ব্যাটিং কোচের নাম জানেন না সাকিব

আগের সংবাদ

প্রকাশ পেল ‘‌‌স্ফুলিঙ্গ’ সিনেমার ফার্স্ট লুক

পরের সংবাদ

গেমিংয়ে আসক্তি

হুমকির মুখে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২১ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২১ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বন্ধ আছে দেশের প্রায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কবে খুলবে তারও নেই সঠিক নিশ্চয়তা। সন্তানদের ক্যারিয়ার গঠনে প্রয়োজনীয় মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে করোনার এই কঠিন সময়ে অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন অভিভাবকরাও। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রথম দিকে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে তারা তড়িঘড়ি করেই কিনেছেন স্মার্টফোন-ট্যাব, ইন্টারনেট সুবিধা পেতে যুক্ত করেছেন ব্রডব্যান্ড সংযোগ। কিন্তু শুরুর দিকে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে আগ্রহী থাকলেও সময় গড়াতেই ভাটা পড়েছে অভিনব এই মোবাইল পড়াশোনায়। কিন্তু তাতে কতটুকুই বা মিলেছে সফলতার খোঁজ? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, অন্যদিকে অনলাইন ক্লাসের নামে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সবার হাতেই রয়েছে স্মার্টফোন-ল্যাপটপসহ পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা বুঁদ হয়ে আছে অনলাইন ভিডিও গেমিংয়ে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুকে।বেশিরভাগ সময়ই শিক্ষার্থীরা ব্যয় করছে এই গেমিংয়ের পেছনে, ছুটির বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্মার্টফোন ব্যবহারের পরিমাণও। বর্তমানে জনপ্রিয় কিছু অনলাইন গেমের মধ্যে পাবজি, কল অব ডিউটি, ফ্রি ফায়ার, প্রো ইভুলেশন সকার (প্যাশ) অন্যতম।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী সারা পৃথিবীতে প্রায় ২২০ কোটি মানুষ নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে ভিডিও গেম খেলে থাকে। যাদের অধিকাংশই হচ্ছে অল্প বয়সি শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণী। গেমগুলো যেহেতু কম্পিউটার এবং মোবাইলভিত্তিক, তাই এটি যে কোনো স্থানে বসেই খেলা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি স্থানে বেশি সময় ধরে বসে থাকলে তা শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথমবারের মতো ভিডিও গেমে আসক্তিকে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার তালিকাভুক্ত করেছে অর্থাৎ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনলাইন গেম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা ভিডিও গেমের ক্ষতিকর ব্যবহারকে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর আগে ২০১৩ সালে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন প্রকাশিত মানসিক রোগ নির্ণয়বিষয়ক গাইডলাইনে (ডিএসএম-৫) বিষয়টিকে ‘ইন্টারনেট গেমিং ডিজঅর্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে গবেষণার ভিত্তিতে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করেছিল। জনপ্রিয় এসব গেম কখনো আবার কারণ হয়ে দাঁড়ায় আত্মহত্যারও। গত ৩ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলায় ফ্রি ফায়ার গেমের ডায়মন্ড কিনতে ১ হাজার টাকা না দেয়ায় ‘রাফিন’ নামের এক কিশোর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে ফ্রি ফায়ার, পাবজির মতো সহিংসতামূলক এসব অনলাইন গেমিং দেখে শিক্ষার্থীদের নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার খবর প্রতিনিয়তই দেখা যায় পত্রিকার পাতায়। গবেষণায় দেখা গেছে, গেমিং ডিজঅর্ডারের সঙ্গে অতি উদ্বিগ্নতা, বিষণœতা এবং তীব্র মানসিক চাপের মতো দেখা দিতে পারে মানসিক রোগও। শারীরিক মানসিক রোগের সঙ্গে সঙ্গে পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো গেমগুলো একজন শিশু কিংবা কিশোরের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। নির্দিষ্ট জায়গাতেই আটকে থেকে খেলা এই গেমগুলো ক্রমান্বয়ে সংকোচিত করে সামাজিকভাবে সংযুক্ততার পরিধি। এরই ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের সঙ্গে পর্যাপ্ত সামাজিকীকরণের অভাবে সময়ের সঙ্গে পাল্টে যায় একটা সাধারণ মানুষ, কখনো আবার হয়ে ওঠে বদমেজাজি, অপ্রতিরোধ্য, পাশবিক, উন্মাদ কিংবা চরম পর্যায়ের হিংস্র। স্বীয় স্বার্থ হাসিলে নিজ কর্মকাণ্ড গুণে সমাজের চোখে তারা কখনো বনে যায় সন্ত্রাস, প্রতারক, আত্মসাৎকারী। দিন শেষে কপালে জুটে সমাজচ্যুত, বিশৃঙ্খল একাকী জীবন। অতিরিক্ত হিংস্রতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে পাবজি গেমটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে উপমহাদেশে সর্বপ্রথম এই গেমটি নিষিদ্ধ করা হয় ভারতে।

সর্বোপরি, করোনার এই বৈশ্বিক দুঃসময়ে সরকার চাইলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে না। তবে শিক্ষার্থীরা যেন গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে না পড়ে সে জন্য প্রত্যেক অভিভাবককে আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং পাশাপাশি বন্ধ করতে হবে গেমগুলোর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারও।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়