কুড়িগ্রামে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত

আগের সংবাদ

চুরির জন্য বেছে নেয় ভোরের সময়টিকে

পরের সংবাদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২১ , ৯:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২১ , ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে গত ১৭ মার্চ থেকে এ বছরের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য যে নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রায় পুরোটাই শিক্ষকদের ওপর পড়বে। কিন্তু যে শিক্ষকদের ওপর এ দায়িত্ব অর্পণ করছে সরকার সে শিক্ষক সমাজ কি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে? শিক্ষকরা কি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে? কেবল নিজেদের উদাসীনতা এবং অবহেলা মনোভাবের কারণে কত শিক্ষক এ রোগে মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রাথমিক কিংবা মাদ্রাসার শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যাও কম নয়। এ ছাড়া ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান কিংবা এইচএসসিতে ভর্তি ও বই প্রদানের সময় কোনো প্রতিষ্ঠান কি স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারছিল? নাকি কেবল দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন টাইপের পোস্টার একটা টানানোই দায়িত্ব শেষ করেছে? বাংলাদেশের ৯৫ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক মিলনায়তন বলতে যা বুঝায় তা একটি মাত্র কক্ষকে বুঝায়, সুতরাং সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে বসা সম্ভব নয়, তার কারণ জায়গা সংকুলান। এ ছাড়াও শিক্ষকদের অধিকাংশই মাস্ক পরাসহ একে অপর থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং হাত ধৌত করা এসব কখনই মানেন না। আবার কোনো কোনো শিক্ষক করোনা ভাইরাস আছে বলে বিশ্বাসই করেন না। এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের ওপর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়টি কতটুকু যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত?

শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এলে তাদের টিফিন, খেলাধুলা সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এসব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেননা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা দারোয়ানের মতো কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গনিরোধের প্রচেষ্টা চালাবে, সবচেয়ে বড় কথা হলো মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাওয়া-আসা করে দূরদূরান্ত থেকে, যার অধিকাংশের মাধ্যম হলো রিকশা, সিএনজি, অটোরিকশা, লেগুনা ও সাধারণ যাত্রীবাহী বাস। ফলে এসব থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এবং একজন থেকে অন্যজনে ছড়ানোর প্রবণতা অনেক বেশি। সরকার গত ১০ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পেছনে মূল যুক্তিটা ছিল ‘শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চায় না’। সরকারের এ বাণীটি বাংলাদেশের শিক্ষা পরিবারের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের এমন দায়িত্বশীল মনোভাব দেশ-বিদেশে মডেল বলা চলে। বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাসের টিকা আসা শুরু হয়েছে সুতরাং সরকারের উচিত শিক্ষা পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে টিকা দিয়ে প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেয়া। শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের শেষ নিরাপদ কর্তব্য হলো টিকাদান করা। এটি করা গেলে বলা যাবে সরকার তার দেশের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য কোনো ঝুঁকি নেয়নি বরং টিকা নিশ্চিত করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত শতভাগ যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত হবে। অন্যথায় বিভিন্ন এনজিও, সংস্থার শত সমালোচনা শুনেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে না দেয়ার সুনাম অর্জনটি ম্লান হয়ে যেতে পারে।

-এমফিল (গবেষক), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়