করোনার টিকা নিয়ে স্বস্তি-অস্বস্তি

আগের সংবাদ

নৌকা-ধানের শীষের লড়াই

পরের সংবাদ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হোক অবাধ ও সুষ্ঠু

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২১ , ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ

আজ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নগরবাসী বেছে নেবে তাদের আগামী দিনের নগর প্রতিনিধিকে। নগর ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রদানের প্রেক্ষাপট থেকে যেমন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকেও তেমনি এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তবে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়টাও মোটামুটি শান্তিপূর্ণ কেটেছে, প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদেরও পরস্পরের প্রতি সৌহার্দপূর্ণ আচরণ লক্ষণীয় ছিল। এবার চ‚ড়ান্ত পরীক্ষা! ভোটগ্রহণ এবং পরবর্তী পর্যায়গুলো সুষ্ঠু ও নির্বিঘœভাবে সম্পন্ন হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, ৪০টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৭২ জন এবং ১৪টি সংরক্ষিত পদে ৫৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই নির্বাচনে কয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপি মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ইতোমধ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে সবাই অপরূপ এক স্বপ্নের শহর গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রত্যেকেই যানজটমুক্ত, দূষণমুক্ত, সচল, ইন্টেলিজেন্ট, সুন্দর বাসযোগ্য স্বপ্নের চট্টগ্রাম নগরী গড়ে তোলার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। মেয়র প্রার্থীদের এসব প্রতিশ্রæতির ফুলঝুরিতে ভোটাররা আকৃষ্ট হলেও নগর চিন্তকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের কর্তৃত্ব খুবই কম। তাদের কাজ করতে হয় বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে। নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে মেয়রদের কাছে। বাস্তবতা হচ্ছে, এগুলো আসলে প্রার্থীদের মার্কেটিং পলিসি। কেন্দ্রীয় সরকার মানে সরকারের সুদৃষ্টি ছাড়া ওইসব ইশতেহারের এক-তৃতীয়াংশও বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। মেয়ররা রাস্তার বাতি জ্বালানো, নগরের মশা মারা আর আবর্জনা পরিবহন ছাড়া কোনো কাজই এককভাবে করতে পারেন না। আমরা মনে করি, নির্বাচনী প্রতিশ্রæতিগুলো শুধু প্রতিশ্রæতির মধ্যে না থেকে আইনের সংস্কার এবং বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, তাহলেই নগরবাসীর প্রকৃত উন্নয়ন সেবা নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের দায়িত্ব হলো ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তার অনুক‚ল পরিবেশ নিশ্চিত করা। কমিশন ইতোমধ্যে সে ব্যাপারে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করেছে। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের যেমন, তেমনি অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, ভোটার এবং সমর্থনদানকারী রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভ‚মিকা প্রত্যাশা করছি আমরা। নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় থাকবে, ভোটারদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তা খোলা মনে মেনে নেয়াই গণতন্ত্রের শিক্ষা।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়