আগাম জাতের আলু চাষে অপার সম্ভাবনা: কৃষিমন্ত্রী

আগের সংবাদ

লোকালয়ে এসে বাঘ কেন মানুষ খাবে

পরের সংবাদ

গৃহহীনদের স্বপ্নের নীড়, জয়তু শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২১ , ৮:৩২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২১ , ৮:৩২ অপরাহ্ণ

 

আমাদের দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না, এমন ঘোষণা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ২০২০ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুজিববর্ষে দেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সরকার সব ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে। সে অনুযায়ী শুরু হয় প্রতিটি অঞ্চলে গৃহহীনদের তালিকা তৈরির কাজ। তালিকা তৈরি শেষে শুরু হয় বাড়ি নির্মাণের কাজ। এরই মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার বাড়ির কাজ শেষ হয়েছে। স্বপ্ন বাস্তবায়নে উদ্যমী একজন ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করছেন।

একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি সারাক্ষণ দেশ ও জাতির কল্যাণে সর্বদা কাজ করে চলেছেন। করোনার এই মহামারিতেও সব বাধা অতিক্রম করে মানবতার সেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে যিনি ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপদান করে চলেছেন। ক্ষমতার উচ্চ আসনে অবস্থান করেও যিনি দেশের গরিব-দুঃখী ও খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবেন ও তাদের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার মানবিকতার ছোঁয়া দেশ ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়েও স্থান করে নিয়েছে।

সমাজের গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষের কথা চিন্তা করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছেন। লাখ লাখ মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই বছর ২০ মে এলাকাটি পরিদর্শনে যান। তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন এবং গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারের স্থানীয় একজনের দানকৃত জমিতে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙন কবলিত ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা হতেই শুরু হয়ে ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের কার্যক্রম এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্পূর্ণ সরকারের অর্থায়নে ১৯৯৭ থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪টি ধাপে আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৬টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।

দেশের তৃণমূল পর্যায়ের গৃহহীন, ভূমিহীন, অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই বিশাল উপহার ইতিহাসে এক অনবদ্য সৃষ্টি হয়ে থাকবে আজীবন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এমন দৃষ্টান্তমূলক কাজ আগে কখনো দেখা যায়নি আর হয়তো দেখাও যাবে না ভবিষ্যতে। কেননা সাধারণ মানুষকে নিয়ে চিন্তা করা ও তাদের কল্যাণে কাজ করা মানুষ খুব কমই আছে। মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার এই উপহার বাংলার মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে। শুধু বাংলার মানুষ নয়, সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ছাপিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়েও প্রধানমন্ত্রীর মানবতার ছাপ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কথা আমরা সবাই জানি। বিতাড়িত অসহায় রোহিঙ্গাদের মানবতার চাদরে আগলে রেখেছেন তিনি। দেখিয়েছেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আস্থার জায়গা এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যিনি আশ্রয় দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন, খাবার দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছেন। সেই শেখ হাসিনার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আর আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই আহত ও ঘরহীন ছিল।

পরে তাদের আশ্রয় দেয়া ও নতুন ঠিকানা করে দিয়েছেন নোয়াখালীর ভাসানচরে। প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছেছে। এর আগে মালয়েশিয়া যেতে সমুদ্র উপকূলে আটকা পড়া আরো তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সেখানে রাখা হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে ১১৩৪ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।

শুধু এখানেই শেষ নয়, করোনা ভাইরাসের মহামারিতে দেশের সংকটের সময়ে গরিব কৃষকদের সাহায্য করা। কাজ হারানো বহু মানুষের খাদ্য সহযোগিতা, ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের গৃহায়ন ব্যবস্থা করে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে কাজ করে চলেছেন অবিরাম। দেশের সব বাধা অতিক্রম করে, সব কুচক্রীদের তুচ্ছজ্ঞান করে দেশ ও জাতির কল্যাণে ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লালিত স্বপ্ন পূরণে অবিরাম ধারায় কাজ এগিয়ে যাক দেশরতœ শেখ হাসিনা।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়