মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শ্রেষ্ঠ উপহার ভূমিহীনে ভূমি, ঘরহীনে ঘরদান

আগের সংবাদ

নৌ শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

পরের সংবাদ

পাঠ্যবইয়ে তথ্য বিকৃতি ও আমাদের দায়বদ্ধতা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২১ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২১ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ

স্কুল পাঠ্যবইয়ে তথ্য বিকৃতি, বানান ভুল, লেখা পরিবর্তন, পরিমার্জনা ইত্যাদি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা নতুন কিছু নয়। এবারো তার ব্যত্যয় হয়নি। গতকাল ভোরের কাগজে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে তথ্য বিকৃতির বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘পৌরনীতি ও নাগরিকতা’ পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক দলের ইতিহাসে ভুল তথ্য ও বিকৃত করে প্রকাশ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বইটির সপ্তম অধ্যায়ের ‘গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন’ শীর্ষক শিরোনামে রাজনৈতিক দলের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে আওয়ামী লীগের ঠিকঠাক পরিচয় না দেয়া, বিএনপিকে ইসলামী দল ও মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারকবাহক বানানো হয়েছে। জামায়াতের পরিচয় দিতে গিয়ে দলটির মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার তথ্য এবং এ দেশে নিষিদ্ধ হওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ চেপে যাওয়া হয়েছে। বিতর্কিত এসব তথ্যে বিভ্রান্তিতে পড়েছে নবম-দশম শ্রেণির অন্তত ৩০ লাখ শিক্ষার্থী। পাঠ্যবইয়ে তথ্য বিকৃতি ও বাক্য গঠনের ভুলগুলো শুধু অদক্ষতাই নয়, এটি অমার্জনীয় অপরাধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সরকারের সময় একই ধরনের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার মেরুদণ্ড ধ্বংসের ষড়যন্ত্র। এর আগেও স্কুল পাঠ্যবইতে ভুলের ছড়াছড়ি হয়েছে। কৌশলে হয়েছে তথ্য বিকৃতি। বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোনো জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। হেফাজতে ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে কিছু ভালো লেখা বাদ দিয়ে হেফাজতের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন লেখার অন্তর্ভুক্তির মতো ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের কাছে সরকারের সংশ্লিষ্টদের এই নতজানু অবস্থান ও পাঠ্যক্রমের উল্টোযাত্রা আমাদের যারপরনাই বিস্মিত করছে। পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর থেকেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিপরীতে দেশের যাত্রা। রাজনীতি থেকে শুরু করে শিক্ষা, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন আনার চেষ্টা হয়। পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িক চিন্তা ও বিকৃত ইতিহাসের অনুপ্রবেশের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মগজ ধোলাই চলে। এর ফলে কয়েকটি প্রজন্ম বড় হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও তার প্রকৃত ইতিহাস বঞ্চিত হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পাঠ্যপুস্তকে এই বিকৃতির ধারা আরো জোরালো হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে পাঠ্যবইয়ে যে পরিবর্তন করে সেই পরিবর্তন এই খাতে স্মরণকালের মধ্যে বড় সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এ সময় পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তুলে ধরা হয়। কিন্তু আমরা দেখছি, ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর কোনো না কোনো বইতে ইতিহাস বিকৃতি দেখা যায়। এর দায় কার? এনসিটিবির দায়িত্ব কী? নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। এমন তথ্য বিকৃতির সঙ্গে যুক্তদের কোনোভাবে আর ছাড় নেই। আমরা দোষীদের শাস্তির আওতায় দেখতে চাই। না হয় বারবার এমন বিকৃতি ঘটেই যাবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়