে করে রেখেছে নিরবচ্ছিন্ন। ঝকঝকে। এই রাস্তা দিয়ে এখন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম হয়ে যাওয়া যায় সর্বত্র, যদিও এসব পাকা সড়কের কিছু কিছু পুরনো হয়ে পড়ায় কোথাও কোথাও ভেঙে ভেঙে বাহনকে করে তোলে এক একটি দোদুল্যমান নাগরদোলা যেন।
গ্রামে আর একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে সবার চোখের আড়ালে। কোথাও আর সেদিনের সেই শতচ্ছিন্ন কুঁড়েঘর, সেই কুঁড়েঘরের চালে পচে-গলে ঝুলে থাকা খড়ের ছাউনির দৃশ্য এখন আর চোখেই পড়ে না কোথাও। বিশেষত আমার এলাকা বৃহত্তর রংপুরের লালমনিরহাট জেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের আমার গ্রামের বিষয়ে এ কথা আমি নিজে জানি। আমার গ্রামে এখন ছোট-বড় টিনের ঘর, খুব গরিব হলেও টিনের ঘরের পরিবর্তে টিনের চালা ছাড়া আগের অভাবী দিনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘খড়ের-ঝুপড়ি’ আর নেই। সেই সঙ্গে চারদিক খোলা আদুল ল্যাংটা সেদিনের সেই বাড়ির পরিবর্তে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি এখন চতুর্দিকে টিনেরই ঘেরা দিয়ে সুরক্ষিত। আগের মতো শেয়াল কুকুর বিড়াল কিংবা ছোট ছেলেমেয়েদের বাড়ির একদিক দিয়ে ঢুকে ভেতরের আঙিনা দিয়ে দৌড়িয়ে বের হওয়ার পথ রুদ্ধ করে রেখে যেন বাড়ির এসব ‘ঘেরা’ আজ বিচ্ছিন্ন, স্বার্থপর এবং আত্মকেন্দ্রিকতার পরিণত হয়ে যাওয়া এই পরিবর্তিত সমাজ আর মানুষেরই প্রতিনিধিত্ব করছে গ্রামে গ্রামে।
গ্রামের এসব পরিবর্তন কৃষকদের আজকের আর্থিক সচ্ছলতার এক অনন্য উদাহরণ বলে আমি মনে করি।

লেখক ও অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম কর কমিশনার।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়