ঢাকার পরীক্ষাতেও যুক্তরাজ্যের সেই ২৫ প্রবাসীর করোনা নেগেটিভ

আগের সংবাদ

বিপুল ভোটে রেজাউল করিম চৌধুরীর জয়

পরের সংবাদ

টিকার যুগে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২১ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২১ , ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ

দেশের ইতিহাসে প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করলেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু বেরোনিকা কস্তা। এর মধ্য দিয়ে টিকা গ্রহণের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। আমরা আনন্দিত। গতকাল বিকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বহুল প্রত্যাশিত এই পরীক্ষামূলক টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশব্যাপী গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। আপাতত বিশ্বব্যাপী এই টিকাই মানুষকে করোনা থেকে সুরক্ষার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বাংলাদেশও সেই সুরক্ষা কবচের আওতায় প্রবেশ করছে। তবে টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কাই বা কতটুকু এসব প্রশ্ন আছে অনেকের মনে। সব ধরনের টিকারই কিছু না কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে।

বাংলাদেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি নভেল করোনা ভাইরাসের যে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে, সেটিও ব্যতিক্রম নয়। কোভিশিল্ড টিকার সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সেরাম ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এ টিকা নেয়ার পর হাল্কা গা ব্যথা, শরীর গরম, লালচে হয়ে যাওয়া, চুলকানি, টিকা দেয়ার স্থান ফুলে যাওয়া, সেখানে ক্ষত হওয়া, অসুস্থ-ক্লান্ত বোধ করা, ঠাণ্ডা বা জ্বর জ্বর লাগা, মাথাব্যথা, বমি ভাব, জ্বর, ফ্লুর উপসর্গ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে কারো কারো ক্ষেত্রে। টিকা নিয়েছেন এমন ১০ জনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে এসব সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভারতের আবহাওয়া, সংস্কৃতি এবং মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মিল রয়েছে। এ কারণে সেখানে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ভালো ফলাফল বাংলাদেশের জন্য আশা জাগানিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পর্যবেক্ষণে আমরা আশাবাদী হতে চাই। বাংলাদেশ কিনেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভাইরাসের টিকা। সেরাম ইনস্টিটিউট বিশ্বে টিকার সবচেয়ে বড় উৎপাদক প্রতিষ্ঠান।

আজ পাঁচ হাসপাতালের ৪০০ থেকে ৫০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে দেয়া হবে টিকা। তাদের টিকা দেয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই করে ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গণটিকাদান কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হবে। এরপর দ্বিতীয় মাসে ৫০ লাখ এবং তৃতীয় মাসে আবারো ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে টিকা আসবে এবং ধাপে ধাপে দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। আমরা ভয় ও শঙ্কা কাটিয়ে উঠে টিকা গ্রহণে উৎসাহী হতে চাই। পাশাপাশি সঠিক ব্যবস্থাপনায় টিকা বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী টিকা বণ্টনের গাইড তৈরি করে দিয়েছেন। সেভাবে যেন বণ্টন প্রক্রিয়া ঠিক থাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে হবে। কারণ করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুত, এর কার্যকারিতা এবং সুষ্ঠু বণ্টনের ওপর নির্ভর করছে করোনার ভবিষ্যৎ। করোনা ভাইরাস হলো বৈশ্বিক অতিমারি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই বিশ্বকে এর সমাধানে একসঙ্গেই কাজ করতে হবে। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও তাই। সব দেশ যেন ভ্যাকসিন পায় এবং জনগণকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মুক্ত করতে পারে।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়