ব্যাট হাতে দাঁড়াতেই পারলেন না লিটন

আগের সংবাদ

আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই টিকা বিতরণ শুরু

পরের সংবাদ

তিন প্রকল্পের রি-টেন্ডার নিয়ে রাবিতে তোলপাড়

তিন প্রকল্পের রি-টেন্ডার নিয়ে রাবিতে তোলপাড়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২১ , ১২:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২১ , ১২:১৪ অপরাহ্ণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে না পারায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ রি-টেন্ডার করার অভিযোগ উঠেছে প্রকৌশল শাখা ও পরিকল্পনা উন্নয়ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে। টেন্ডারের সব শর্ত পূরণ করার পরও নিয়মবহির্ভূতভাবে ৩টি কাজের রি-টেন্ডার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন নীরব ভূমিকায়।

সূত্র জানায়, নানা অনিয়মের সঙ্গে রাবির পরিকল্পনা উন্নয়ন দপ্তর ও প্রকৌশল শাখার কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি জড়িত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাবির প্রকৌশল শাখার একটি সূত্র জানায়, রাবির প্রধান প্রকৌশলী (ডিপ্লোমা) মো. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম, পরিকল্পনা উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক খন্দকার শাহারিয়ার রহমান, একই দপ্তরের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান প্রমুখ কতিপয় ঠিকাদারের সঙ্গে বিশেষ সখ্য গড়ে তুলেছেন। এর সুবাদে তারা পছন্দের ঠিকাদারদের নিয়ে সরকারি নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে একের পর এক টেন্ডারসংক্রান্ত অনিয়ম করে চলেছেন।

এদিকে টেন্ডারসংক্রান্ত বিষয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ঠিকাদার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রাবি প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন প্রকৌশলী-কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রাবি শিক্ষক কোয়ার্টারের জন্য ১০ তলা ভবন নির্মাণকাজটি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স শিকদার কন্সট্রাকশন এন্ড বিল্ডার্সের পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে না দিয়ে কাজটি রি-টেন্ডার করা হয়েছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংস্কার ফেজ-১ এর কাজটির সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে পিইএল এন্ড জিজিইএল জেভি ছিল। অজ্ঞাত কারণে এ প্রতিষ্ঠানটিকেও কাজ না দিয়ে রি-টেন্ডার করা হয়। এছাড়া প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংস্কার ফেজ-২ এর কাজটির জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল এইচসিপিএল-সিটিএল সিটিআইজেভি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এ প্রতিষ্ঠানটিকেও কাজ না দিয়ে রি-টেন্ডার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোটানি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার গোলাম কাউসার চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ করে আসছেন। ঠিকাদারি কাজে জড়িত প্রকৌশল শাখার সহকারী স্টোর কিপার রাতুলও। তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেমের অধীনে স্টোরের দায়িত্বে রয়েছেন। তারা বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় বড় কাজের ঠিকাদারি করেন বেনামে। এছাড়া কোটেশনের কাজগুলো রাতুলকে দিয়ে করান প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম। তিনি পানি সরবরাহ শাখার দায়িত্বেও আছেন।অভিযোগ উঠেছে, নিজস্ব মিস্ত্রি দ্বারা রাবি স্টোরের মালামাল দিয়ে কাজ করান ও কোটেশনের বিল বিভিন্ন নামে তোলেন এই কর্মকর্তা।

এছাড়া বারী, বাদশা, আল-আমিন, মতিহার ট্রেডার্স আমজাদ হোসেনসহ বিভিন্ন লাইসেন্সে ঠিকাদারি কাজ করান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে রাবিতে প্রকৌশলীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, টেন্ডার ডন, রাতুল, মামুনসহ পছন্দের ঠিকাদারদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেন নূরে আলম মামুন। তিনি প্রকৌশল শাখার নিম্নমান সহকারী সমমানের চেইনম্যান। এই নূরে আলম মামুনকে ঠিকাদাররা মিস্টার ৫ শতাংশ বলে আখ্যায়িত করেন। কারণ ঠিকাদারদের ফাইল পাস করানোর জন্য ফাইলপ্রতি ৫ শতাংশ টাকা নিয়ে থাকেন তিনি। এছাড়া টাকা না দিলে চেক আটকানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক।

অভিযোগ রয়েছে, রাবি প্রশাসন ভবনের প্রকৌশলীদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে টেন্ডার ডনসহ কর্মচারী সিন্ডিকেট। এছাড়া কোটেশনের ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার কাজগুলোও তারা নিয়ন্ত্রণ করে। গত এক যুগের ব্যবধানে আঙ্গুল ফলে কলা গাছ হয়েছে তারা।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বোটানি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. গোলাম কাউসার বলেন, আগে ঠিকাদারি কাজ করেছি। বর্তমানে আমার লাইসেন্স বাতিল হয়েছে। তাই আর কাজ করি না বলেই ফোন কেটে দেন তিনি। প্রকৌশল শাখার সহকারী স্টোরকিপার রাতুল বলেন, আমি কোনো ঠিকাদারি কাজ করি না। জড়িতও ছিলাম না। এ ব্যাপারে ঠিকাদার মমতাজুর রহমান ডন বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি নিয়মিত ঠিকাদারি কাজে অংশগ্রহণ করি এবং ইজিপির মাধ্যমে ব্রাইট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে পাওয়া কাজগুলো কিনে কাজ করে থাকি। ইজিপির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গোপন সখ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আর অন্য সব ঠিকাদারের মতোই আমি কাজ করে থাকি। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।

প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইজিপির মাধ্যমে যে টেন্ডারগুলো হয়, সেগুলো আমরা শুধুই দেখভাল করি। কোটেশনের কাজগুলো নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়। এছাড়া অন্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। জানতে চাইলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, এসব ব্যাপারে আমার কোনো কিছু জানা নেই। তিনি প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েই ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে জানতে পরিকল্পনা উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক খন্দকার শাহারিয়ার রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই কেটে দেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়