শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় গলদঘর্ম হলেন প্রার্থীরা

আগের সংবাদ

যেভাবে বিশ্বকাপে খেলবে টাইগাররা

পরের সংবাদ

হাসান মাহমুদের উজ্জ্বল অভিষেকের গল্প

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ , ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ , ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ

হাসান মাহমুদকে নিয়ে অনেক উচ্ছ্বাস ছিল বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচে সেটার জানানও দিয়েছেন এই পেসার। বয়সটা মাত্র ২১, তার সামনে এখনো অনেক পথ পাড়ি দেয়ার। পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে আরো ১৫ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঠিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তরুণ এই ক্রিকেটারের। সে কারণে ক্যারিয়ারের বাঁকে বাঁকে পারফরম্যান্সে উন্নতিও আনা প্রয়োজন হবে। যেমনটি বলা যায় মোস্তাফিজুর রহমানের বেলায়ও।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাসান মাহমুদ এর আগেও খেলেছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেটি ছিল টি-টোয়েন্টি ফরমেটে। সংক্ষিপ্ত ফরমেটে অভিষেকের সেই ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। তবে ওয়ানডে ফরমেটে অভিষেকে ঠিকই উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে আলো ছড়িয়ে আসা এই পেসার। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপেও আলো ছড়িয়েছিলেন হাসান। করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশের ফেরার মিশনে ২০ জানুয়ারি নিজের অভিষেক ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। বিনিময়ে খরচ করেছেন ২৮ রান। উইন্ডিজের ইনিংসে নিজের পঞ্চম ওভারে এসে বাজিমাত করেন অভিষিক্ত হাসান মাহমুদ। ওভারের প্রথম দুই বলেই উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান। দলীয় ৩০তম ওভারে রোভম্যান পাওয়েলকে ২৮ রানে মুশফিকের ক্যাচে ফেরানোর পর পরের বলে নতুন ব্যাটসম্যান রেইমন রেইফারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। হাসান মাহমুদের শিকার হন আকিল হোসেনও। আকিলকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি।

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলা হাসান মাহমুদ উইকেটশূন্য ছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে। ৪ ওভারে সেই ম্যাচে ২৫ রান দিয়েছিলেন তিনি। করোনার আগে গত বছরের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয় পায়। হাসান মাহমুদ চমক দেখিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপেও। জেমকন খুলনার হয়ে শিরোপা জেতার পথে তিনি ৯ ম্যাচে শিকার করেন ১১ উইকেট। এর ইকোনমি রেট ছিল ৭.১৫। তিনি হন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সপ্তম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে করেন ১৬ রান।

উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে হলে হাসান মাহমুদকে পারফরম্যান্স ধরে রাখার পাশাপাশি বোলিংয়েও বৈচিত্র্য আনতে হবে। তা হলে বেশি দিন টিকে থাকা হবে না তার- এ কথা বলাই যায়। কেননা এমন একটা সময় আসবে যখন তার বোলিংয়ের ধরন বুঝে যাবেন ব্যাটসম্যানরা। যে কারণে অনায়াসে খেলা যাবে তার বল। ধারাবাহিকতা ও প্রতিনিয়ত বৈচিত্র্য আনতে পারলে বাংলাদেশ দলে নিজের জায়গাও পাকাপোক্ত করার সম্ভাবনা থাকবে তার। তা না হলে তারকার ভিড়ে হারিয়ে যেতে পারেন বিস্মৃতির অতল তলে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে জেমকন খুলনা ছাড়াও হাসান মাহমুদ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ঢাকা প্লাটুনের হয়ে খেলেছেন। চট্টগ্রাম ডিভিশনের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় ক্রিকেট লিগে। খেলেছেন বাংলাদেশ ইমার্জিং টিম, অনূর্ধ্ব-১৭ দল ও পূর্বাঞ্চলের হয়েও। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হাসান খেলেছেন ১৪ ম্যাচ। যেখানে ৩৩.৯১ গড়ে তিনি নেন ৩৭ উইকেট। যার ইকোনমি রেট ৩.২২। এই ফরমেটে তার সেরা বোলিং ফিগারটি ৮৯ রানে ৫ উইকেট শিকার।

২১ বছর বয়সি এ তরুণ লিস্ট এ শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ১৭টি। ১৭ ম্যাচে তার শিকার ২৩ উইকেট। যার ইকোনমি রেট ৪.৯৮ এবং গড় ৩১.২৬। অন্যদিকে ব্যাট হাতে প্রথম শ্রেণিতে ৯০ ও লিস্ট এ ক্রিকেটে ১৪ রান করেন তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছাড়াও স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তিনি উইকেট নিয়েছেন ২১টি। যেখানে হাসান মাহমুদ ম্যাচ খেলেছেন ২৩টি।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়