মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত

আগের সংবাদ

এসএসসির নতুন সিলেবাস প্রকাশ

পরের সংবাদ

বিপন্ন হওয়ার পথে ৫০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২১ , ৪:৩৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২১ , ৭:০৫ অপরাহ্ণ

হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৭৪০। এর মধ্যে বিপন্ন হওয়ার পথে ৫০ প্রজাতি রয়েছে। সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ জার্নাল অব ফিশারিজ’ নামক দেশের স্বনামধন্য একটি গবেষণা সাময়িকীতেএ সংক্রান্ত একটি তালিকাটি প্রকাশিত হয়েছে ।

দীর্ঘ দিন যাবৎ বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিয়ে দেশের মৎস্যবিদ ও মৎস্য বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে ও বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অনেক সময়ই একটি আলোচনার বিষয় হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব এই বিষয়টি পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেন।

বর্তমানে দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় প্রাপ্ত মাছের প্রজাতির মোট সংখ্যা ৪৭৫ এটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। প্রতি বছর মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক মৎস্য সপ্তাহে প্রকাশিত মৎস্য সংকলনেও দেশের মৎস্য প্রজাতির সংখ্যা হিসাবে ৪৭৫ উল্লেখ করা হয়। এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক ড. হাবীব জানান, ১৯৭০ সনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছের উপর পাঁচ বছর ধরে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে ৪৭৫ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক ২০০৯ সনে প্রকাশিত এন্সাইক্লোপিডিয়া অব ফ্লোরা এন্ড ফোনা এর ভলিউম-২৪ (সামুদ্রিক মাছ)-এ ৪০২ প্রজাতির মাছ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গত বছর ২০২০ সনে মৎস্য অধিদপ্তর মেরিন ফিশারি জরিপ রিপোর্টে দেশের গবেষণা জাহাজ আর ভি মীন সন্ধানী কর্তৃক শনাক্তকৃত ৩৪৩ টি সামুদ্রিক মাছের তালিকা প্রকাশ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা দুটি ছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষত ২০১০ থেকে ২০২০ সনে বিগত দশ বছরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় নতুন শনাক্ত হওয়া মাছের উপর বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। ছবি: প্রতিনিধি

অধ্যাপক হাবীব তার ছাত্র ও গবেষণা সহযোগী মো. জায়েদুল ইসলামকে সাথে নিয়ে বিগত কয়েক বছরে তাদের পরিচালিত গবেষণা থেকে প্রাপ্ত নতুন রেকর্ডকৃত সামুদ্রিক মাছসহ বিগত ৫০ বছরে দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষনা প্রবন্ধ, বৈজ্ঞানিক বই ও গবেষণা রিপোর্টসমূহ পর্যালোচনা করে সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির হালনাগাদ তালিকাটি তৈরি করেছেন। হালনাগাদ তালিকা তৈরির এই গবেষণায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসিএ) কর্তৃক পরিচালিত এনএটিপি-২ প্রকল্প এবং বিএআরসিএ এর প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট সার্বিক সহযোগিতা করে।

নতুন তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এই ৭৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ৩০টি বর্গের অধীন ১৪৫টি গোত্র ও ৩৮৯ গণের অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে ৮১ প্রজাতির তরুণাস্থিযুক্ত হাঙর ও রে জাতীয় মাছ এবং ৬৫৯ প্রজাতির অস্থিযুক্ত মাছ রয়েছে। আই ইউ সি এন এর গ্লোবাল কন্সারভেশন ডাটাবেজ-২০২০ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত এই ৭৪০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৫০ প্রজাতির মাছ বিপন্ন অবস্থায় আছে। তার মধ্যে ১০ প্রজাতি মহাবিপন্ন, ১৪ প্রজাতি সংকটাপন্ন ও ২৬ প্রজাতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তালিকাভুক্ত ৭৪০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৩৯৫ প্রজাতি সবসময় সামুদ্রিক লোনা পানিতে থাকে এবং ৩৪৫ প্রজাতি উপকূলীয় ঈষৎ লোনা ও সামুদ্রিক লোনা পানি উভয় যায়গায় পাওয়া যায়। আবার ১২৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ স্বাদু পানির পরিবেশেও প্রবেশ করে। বাংলাদেশের অনন্য দুটি উপকূলীয় ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম হচ্ছে সুন্দরবন ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এই সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে ও নিকটবর্তী সমুদ্র এলাকায় ২৭১ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় যাদের আবাসস্থল সমুদ্রিক লোনা ও ঈষৎ লোনা পানি। অন্যদিকে, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ২০৪ প্রজাতি মাছ শনাক্ত করা হয়েছে যারা প্রবাল প্রতিবেশে বসবাস করে।

নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। ছবি: প্রতিনিধি

অধ্যাপক হাবীব আশা প্রকাশ করেন, এই হালনাগাদ তালিকা সংশ্লিষ্ট গবেষক, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অন্য সকলের বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্য সম্বন্ধে একটি ধারণা পেতে সাহায্য করবে। সেইসাথে আধুনিক জীববৈচিত্র্য ও শ্রেণিতত্ত্ব জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবং ডিএনএ বারকোডিং কৌশল ব্যবহার করে ভালভাবে অনুসন্ধান করলে বাংলাদেশের সমুদ্র জলসীমায় আরো নতুন নতুন প্রজাতি পাওয়া সম্ভব হবে যা দেশের সামুদ্রিক মাছের তালিকাকে আরো দীর্ঘ করবে।

উল্লেখ্য যে, ইতপূর্বে অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব এর নেতৃত্বে দুটি গবেষকদল বিশ্বে প্রথমবারের মত সামুদ্রিক মাছের দুটি নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেন। প্রজাতি দুটির একটি হচ্ছে বড় জালি পটকা ও পেট্টলি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এ দুটি মাছ ব্যতীত বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমা থেকে জীববিজ্ঞানে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির মাছের আবিষ্কার আর হয়েছে বলে জানা যায় না।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়