উলিপুরে বিএনপি প্রার্থীর মিথ্যাচারের প্রতিবাদ

আগের সংবাদ

সাবেক প্রেমিকাকে ব্ল্যাকমেইল, আটক ১

পরের সংবাদ

শিবালয়ে প্রস্ফুটিত হচ্ছে আমের মুকুল

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ , ৫:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ , ৫:৫১ অপরাহ্ণ

কবি মোহাম্মদ ইরফান তার কবিতায় লিখেছেন-এ কুল, ও-কুল গাছের দু-কূল বেশ ফোঁটেছে ওসব কি ফুল জুঁই, চামেলি? না-কি বকুল? ঠিক যেন কানদুল! না না মশাই, কি বকছো! নয় চামেলি নয় সে বকুল নয়তো কানের দুল? সে আমাদের ফলের রাজা আমের-ই মুকুল।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়ানো মানিকগঞ্জের অন্যতম উপজেলা শিবালয়। তীব্র শীত উপেক্ষা করে গাছে গাছে প্রস্ফূটিত হতে শুরু করেছে নয়ন জুড়ানো আমের মুকুল। এর দৌলতে গোটা উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন বেড়ে গেছে অনেকগুন।

বর্তমানের মুকুলগুলো কিছু দিনের মধ্যেই রুপান্তরিত হবে মুকুল মঞ্জুরিতে। আম গাছগুলো পুষ্পরানীর সাজে সজ্জিত হবে। গাছে গাছে মৌমাছির গুঞ্জন ও মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে প্রকৃতিতে সৃষ্টি হবে এক নতুন ছন্দের।

কয়েক মাসের মধ্যেই আম গাছের ডালে ডালে ঝুলবে নানা জাতের, নানা বর্ণের আম। ফলের রাজা আম নিয়ে বাঙালি শিল্প-সাহিত্যে রয়েছে অসংখ্য গান, কবিতা ও প্রবাদ প্রবচন। খনার বচনে বলা হয়েছে-মাঘে বোল, ফাগুনে গুটি, চৈত্রে কাটিকুটি, বৈশাখে আটি, জ্যৈষ্ঠে দুধের বাটি।

কিন্তু বিশ্ব জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে খনার এই বচনটি এখন উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে। গত বছর পৌষ মাসের শুরুতেই গাছ গাছে মুকুল দেখা গেছে। কিন্তু এ বছর মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমের মুকুল পাতার ফাঁক দিয়ে উকিঁ দিতে শুরু করেছে।
কৃষিবিদদের তথ্যমতে, প্রাচীন বাংলা মুল্লুক হচ্ছে আমের আদি নিবাস। বাংলাদেশ, পশ্চিম বাংলা, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ পাক-ভারত উপমহাদেশেই আম গাছের জন্ম হয়। নবপলীয় যুগে প্রথম আম গাছ পারিবারিকভাবে চাষাবাদের আওতায় আসে। চায়না পরিব্রাজক হিউয়েন সাং বাংলায় ঘুরতে এসে আম গাছের দেখা পান। তার মাধ্যমে আম বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে। ১৬ শতকের প্রথম দিকে সম্রাট আকবর ১ লাখ আমের চারা রোপণ করে উপমহাদেশে আম বাগানের সৃষ্টি করেন। পরে এটি গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রসার লাভ করে। বর্তমানে আম গোটা বিশ্বেই চাষাবাদ হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বাংলাদেশ আমের আদি নিবাস হলেও উৎপাদনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে।
২০১২-১৩ অর্থ বছরের হিসেব অনুযায়ী বিশ্বে আম উৎপাদনকারী ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান নবম। বেসরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি আম গাছ আছে। কিন্তু তারপরও বাঙ্গালীদের আম কিনতে দেখা যায়। এর কারন হিসেবে কৃষিবিদরা আম গাছের পরিচর্যার ঘাটতিকেই চিহ্নিত করেছেন।
শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিবালয়ে ১১.৫৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। গত বছর ফলন ছিল ২৩১.৪ টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমরা অধিক ফলন আশা করছি। গাছের সামান্য পরিচর্যা করলেই বাড়িতে উৎপাদিত আম দিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। আশ্বিন-কার্তিক মাসে গাছের গোড়ায় কিছু রাসায়নিক সার কিংবা জৈব সার প্রয়োগ করলে গাছের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মুকুল আসার পূর্বে ডালের ডগায় কীটনাশক স্প্রে করলে হপার নামক পোকা ধ্বংস হয়। মুকুল আসার পর হরমোন জাতীয় ঔষধ দিলে ফলন বেশি হয়। আমের গুটি আসার পর হালকাভাবে কীটনাশক স্প্রে করলে আমে পোকা ধরার সম্ভাবনা কমে যাবে। এতেবৃদ্ধি হবে ফলন, মিটবে চাহিদা, দুর হবে অসচ্ছলতা।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়