মার্চেও না খুলতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আগের সংবাদ

সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে তিনগুণ

পরের সংবাদ

চ্যাপ্টা গাড়ি বানিয়ে গিনেজ বুকে নাম

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২১ , ২:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২১ , ৩:১২ অপরাহ্ণ

ব্রিটিশ নাগরিক অ্যান্ডি সন্ডার্সের শখ পুরনো গাড়ি নিজের মতো ডিজাইন করা। ২০০৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে চ্যাপ্টা গাড়ি তৈরি করে অনেকের দৃষ্টি কেড়েছিলেন তিনি। এ কারণে গিনিস বুকেও নাম উঠেছিল তার। খবর ডয়েচ ভেলের।

ব্রিটিশ নাগরিক অ্যান্ডি সন্ডার্সের শখ পুরনো গাড়ি নিজের মতো ডিজাইন করা। তিনি বলেন, এটা আমার মুখে হাসি নিয়ে আসে। এটাই আমার বানানো সবচেয়ে সেরা গাড়ি। এটা যেন একটা ‘আর্ট ডেকো’ ভাস্কর্য আর প্রোটোটাইপের মিশ্রণ। এটা আপনাকে অনেক আনন্দ দেয়, কারণ এটা এমন এক সময়ের, যেটা চলে গেছে। আবার অন্যদিকে, এটা নয়। কারণ, এটা একটা কাস্টম কার। সুতরাং এটা সবকিছুর একটা মিশেল।

সন্ডার্সের শখ এমন সব ডিজাইনের গাড়ি তৈরি, যা আগে কেউ দেখেনি। সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তিনি সেটা করেন।

২০০৩ সালে ‘টিটেনাস’ বানানো শুরু করেন তিনি। এজন্য মার্কিন লাক্সারি গাড়ি ব্র্যান্ড ‘কর্ড’-এর ১৯৩৭ সালের একটি গাড়ি বেছে নিয়েছিলেন। অধিকাংশ সময় ভাঙা ওল্ডটাইমার দিয়ে কাজ করেন তিনি।

যেমন ১৯৪০ এর দশকের এক ভাঙা পুজো পিকআপ ট্রাক দিয়ে সন্ডার্স ‘মেট্রোপলিস’ বানিয়েছেন।

যখন কাজ করেন তখন সময়ের কথা ভাবেন না তিনি। সন্ডার্স বলেন, যখন কাজ করি তখন যে আমার কী হয় তা আপনাকে বোঝাতে পারবো না। এটা নেশার মতো। এই সময় আপনি কিছু তৈরি করেন না, সৃষ্টি করেন। গাড়িটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, তা এখানে ভাবার বিষয় নয়। পরিকল্পনাটা গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কিছুর গুরুত্ব নেই।

টিএনএজ বয়সে বাবার গ্যারেজে গাড়ি ঠিক করার কাজ করেছেন সন্ডার্স। ১৯৮৪ সালে তিনি যখন এই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছিলেন তখন ইউরোপের মিডিয়ায় খবর হয়েছিল। সন্ডার্স বলেন, ১৯৭০-এর দশকে সায়েন্স ফিকশন মুভিতে দেখানো গাড়ি বানাতে চেয়েছি আমি। জানি না কেন এমনটা মনে হয়েছিল। আমি করেছি, কারণ, আমার করতে হতো। আগেও যেমনটা বলছিলাম, যখন আমার মাথায় আইডিয়া আসে তখন সেটা শেষ না করা পর্যন্ত মাথা থেকে যায় না। আর যখন শেষ হয়, তখন আগ্রহও চলে যায়।

২০০৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে চ্যাপ্টা গাড়ি তৈরি করে অনেকের দৃষ্টি কেড়েছিলেন সন্ডার্স। এ কারণে গিনিস বুকেও নাম উঠেছিল তার।

২০১০ সালে পিকাসোর ‘কিউবিজম’ আর্ট মুভমেন্ট থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে এই গাড়িটি বানিয়েছিলেন, যে কারণে মিডিয়া তাকে ‘ব্যাংকসি অফ দ্য অটোমোবাইল’ নাম দিয়েছিল। অ্যান্ডি সন্ডার্স বলেন, ব্যাংকসি যত দ্রুত গ্রাফিতি আঁকতে পারেন আমি তত তাড়াতাড়ি গাড়ি বানাতে পারলে ভালো হতো। আপনি যখন এমন সব কাজ করেন তখন আপনি জানেন যে, আপনি সবকিছু বিরুদ্ধে যাচ্ছেন। আমার মনে হয়, এটা ভেবে ব্যাংকসি কাজ শুরু করেছিলেন। মিডিয়া তাকে আলোচনায় এনেছে বলে আমি মনে করি। হয়ত তিনি শুধু আনন্দের জন্য এসব করেছেন। যেমন আমিও শুধু আনন্দের জন্যই এসব করি।

অনেক আর্ট গ্যালারিতে সন্ডার্সের গাড়ি প্রদর্শিত হয়েছে। ২০০১ সালে ব্রিটেনের ‘টার্নার প্রাইজ’-এর জন্য তার কয়েকটি গাড়ি মনোনীত হয়েছিল। ফলে একটা বিষয় পরিষ্কার, সন্ডার্সের পরবর্তী গাড়িটা সবার সেরা ও সবচেয়ে সুন্দর হবে।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়