কর্নেল (অব.) শওকত আলী জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি

আগের সংবাদ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হোক অবাধ ও সুষ্ঠু

পরের সংবাদ

করোনার টিকা নিয়ে স্বস্তি-অস্বস্তি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২১ , ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ , ১০:০৫ অপরাহ্ণ

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা করোনার টিকার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ বাংলাদেশে এসেছে ২৫ জানুয়ারি। সেরাম থেকে মোট ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার বন্দোবস্ত হয়েছে। প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসবে। এর চার দিন আগে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে দেয়া ২০ লাখ ডোজ টিকাও বাংলাদেশ পেয়েছে। এর বাইরে আরো টিকা কেনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে দেশে টিকা আসায় একদিকে যেমন অনেক মানুষ খুশি, অন্যদিকে আবার টিকা নিয়ে নানা অপপ্রচারও চলছে। ফলে টিকা নিয়ে স্বস্তি এবং অস্বস্তি দুটিই আছে।
করোনার টিকা নিয়ে আলোচনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা এখন রাজনৈতিক অপপ্রচারেরও হাতিয়ার হয়েছে। দায়িত্ববান রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও টিকা নিয়ে দায়িত্বহীন উক্তি করছেন। টিকা যেহেতু ভারত থেকে এসেছে সেহেতু এ টিকা ভালো নয়। ভারতবিরোধিতার রাজনৈতিক সংকীর্ণতা করোনার টিকায় গিয়ে ঠেকেছে। টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি হলেও এটা যে ব্রিটিশ অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি সেটা বলা হচ্ছে না। সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা তৈরিতে বিশ্বজোড়া খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। করোনা টিকার আগেও বিভিন্ন ধরনের টিকা তৈরিতে এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম আছে।
করোনার জন্য তৈরি অক্সফোর্ডের টিকা মানসম্পন্ন কিনা, কিংবা এটা কতটুকু কার্যকরী হবে, তা নিয়ে বিতর্ক অবশ্যই হতে পারে। তবে যারা বিষয়-বিশেষজ্ঞ তারা এই বিতর্কে অংশ নিলে ভালো হয়। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ পর্যন্ত যে কয়টি টিকা করোনা প্রতিরোধের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে তার মধ্যে অক্সফোর্ডের টিকা অন্যতম, যেটা ভারতে সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে বা করছে।
আমাদের দেশে ২৭ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই টিকার প্রয়োগ শুরু হবে। এই টিকা গ্রহণের মধ্য দিয়ে করোনার অতিমারি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকাদান প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই দেশব্যাপী একযোগে টিকাদান শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
যে কোনো ওষুধ বা টিকা মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। এর কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। মানুষের জীবনকে ঝুঁকিমুক্ত করার জন্যই তো ওষুধ বা টিকার প্রয়োগ বা ব্যবহার। জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা উদ্দেশ্য নয়। করোনার টিকা অনুমোদনের আগে নির্দিষ্ট সময় মেনে পরীক্ষার সব ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে কিনা অথবা প্রচলিত প্রতিষ্ঠিত মান বজায় রেখে অনুমোদন দেয়া হয়েছে কিনা, সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কেউ কেউ বলছেন, বিশ্বের দেশে দেশে অল্প সময় ও সীমিত পরীক্ষার পর বিশেষ প্যান্ডামিক পরিস্থিতিতে যে টিকাগুলো মানুষের শরীরে প্রয়োগের অনুমতি দেয়া হয়েছে, তাতে অনেকের মধ্যে কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন মরণব্যাধি মোকাবিলায় যেসব টিকা অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, সেগুলোর জন্য ৫-৬ বছর সময় লেগেছিল। তারপরও এটা দেখা গেছে যে, সব টিকাতেই কম-বেশি কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। তবে সেগুলো কোনো গুরুতর সমস্যা নয়। টিকা ব্যবহারের ফলে বিশ্ব তো অনেক রোগ থেকেই মুক্ত হয়েছে।
করোনার টিকা এখনো পরীক্ষাকাল অতিক্রম করেনি। তা ছাড়া এর নিরাপদ কার্যকারিতাও ব্যাপকভাবে পরীক্ষিত নয়। তাই কয়েক মাসের চেষ্টায় আবিষ্কৃত এবং দ্রæত অনুমোদন দেয়া টিকা গ্রহণে কারো কারো কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়। এখন চলছে করোনার টিকার পরীক্ষাকাল। এ সময়ে টিকা নেয়া-না নেয়া মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কেউ যদি মনে করেন, তিনি এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে টিকা নেবেন না তাহলে তার ওপর জোরজবরদস্তি করা ঠিক হবে না। টিকা নেয়ার জন্য কারো ওপর চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। যে কোনো বিষয়েই কারো ওপর চাপ প্রয়োগ অন্যায়।
টিকা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ বা উৎসাহিত করার জন্য কোনো কোনো দেশে সরকারপ্রধান কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে টিকা নিয়েছেন, নিচ্ছেন। আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শপথ গ্রহণের আগেই টিকা নিয়েছেন। এটাও তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সব দেশের সরকারপ্রধানকেই তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে হবে, তার কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।
আমাদের দেশে ভারতের টিকা আমদানিতে যাদের আপত্তি, যারা বলছেন, বাংলাদেশের মানুষকে পরীক্ষার জন্য ‘গিনিপিগ’ বানাতেই ভারত এই টিকা পাঠিয়েছে, তারা আসলে সব জেনে-বুঝে কথা বলছেন বলে মনে হয় না। সেরামের টিকা বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী আরো অনেক দেশেই ভারত সরকার উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে। ভারতেও এই টিকার ব্যবহার-প্রয়োগ হচ্ছে। ভারতে কয়েক লাখ মানুষের ওপর টিকা প্রয়োগের পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব ব্যাপক হয়েছে বলে শোনা যায়নি। তবে কিছু প্রতিক্রিয়া হয়নি, তা-ও নয়। দু-একজনকে হাসপাতালেও নিতে হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের হাসপাতাল থেকে সুস্থ অবস্থায় ছেড়েও দেয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশে সেরামের টিকা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার বন্ধ হওয়া উচিত।
বলা হচ্ছে, একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রথম টিকা না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন এই টিকা নিচ্ছেন না? এটাও একেবারেই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। যে স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রথম টিকা দেয়া হচ্ছে বা এরপর যারা টিকা গ্রহণ করবেন তাদের কাউকেই নিশ্চয়ই টিকা গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে না। এটা যার যার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। টিকা দেয়ার পর যদি ব্যাপক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, টিকা গ্রহণকারীদের জীবন যদি বিপন্ন হতে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই সরকার জোর করে টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে নেবে না। মানুষকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা থেকেই তো সরকারের এই উদ্যোগ। এ কথাও কিন্তু বলা হচ্ছে যে, টিকা নিলেই করোনার বিপদ কেটে যাবে না। টিকা নেয়ার পরও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, মাস্ক পরতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে। টিকা নিলেই আগের জীবনে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা এখনই চিকিৎসাবিজ্ঞানী বা টিকা আবিষ্কারকরা দিচ্ছেন না।
করোনার টিকা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ এবং সারাদেশে তা পৌঁছানোর কাজটিও খুব সহজ নয়। ভারত থেকে আসা টিকা সংরক্ষণ এবং জেলা পর্যায়ে তা পৌঁছানোর দায়িত্ব বেক্সিমকো নামের একটি বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও সমালোচনা আছে। তবে সবার মন জুগিয়ে কাজ করা যাবে না। দেখার বিষয় হবে, বেক্সিমকো তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কিনা। তাদের সেই সক্ষমতা না থাকলে নিশ্চয়ই এই দায়িত্ব তাদের দেয়া হতো না। সরকারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আরো অনেকের আছে। তা সত্তে¡ও বেক্সিমকো দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে নিশ্চয়ই আলাদা কারণ আছে। বেক্সিমকোকেই নিজ সংস্থা এবং সরকারের সুনাম রক্ষা করতে হবে।
আমাদের দেশে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগও কখনো কখনো বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সমালেচিত হয়। কিছু মানুষের অতিরিক্ত লোভ, স্বজনপ্রীতি এবং দায়িত্বহীনতা ভালো কাজেরও বারোটা বাজিয়ে দেয়। পরিণতিতে সরকার প্রশংসিত না হয়ে সমালোচিত হয়। করোনা টিকা নিয়ে সে রকম কিছু হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। টিকা নিতে আগ্রহীরা যাতে কোনো ঝামেলায় না পড়েন সেটা নিশ্চিত করতে হবে। নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কেউ যেন বিড়ম্বনার শিকার না হন, সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেখতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশীদ আলম বলেছেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত সমস্যা মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি আছে। করোনার সব টিকাকেন্দ্র হচ্ছে হাসপাতালে। বড় কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টিকা দেয়ার কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, এমনকি কেউ জ্ঞানও হারিয়ে ফেলতে পারেন। সে জন্য টিকা দেয়ার পর গ্রহীতাকে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। টিকা সংরক্ষণের ত্রæটির কারণে, সুই-সিরিঞ্জের ত্রæটির কারণে, আবার টিকার ব্যাপারে ভয় বা উদ্বেগজনিত কারণে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এটা মারাত্মক কোনো সমস্যা নয়। অনেক জটিল অসুখের চিকিৎসায় ওষুধ কিংবা ইঞ্জেকশনেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়।
আমি নিজে আমার লিভার সমস্যার জন্য ইন্টারফেরন ইঞ্জেকশন নিয়েছি। অনেক দামি ওই ইঞ্জেকশন নিলেই শরীর কেঁপে জ্বর আসত। একদিনেই সেরেও যেত। তাই করোনার টিকা নিয়ে অহেতুক ভীতি ছড়ানোর কিছু নেই।
দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে অনেকের অনেক ক্ষোভ আছে, সমালোচনা আছে। এর সব অন্যায্য তা-ও নয়। করোনা ভাইরাস নিয়ে অনভিজ্ঞতার কারণে প্রথমদিকে যেমন বেসামাল অবস্থা ছিল, এখন অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলেই আমরা বিশ্বাস করতে চাই। করোনার টিকা প্রয়োগ নিয়ে যে কোনো অব্যবস্থা মানুষকে ক্ষুব্ধ করবে, ব্যথিত করবে।
টিকা নিয়ে কেউ যদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত সমস্যায় পড়ে তাহলে তার জন্য নিরাময়ের ব্যবস্থা যেমন দ্রæত করতে হবে, তেমনি তার যথাযথ প্রচার করে এ নিয়ে গুজব ছড়ানোর সুযোগ বন্ধ করতে হবে। করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা পৃথিবীজুড়েই বাড়ছে। এর মধ্যেই করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা সাড়ে ২১ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আমেরিকায় ৪ লাখ ৩০ হাজারের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ব্রাজিল, ২ লাখ ১৭ হাজারের কিছু বেশি। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে ১ লাখ ৫৪ হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের করোনা নিয়ে উদাসীনতার কথা বিবেচনায় নিলে বলতেই হয় যে, আমাদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টানা বন্ধ রাখা ছাড়া জনজীবনে স্থবিরতা সেভাবে নেই বললেই চলে। সীমিত সময়ের জন্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপ থাকলেও এখন আর সে রকম কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। তারপরও আমাদের দেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে।
করোনায় মৃত্যু শূন্যে আসুক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠুক, মানুষের জীবন অস্বস্তিমুক্ত হোক সেটাই এখন আমাদের সবার প্রত্যাশা। টিকা নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে কঠোর নজরদারি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জারি থাকবে বলেও আমরা আশা করি।

বিভুরঞ্জন সরকার : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়