গৃহহীনদের স্বপ্নের নীড়, জয়তু শেখ হাসিনা

আগের সংবাদ

স্বপ্নের বছর, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও নিরাপদ সড়ক

পরের সংবাদ

লোকালয়ে এসে বাঘ কেন মানুষ খাবে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২১ , ৯:১৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২১ , ৯:১৮ অপরাহ্ণ

 

সুন্দরবনের আশপাশের এলাকার লোকালয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে মাঝেমধ্যেই। সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাঘের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন তিন মৎস্যজীবী। পরে এদের মধ্যে একজন ফিরে এলেও পশ্চিম কৈখালী গ্রামের দুজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশে বর্তমানে বেঁচে থাকা সীমিতসংখ্যক বাঘ ও বনে খাদ্যাভাব, পানি এবং মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে নিজ আবাসস্থল ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে এসে মানুষসহ নানা প্রাণী হত্যা করে ক্ষুধা নিবৃত্ত করা বাঘের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ১০ বছরে কমপক্ষে এক-দেড় ডজন মানুষকে হত্যা করেছে। সুন্দরবনে বেঁচে থাকার প্রতিকূল পরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতা ও পর্যাপ্ত খাদ্যাভাবে বাঘ সুন্দরবন সংলগ্ন খাল এবং নদী পেরিয়ে লোকালয়ে এসে মানুষকে আক্রমণ করতে বাধ্য হয়। সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশে বর্তমানে বেঁচে থাকা সীমিতসংখ্যক বাঘ ও পশুপাখির আবাসস্থলের অভাব এবং প্রবল খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সুন্দরবনের তিন দিকে থাকা ঘনবসতিও বাঘের অস্তিত্ব বিপন্নের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সুন্দরবনের রয়েছে এক নিবিড় সম্পর্ক। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বসতি স্থাপন, আবাদি জমি তৈরি, গৃহনির্মাণ ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের তাগিদে নির্বিচারে কাটা হয়েছে সুন্দরবনের সুন্দরী গাছসহ নানা প্রজাতির গাছপালা। সুন্দরবনকে ঘিরে থাকা ৬৭টি গ্রামের মানুষের কার্যকলাপ ও আচরণের ওপর নির্ভরশীল সুন্দরবন ও সুন্দরবনে বাঘের বেঁচে থাকা। সুন্দরবনের নৌপথ দিয়ে বিপজ্জনক নৌযান চলাচল বন্ধ না হলে বাঘের জীবনযাপন বির্বিঘ্ন হবে না।

বাঘ সাধারণত মানুষকে আক্রমণ বা হত্যা করে না। লোকালয়ে এসে মানুষ হত্যাসহ অস্বাভাবিক আচরণ করার পেছনে অমানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। চোরা শিকারিরা বাঘকে নানা রকম অখাদ্য-কুখাদ্য ও নেশাদ্রব্য খাইয়ে ক্রমে দুর্বল করে ফেলে। এমনকি দূর থেকে বাঘের দেহে বিষাক্ত ইনজেকশন ছুড়ে মারার মতো নৃশংস কাজ করতেও শিকারিরা দ্বিধাবোধ করে না। মাতাল বাঘ খাবারের সন্ধানে সুন্দরবন সংলগ্ন নদী পার হয়ে লোকালয়ে এসে নিরীহ গবাদিপশু, এমনকি মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়।

লোকালয়ে আসা বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। ১৯৮০ থেকে ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চোরা শিকারি, বনদস্যু ও গণপিটুনিতে ৬৭টি বাঘ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে বাঘ, চিত্রা হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার নিষিদ্ধ হলেও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় হরহামেশা চোরা শিকারিরা সুকৌশলে হত্যার পর বাঘের চামড়া, মাংস, হাড়, দাঁত ও চর্বি উচ্চমূল্যে বিক্রি করে অবৈধ অর্থ উপার্জনের উন্মত্ত নেশায় মেতে ওঠে। ফলে সুন্দরবনে বাঘের নির্বিঘ্নে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের প্রাণিবৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে চোরা শিকারিদের বাঘ হত্যার মতো সব অপতৎপরতা বন্ধ করা জরুরি। ইউনেস্কো কর্তৃক সুন্দরবনকে ৫২২নং বিশ্ব-ঐতিহ্য এবং ৫৬০তম রামসার অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১০ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইনের ৩নং বিধি অনুযায়ী পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার জলাভূমির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা নষ্ট করা আইনত দ-নীয় অপরাধ। সুন্দরবনে বাঘের বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্যের জোগান দেয়াসহ বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা অত্যাবশ্যক। সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় বন এলাকায় বাড়াতে হবে টহলদারি।

বাঘসহ যে কোনো বন্যপ্রাণী হত্যার বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ ও জনমত গড়ে তোলাও জরুরি। বিলুপ্তপ্রায় বাঘ নিশ্চিহ্ন হলে ঐতিহ্য হারাবে সুন্দরবন। আর সুন্দরবন বিলুপ্ত হলে বিপন্ন হবে বাংলাদেশ।

মালিবাগ, ঢাকা

[email protected]

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়