এড়াব কী করে

আগের সংবাদ

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

পরের সংবাদ

মশা নির্মূলে দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকা কী?

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২১ , ১০:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২১ , ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

রাজধানীতে কিউলেক্স মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী। করোনাকালীন এ সময়ে মশার উপদ্রব নগরবাসীকে বাড়তি শঙ্কায় ফেলছে। মশা নির্মূলের মূল দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের। মশা নিয়ন্ত্রণে করপোরেশনের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ভেজাল ওষুধ সরবরাহ, ট্রায়াল শেষ না হতেই ওষুধ ক্রয়, ওষুধে পানি মিশিয়ে ব্যবহারের ফলে কার্যকারিতা হারাচ্ছে মশা নিধনের ওষুধ। জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মার্চের পরে মশা নিয়ন্ত্রণের নতুন কার্যকর তেমন কোনো ওষুধ আমদানি করতে পারেনি দুই সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া গত বছর ডেঙ্গু অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানোসহ মশা নিয়ন্ত্রণে যাবতীয় কাজে গাফিলতি ছিল দুই করপোরেশনের। ফলে মশার ওষুধের কার্যকারিতার বিষয়েও ছিল না তেমন নজরদারি। মশা বৃদ্ধির নানা কারণ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শহর, বন্দর আর গ্রামের অবস্থা ভিন্নতর। প্রধানত আলোচনায় শহরের কথাই উঠে আসে, তাই শহরকেন্দ্রিক ভাবনাই প্রাধান্য পায়। আবদ্ধ পানি, উন্মুক্ত ড্রেন ও যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা রাজধানীতে মশার বংশবিস্তারের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। এটা নতুন কোনো তথ্য নয়। জানা যায়, ঢাকা শহরের সর্বত্রই এখন কিউলেক্স মশার মাত্রাতিরিক্ত উপদ্রব। পুরান ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, হাজারীবাগ, পোস্তগোলা, ডেমরা, শ্যামপুর, দনিয়া, পল্টন, হাজারীবাগ, রামপুরা, বনশ্রী এলাকায় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ লোকজন। বাসাবাড়ি, অফিস সব জায়গার চিত্র একই। অভিজাত গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, উত্তরা, মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারাও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নবগঠিত এলাকা ডুমনি, উত্তরখান, দক্ষিণ এবং বাড্ডা, কুড়িল, জোয়ার সাহারা এলাকায়ও কিউলেক্সের সমান উপদ্রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভুক্তভোগী মাত্রই স্বীকার করবেন যে, মশক নিধনে ওষুধ কোনো কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারছে না। প্রকৃত অর্থে মশক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মশার লার্ভার বিস্তার রোধে আগে থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। এ কার্যক্রম এখন দেখা যায় না। এ ছাড়া মশক নিধনের বেলাতেও বৈষম্য রয়েছে। বিশেষ বিশেষ স্থান ও এলাকায় যথারীতি ও নিয়মিত মানসম্পন্ন ওষুধ ছিটানো হলেও অন্য এলাকায় তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না। নগরবিদরাও বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সংস্থা দুটির নানা ব্যর্থতার কথা। দুই সিটি করপোরেশন অবশ্য বলছে, মশক নিয়ন্ত্রণে তাদের আন্তরিকতার অভাব নেই। তবে মশা নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা অব্যাহত থাকলে আবারো ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকবে। বছরের ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কিউলেক্স মশার প্রজনন মৌসুম। কীটতত্ত¡বিদরা বলছেন, কিউলেক্স মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের, এটা নগরবাসীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কেননা কিউলেক্স মশার প্রজনন স্থান ডোবা-নালায় জমে থাকা পানিতে। আর ঢাকা শহরে এটা পরিষ্কারের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের। এসব কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হলে কিউলেক্স মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মশা নিধনের মতো জরুরি কাজে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা- এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক। একটি আধুনিক নগরী গড়ে তুলতে সার্বিক পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেয়া গেলে তার প্রভাব মশক নিধনেও পড়বে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়