দেশে করোনায় মৃত্যু আরও ২০, শনাক্ত ৪৭৩

আগের সংবাদ

নিউজ ফ্ল্যাশ

পরের সংবাদ

হোয়াইট হাউজের চেয়েও কমলার বাড়ি বড়!

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২১ , ৪:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২১ , ৪:১৪ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের নাম জানেন কম বেশি সবাই। বিশ্বজুড়ে যে দেশটির আধিপত্য, তার প্রেসিডেন্টের বাসভবনও বিশ্বের সেরা হবে এমনটাই স্বাভাবিক। হোয়াইট হাউসে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে সারা জীবন যুদ্ধ করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাই সেদিকে নজরও বিশ্ববাসীর। গত কয়েক মাসজুড়ে আলোচনায় বাইডেন-কমলা জুটি। যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। এ নিয়ে শেষ নেই আলোচনার। তাই বলে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হোয়াইট হাউটের চাইতেও বড় একটি বাড়িতে বসবাস করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস!

স্বামীকে নিয়ে কমলা হ্যারিস যে বাড়িটিতে উঠেছেন, তার নাম ‘প্রেসিডেন্টস গেস্ট হাউজ’। এছাড়াও ব্লেয়ার হাইজ নামেও ডাকা হয় এ বাড়িকে। বিলাসবহুল বাড়িটিতে আছে ১১৯টি কক্ষ। যার মধ্যে পরিপূর্ণ সাজানো ১৪টি বেডরুম। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের বিদেশি যেসব অতিথি ওয়াশিংটনে যান, তাদের জন্য এই বাড়িটি ব্যবহার করা হয়। এ বাড়িটির আরও একটি নাম আছে। কমপক্ষে ৬০ হাজার বর্গফুটে বিস্তৃত চারটি টাউনহাউজ মিলিয়ে এই বাড়ি। ইতিহাস বলছে, ১৯৪২ সালে এই বাড়িটি কিনে নেয় মার্কিন সরকার। তারপর থেকে এ বাড়িটি প্রেসিডেন্টের অতিথিদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।

ওয়াশিংটন সফরের সময় এই বাড়িতে অবস্থান করেছেন বিখ্যাত কিছু অতিথি। তার মধ্যে রয়েছেন বৃটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। বুধবার ন্যাশনাল মলে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার আগে এ বাড়িতেই অবস্থান করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

হোয়াইট হাউজে উঠবেন বলে নিজ শহর ছেড়ে আসার সময় জো বাইডেন বলেছিলেন ‘একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী অপেক্ষা করছে আমার জন্য’। সেই কৃষ্ণাঙ্গ নারীর এখন বসবাস হোয়াইট হাউজেরই উল্টো পাশে। ১৬৫১ পেনসিলভেনিয়া এভিনিউতে এখন বসবাস করেন কমলা হ্যারিস। বাড়িতে অবস্থান করছেন কমালা হ্যারিস ও তার স্বামী ডগ এমহোফ। অন্যদিকে সামান্য দূরেই হোয়াইট হাউজে উঠেছেন নতুন অতিথি- প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী ড. জিল বাইডেন।

কমলা হ্যারিসের বাড়িটির ভেতরের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল। এর ভিতর আছে বেশ কয়েকটি ড্রয়িং রুম। এতে আরো একটি ছবি দিয়ে বলা হয়েছে- সেটি হলো লি ডাইনিং রুম। মাঝে মাঝে মধ্যাহ্নের আহারের সময় মিটিং করতে এই রুমটি ব্যবহার করা হয়। আছে একটি ট্রুম্যান স্টাডি কক্ষ। সেখানে আছে একটি চীনা ক্যাবিনেট। আছে বেশ কিছু পোট্রেট বা আঁকা ছবি। এমন ছবি অনেক কক্ষেই আছে। জ্যাকসন প্যালেস ডাইনিং রুমের দেয়ালে আছে নয়নজুড়ানো সব অঙ্কন। যখন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি অতিথি যান তখন এই ডাইনিং রুমটি ব্যবহার করা হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর এই বাড়িটি আসলে চারটি টাউনহাউজের সমন্বয়। এই চারটি বাড়িকে একসঙ্গে একটি বাড়ির রূপ দেয়া হয়েছে। ১৮২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রথম জেনারেল ব্যক্তিগত বাড়ি হিসেবে এটি নির্মাণ করিয়েছিলেন।

বাড়িটিকে বেশ কিছু ঐতিহাসিক আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়েছিলেন তিনি। ১৯৪২ সালে ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট যখন প্রেসিডেন্ট, তখন মার্কিন সরকার এ বাড়ি কিনে নেয়। এখানে আছে বিশাল এক লাইব্রেরি। তাতে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের ১৫০০ বই। ৬০,৬০০ বর্গফুটের এই বাড়িতে মোট আছে ১১৯টি রুম। তার মধ্যে ১৪টি বেডরুম। ৩৫টি বাথরুম। এখানে এটা বলে রাখা ভাল যে, এই বাড়িটি হোয়াইট হাউজের চেয়ে বড়। আছে ১৪টি গেস্ট স্যুট। প্রতিটিতে আছে পূর্ণাঙ্গ বাথরুম। আছে তিনটি আনুষ্ঠানিক ডাইনিং রুম। দুটি বিশাল কনফারেন্স রুম। বিশাল এই সম্পত্তি দেখাশোনা করতে কমপক্ষে ১৮ জন ফুলটাইম স্টাফ প্রয়োজন।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়