ইউল্যাব শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, আটক ৩

আগের সংবাদ

রাজধানীতে এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

পরের সংবাদ

ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের পুনরায় তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে বিশৃঙ্খলা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২১ , ১০:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২১ , ১০:৪১ অপরাহ্ণ

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) নির্দেশনা অনুযায়ী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের (৯৬ জন) পুনরায় তথ্য যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যাচাই বাছাইয়ের প্রথম দিনেই এই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ এই কার্যক্রম বর্জন করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

জানা যায়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক গঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের বেসামরিক গেজেট যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামকে মনোনীত করা হলেও পরে তাকে সভাপতি থেকে সরিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কাউছার আলীকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়। এ নিয়ে এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে হওয়া এই যাচাই বাছাইয়ের কার্যক্রমে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দেয়।

যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি আলহাজ নজরুল ইসলামকে একদিন আগে (শুক্রবার) সভাপতি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তার পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধা কাউছার আলীকে এই কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়। শুক্রবার জামুকা থেকে কমিটির সভাপতি পরিবর্তনের বিষয়টি ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। তবে তা মানতে নারাজ মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ এই বাছাই কার্যক্রম বর্জন করেন। তাদের অভিযোগ, যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষে নজরুল ইসলামকে সরিরে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অপর অংশ এই অভিযোগ সস্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন।

জামুকার নির্দেশনা মোতাবেক দেশের অন্যান্য স্থানের মতো শনিবার দৌলতপুর উপজেলায়ও ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সরকারি তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনরায় তথ্য (বেসামরিক গেজেট) যাচাই বাছাই শুরু হয়। এর আওতায় রয়েছেন এ উপজেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৯৬ জন মুক্তিযোদ্ধা। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনভর এখানকার সম্মানি ভাতাভোগী এই ৯৬ জন মুক্তিযোদ্ধার পুনরায় তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কার্যক্রম নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ যাচাই বাছাই কার্যক্রম বয়কট করে মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে যান।

মুক্তিযোদ্ধা কাউছার আলীকে সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তারকে সদস্য সচিব করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট দৌলতপুর উপজেলায় ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ৯৬ জনের পুনর্বারের এই যাচাই বাছাই কমিটি গঠন করে জামুকা। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব মোল্লা ও মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী। নতুন করে যাচাই বাছাইয়ের আওতায় আসা ৯৬ জন ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে শনিবার প্রথম দিনে ৪০ জনের মতো কাগজপত্র দেখেছেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এজাজ আহমেদ মামুন উপস্থিত ছিলেন। আগামী দুই দিন এই কার্যক্রম পরিচালনার নির্ধারিত সময় থাকলেও রোববারই মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যাবে কারা থাকছেন কিংবা কারা বাদ পড়ছেন।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, রাতের আঁধারে কেন্দ্র অনুমোদিত যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ নজরুল ইসলামকে বাদ দেয়ার কারণে এখানে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের নামে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্য হচ্ছে। ৬০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান যাচাই বাছাই কমিটির বিতির্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জামুকার অনুমোদিত কমিটির সভাপতি থেকে বাদ পড়া গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, কমিটিতে আমি থাকলে অর্থ বাণিজ্য ও দুর্নীতি করা যাবে না বলে আমাকে ষড়যন্ত্র করে বাদ দেয়া হয়েছে। শুনছি এই কার্যক্রমকে ঘিরে ব্যাপক অর্থ লেনদেন হয়েছে। তবে কমিটিতে আমি থাকলে সেটি হতো না। এর সাথে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন বলে তিনি মনে করছেন।

এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি কাউছার আলী বলেন, ২০১৭ সালে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের সময় আমি জাতীয় কমিটির সদস্য ছিলাম। সেই সূত্রে আমাকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি খুবই আকস্মিক, এ কারণে আগে জানতাম না।

নজরুল ইসলামকে সভাপতি করেও পরে প্রত্যাহারের বিষয়ে কাউছার আলী বলেন, ২০০৫ সালে বিএনপির সময় তার (নজরুল ইসলাম) হাত দিয়ে এখানকার মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা করা হলেও তিনি তা জামুকাকে অবগত করেননি। সে সময় নজরুল ইসলাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জামুকার সংশয় দেখা দেয়ায় কারণেই সম্ভবত তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এখানে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না, সবার কাগজপত্র সঠিক থাকলে তারা সবাই টিকে যাবেন।

ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের (৯৬ জন) নতুন করে তথ্য যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার বলেন, অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ নেই। যদি কেউ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত হন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র কথা বলবে। যার কাগজপত্র সঠিক রয়েছে তাকে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। আবার যার কাগজপত্র ঠিক নেই তাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করারও সুযোগ নেই।

ইউএনও আরও বলেন, জামুকা কর্তৃক প্রদত্ত ক, খ, ও গ ক্যাটাগরিতে যাচাই বাছাই কার্যক্রম চলছে। যাদের সব কাগজপত্র সঠিক আছে তারা ক ক্যাটাগরিতে, যাদের কাগজপত্রে একটি কম আছে তারা খ ক্যাটাগরিতে এবং যাদের কাগজপত্রের কোনোটাই সঠিক নেই তারা গ ক্যাটাগরিতে পড়বেন এমনটাই নির্দেশনা দিয়েছে জামুকা। তবে কেউ ইচ্ছা করলে জামুকা আপিল করতে পারবেন সেই সুযোগও রাখা হয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।