হাসান মাহমুদের উজ্জ্বল অভিষেকের গল্প

আগের সংবাদ

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিষিদ্ধের বক্তব্যে বিশিষ্টজনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

পরের সংবাদ

যেভাবে বিশ্বকাপে খেলবে টাইগাররা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ , ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ , ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

ঘরের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। আর এই সিরিজটি জয় করে প্রায় ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকেই অন্য দলগুলোর মতো নিয়মিত আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই সিরিজটি আগে খেলা সব সিরিজের চেয়ে আলাদা। কারণ ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এই সিরিজের মাধ্যমেই ২০২৩ বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করেছে টাইগাররা। এই সিরিজটি হলো আইসিসির নতুন প্রতিযোগিতা আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগের ম্যাচ। এই সুপার লিগে আইসিসির টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দেশ ও ১৩ নাম্বার দল হিসেবে নেদারল্যান্ডস খেলবে। নেদারল্যান্ডস ২০১৫-২০১৭ সাল পর্যন্ত হওয়া আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগের চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে।

১০ দল নিয়ে ২০২৩ সালে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। আগের বিশ্বকাপগুলোতে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোকে বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সুযোগ দিত। কিন্তু এবার আইসিসির টেস্ট খেলুড়ে প্রত্যেকটি দেশকে বাছাইপর্ব খেলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে হবে। ২০২০ সালে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতাটি। আর তা শেষ হবে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে।

তবে মোট ১৩টি দল এই বাছাইপর্বে অংশ নিলেও প্রত্যেকটি দল প্রত্যেকের বিপক্ষে খেলবে না। একটি দল ৮টি দেশের বিপক্ষে খেলবে। এর ফলে বাংলাদেশও এই আইসিসি সুপার লিগে খেলা ১৩টি দলের মধ্যে ৮টি দেশের বিপক্ষে খেলবে। বাংলাদেশ সুপার লিগে খেলবে আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আর বাংলাদেশ সুপার লিগে খেলবে না অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। বাংলাদেশ ৪টি দেশের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে। আর ৪টি দেশের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে। প্রত্যেকটি সিরিজে ম্যাচ থাকবে ৩টি করে। এমন করে প্রত্যেকটি দেশই খেলবে ৩ ম্যাচের ৮টি ওয়ানডে সিরিজ। ফলে দেখা যাচ্ছে ঘরের মাঠে একটি দল খেলবে ১২টি ম্যাচ। আর ঘরের বাইরে খেলবে ১২টি ম্যাচ। আর ২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্রতিযোগিতাটি শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ সাতে থাকা দলগুলো বিশ্বকাপের টিকেট পেয়ে যাবে। আর ভারত যেহেতু বিশ্বকাপের আয়োজক তাই তারা অষ্টম দল হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে।

তবে ১৩ দলের মধ্যে যে ৫টি দল ৯ নাম্বার স্থান থেকে ১৩ নাম্বার স্থান পর্যন্ত থাকবে তাদের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে না। এই ৫ দলেরও বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা থাকবে। তবে তাদের পার করতে হবে বাছাই পর্বের আরেকটি ধাপ। এই ৫টি দলের সঙ্গে যোগ দেবে আইসিসির সহযোগী ৫টি দেশ। তারাও লম্বা এক বাছাইপর্ব খেলে এখানে আসবে। এরপর এই ১০টি দলের মধ্যে হবে বিশ্বকাপের মূল পর্বের আরো ২টি স্থানের লড়াই। এই ১০ দলের মধ্যে যে ২টি দল শীর্ষে থাকবে তারা বিশ্বকাপে নবম ও দশম দল হিসেবে খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ ঘরের মাটিতে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। আর বিদেশের মাটিতে খেলবে আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আগামী মার্চে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গিয়ে সুপার লিগের দ্বিতীয় সিরিজে অংশ নেবে টাইগাররা।

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষে সুপার লিগে এখন তৃতীয়স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। টাইগারদের উপরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। ১টি ম্যাচে জয় পেলে প্রতিটি দল পাবে ১০ পয়েন্ট। কোন ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে গেলে ৫ পয়েন্ট করে পাবে দলগুলো। আর কোনো দল যদি স্লো ওভার রেটে বল করে তাহলে তাদের ১ পয়েন্ট করে কেটে নেয়া হবে।

এখন বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছে এই খেলাটি যদি ধরে রাখতে পারে তাহলে বাকি দলগুলোর বিপক্ষেও ভালো করতে পারবে। আর ভালো করতে পারলেই শীর্ষ সাতে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে পারবে। কিন্তু যদি তা ধরে না রাখতে পারে তাহলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ করে নিতে বেগ পেতে হবে তাদের।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়