লন্ডন থেকে সিলেটে আসা ২৮ প্রবাসী করোনা পজিটিভ

আগের সংবাদ

কর্নেল (অব.) শওকত আলী জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি

পরের সংবাদ

১৬ বছরেও কিবরিয়া হত্যার বিচার হলো না

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২১ , ১২:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ , ৯:৫১ অপরাহ্ণ

আজ শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পূর্ণ হলো। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় যে, দীর্ঘ ষোলো বছরেও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার বিচার হয়নি। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে তার নির্বাচনী এলাকা হবিগঞ্জে জনসভা শেষে গাড়িতে ওঠার সময় সুপরিকল্পিত গ্রেনেড হামলায় তিনি নিহত হন। গাজীপুর জেলার জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং কয়েকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যার পর হবিগঞ্জের সংসদ সদস্য এস এ এম এস কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টেকনোক্রেট কোটা থেকে শামস কিবরিয়াকে মন্ত্রী করা হয়েছিল। অবশ্য ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পর এই প্রখ্যাত ক‚টনীতিবিদ দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত হন। তাছাড়া ’৯৬-এর নির্বাচনে কিবরিয়া আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন। এরপর শেখ হাসিনার ৫ বছরের শাসনামলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চাঙ্গা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অর্থমন্ত্রী শাহ কিবরিয়া। ২১ বছর পর দলকে ক্ষমতায় আনতে যেমন কিবরিয়ার বুদ্ধিমত্তা, কৌশল ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কাজে লেগেছে তেমনি অর্থমন্ত্রী হিসেবেও তিনি ছিলেন অনন্য ও অসাধারণ। আর এ জন্যই তিনি শত্রু পক্ষের টার্গেটে পরিণত হন। ছাত্র হিসেবে, কূটনীতিক হিসেবে, মন্ত্রী হিসেবে, জননেতা হিসেবে, লেখক-সম্পাদক হিসেবে, বন্ধু হিসেবে সর্বক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন এক অনন্য মানুষ। তার ন্যায়পরায়ণতা, সততা, যোগ্যতা, দক্ষতার কোনো তুলনা হয় না। এই মানুষটিকেই চারদলীয় জোট সরকারের লেলিয়ে দেয়া মানুষরূপী জানোয়াররা হত্যা করেছে। কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড কোনো মামুলি হত্যাকাণ্ড নয়। এর সঙ্গে তৎকালীন জোট সরকারের হোমরাচোমরারা জড়িত রয়েছে বলেই অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। শামস কিবরিয়াকে হত্যার পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট সরকার অন্তত এক বছর নয় মাস রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। কিন্তু ওই সময়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান মানুষটির দেশ-বিদেশে আলোচিত-আলোড়িত চাঞ্চল্যকর হত্যার বিচার শুরু করা দূরের কথা, একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত পর্যন্ত করা হয়নি।
১৬ বছর ধরেই আমি এই কিবরিয়া হত্যা-ষড়যন্ত্র নিয়ে লিখে আসছি। শামস কিবরিয়ার প্রয়াত সহধর্মিণী আসমা কিবরিয়া বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাৎকারে বলে গেছেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সে সময়কার চেয়ারম্যান জি কে গউস কিবরিয়া হত্যা-ষড়যন্ত্রে জড়িত।’ কিবরিয়া পরিবার গোড়া থেকেই বলে আসছে, হত্যাকারীদের সঙ্গে হত্যার মদদদাতাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিএনপির রুই-কাতলারা যে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকের ধারণ, শুধু কিবরিয়া হত্যা-ষড়যন্ত্রে জড়িত বলেই দুই দশক ধরে পলাতক রয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রভাবশালী একান্ত সচিব হারিছ চৌধুরী। তা ছাড়া খালেদাপুত্র তারেক রহমানের খাস গোলাম তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ফখরুদ্দীন আমলে তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছেন, হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি কিবরিয়া হত্যার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
কিবরিয়া পরিবার কিবরিয়া হত্যার বিচারের ব্যাপারে খুবই হতাশ। ক্ষোভের সঙ্গে কিবরিয়াপুত্র ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত ছাড়া তো মামলার বিচার হতে পারে না।’ যার শেষ ভালো, তার সব ভালো। কিবরিয়ার দল টানা ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায়। আমরা আশা করব, দেশ ও জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য বিচার হবে। ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশের অর্ধশতাব্দীর ইতিহাসে অন্যতম সুযোগ্য, সফল ও জনপ্রিয় সাবেক অর্থমন্ত্রী, খ্যাতিমান সচিব ও ক‚টনীতিবিদ, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ক্ষণজন্মা শামস কিবরিয়ার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

মোহাম্মদ শাহজাহান : বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে গবেষক; সম্পাদক, সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়