ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ট্রাম্পের বিচার শুরু

আগের সংবাদ

সিরামের কারখানায় আগুনে হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি

পরের সংবাদ

পরিস্থিতি সিনেমাকে বেছে নিতে বাধ্য করেছে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২১ , ১২:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২১ , ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

‘ফেলুদা ফেরত’ সিরিজ নির্মাণ করে প্রশংসায় ভাসছেন কলকাতার চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি। এছাড়াও বাংলাদেশের মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো আসেননি’ উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে একটি সিরিজ নির্মাণ করছেন। সিরিজ দুটি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে সৃজিতের সঙ্গে কথা হয় ভোরের কাগজ মেলার। সাক্ষাৎকার শাকিল মাহমুদ।

‘ফেলুদা ফেরত’ সিরিজ নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন দেখছেন?

সাধারণত আমার সিনেমা মানুষের ভালো লাগলে ৮০:২০ রিভিউ পাই। সেখানে ‘ফেলুদা ফেরত’-এ ৯৫:৫ রিভিউ হয়েছে। এত বেশি মানুষের ভালো লেগেছে এবং সে ভালো লাগাটা এতটা অনুভূতিপ্রবণ যে আমি আপ্লুত।

ফেলুদাকে নিয়ে বাঙালির একটি আবেগ রয়েছে। সেখানে দীর্ঘ সময় পর ফেলুদাকে পর্দায় নিয়ে আসলেন। কোনো চাপ অনুভব হয়েছে?

চাপ নিলে চাপ, না নিলে আনন্দ। ক্রিকেটের টার্মসে বলতে গেলে, ব্যাট করতে যখন নামছি তখন তো স্কোর বোর্ড শূন্য। আগে কে কী করেছে তা ভাবলে চলবে না। আনন্দ করে ব্যাট করতে হবে। আর ‘ফেলুদা ফেরত’ ইজ অ্যা ট্রিবিউট। এবং আমাদের ছোটবেলা আর বড়বেলার শীতের সকাল এবং গরমের বিকেলের নস্টালজিয়ার প্রতি এক প্রকার শ্রদ্ধার্ঘ্য। সুতরাং আনন্দ আর ভালো লাগা ব্যাপারটা এত বেশি ছিল যে চাপটা সে অর্থে অনুভব করিনি।

শোনা যাচ্ছে, সিরিজে ফেলুদা আধুনিক হয়েছেন কিন্তু ভেতরে একই রয়েছেন। ঠিক কোন দিক আধুনিক হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?

ফেলুদা বরাবরই আধুনিক। আধুনিক না বলে অন্যরকম হয়েছে বলা ভালো। এ অন্যরকম হওয়ার পেছনে নতুন মানুষ ও নতুন টিমের কাজ বড় অবদান রেখেছে। আর সব মানুষেরই নিজস্ব আন্ডারস্ট্যান্ডিং অব ফেলুদা রয়েছে। সে জায়গা থেকেই ফেলুদাকে নিয়ে আসা। তাছাড়া ফেলুদা সত্যজিৎ রায়ের বইয়ের মতোই রয়েছে।

বাংলাদেশি লেখকের একটি উপন্যাস অবলম্বনে সিরিজ নির্মাণ করছেন। পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার অভিনয়শিল্পী নিয়ে শুটিং হয়েছে। এক্ষেত্রে মূল উপন্যাসের আবহ কতখানি ঠিক থাকবে?

আবহ একই আছে তবে প্রেক্ষিত এবং প্রেক্ষাপট পাল্টেছে। সুন্দরপুরকে পশ্চিম বাংলার বাংলাদেশি সীমানার কাছাকাছি একটা জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সে হিসেবে মূল উপন্যাসের ডেমোগ্রাফি পাল্টেছে। সেখানে যে চরিত্র আছে তাদের কিছু চরিত্রের নাম, কিছু চরিত্রে ব্যাক স্টোরি পাল্টেছে। তবে মূল উপন্যাসের অ্যাসেন্সে কোনো রকমফের হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।

অধিকাংশ শিল্পীই বাংলাদেশ থেকে নেয়ার কথা ছিল। পরে তা পরিবর্তন হয়। এমনটা হওয়ার কারণ কী ছিল?

একমাত্র নুরে ছফা চরিত্রে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ছাড়া বেশিরভাগ অভিনয়শিল্পীই বাংলাদেশ থেকে কাস্ট করার কথা ছিল। এমনকি শুটিংও ওখানেই করার চিন্তা ছিল। মুশকান চরিত্রে বাঁধন, কে এস খান চরিত্র তারিক আনাম খান, চঞ্চল ভাইয়ের কথা ভেবেছিলাম আতর আলী চরিত্রে, রহমানের চরিত্রে বাবু ভাইয়ের কথা ভেবেছিলাম। অনেকদূর কথাও এগিয়েছিল তাদের সঙ্গে। এর মধ্যে কোভিডের প্রকোপে বাংলাদেশে গিয়ে শুট করা রিস্কি মনে হলো। তখন ঠিক করলাম প্রেক্ষাপট পাল্টে পুরো ঘটনাকে কলকাতার করে নেব এবং এখান থেকেই কাস্ট নিয়ে শুট করব। তখন মুশকান চরিত্রে পাওলিকে ভাবলাম। কিন্তু তার আগে থেকেই অন্য একটি কাজের শিডিউল থাকায় ক্ল্যাশ হলো। শেষ পর্যায়ে ‘এসভিএফ’ হাইকমিশনে চিঠি দিয়ে বাঁধনকে মুশকানের জন্য নিয়ে এলো। যেহেতু প্রথম থেকেই তাকে ভেবেছিলাম এবং তারও প্রস্তুতি ছিল। ফলে বাঁধনই মুশকান হিসেবে কাজ করল।

আপনার বেশির ভাগ সিনেমা ইতিহাসনির্ভর। সিনেমাগুলো ইতিহাসকে তুলে ধরতেই নির্মাণ করেন নাকি স্রেফ বিনোদনের জন্য?

স্বামী বিবেকানন্দের একটি কথা আছে, ‘অতীতের গর্ভেই ভবিষ্যতের জন্ম।’ যদি ভবিষ্যৎকে ভালো করে জানতে হয় তবে অতীতকে ভালো করে চিনতে হবে। ইতিহাসের প্রতি আমার আগ্রহ, ভালোবাসা ডেফিনিটলি আছে। সে কারণে আমার সিনেমাতে ইতিহাসের প্রাধান্য অবশ্যই থাকবে। তাছাড়া একেকটি গল্পের একেকটি দিক থাকে। কোনো কোনো গল্পে জট, ধোঁয়াশা বেশি থাকে। সে জট খুলে ধোঁয়াশা সরিয়ে নতুন দিক উন্মোচন করে পুরনো গল্পকে নতুন আঙ্গিকে বলার চেষ্টা, বিনোদন দেয়া এবং ইতিহাস তুলে ধরার চেয়ে বেশি থাকে।

গল্প বলার তো আরো অনেক মাধ্যম রয়েছে, সিনেমাকেই কেন বেছে নিলেন?
গল্প বলার শুরুটা নাটকের মাধ্যমে। তবে মঞ্চে গল্প বলার সীমাবদ্ধতা থাকে। সেখানে সিনেমাকে বড় একটি পরিসর মনে হয়েছে। একসঙ্গে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানোরও একটা লোভ ছিল। সুতরাং পরিস্থিতি আমাকে সিনেমাকে বেছে নিতে বাধ্য করেছে। তবে নানান মাধ্যমে আমি গল্প বলেছি, এখনো বলছি।

বাংলা সিনেমায় থ্রিলার খুবই কম। সেখানে আপনার যে প্রচেষ্টা তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া কেমন?

প্রথম দিকের প্রতিক্রিয়া দারুণ ছিল। পরের দিকে ব্যাপারটা একটা ট্যাগ রূপ নিয়েছে। ‘সৃজিত মানেই থ্রিলার দারুণ করে’ এ ট্যাগের কারণে অনেক সামাজিক বার্তা, স্যাটায়ারধর্মী কিংবা প্রেমের সিনেমা বানাতে চাইলেও পারছি না। এটা আমার কাছে অনেক বেদনাদায়ক!

কাজের সফলতা-ব্যর্থতাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেন?

দুটোকেই প্রতারক হিসেবে ট্রিট করা উচিত। এদের একটিও চিরস্থায়ী নয়। সুতরাং কাজ করার আনন্দটাই মুখ্য। সৎভাবে গল্প বলে যাওয়ার তাগিদ বাঁচিয়ে রেখে কাজ করলে বাকিটা বোনাস।

আপনার বেশির ভাগ সিনেমাই ব্যবসা সফল। ভিন্ন ধারার সিনেমাকে ব্যবসা সফল করতে কোন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন?

সিনেমা বানানোর আগে সচেতন-অবচেতন কোনোভাবেই ভাবি না- এটা অমুক ধারা, ওটা তমুক ধারা। আমার যে ধরনের সিনেমা ভালো লাগে, যে ধরনের গল্প বলতে পছন্দ করি সে সিনেমাই বানিয়েছি। সেখানে কোনো সিনেমা ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে, কোনোটা ফেস্টিভ্যাল পুরস্কার পেয়েছে কিংবা দুটোই পেয়েছে। সুতরাং কোনটা কোন ধারার সেটা নির্মাণের আগে ভাবিই না।

‘নির্বাক’ সিনেমা নিয়ে নির্মাতা হিসেবে আপনার বিশ্লেষণ কি?

নির্বাক খুব স্পেশাল একটা সিনেমা। সে সময় সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। খুব অল্প দর্শক সিনেমাটি দেখেছিলেন। পরবর্তীতে এটি ক্লাসিক সিনেমায় পরিণত হয়েছে। এখন বুঝতে পারছি সিনেমাটিকে কত মানুষ ভালোবাসেন এবং এটিকে আমার শ্রেষ্ঠ সিনেমা হিসেবে আখ্যা দেন। ‘নির্বাক’ এবং আমার সবচেয়ে বাণিজ্যিক সিনেমা ‘জুলফিকার’ যখন নির্মাণ করি দুটোই ইকুয়্যাল প্যাশন থেকে করা। ‘নির্বাক’র চারটি ছোট গল্প নানানভাবে নানা পরিস্থিতিতে মাথায় এসেছিল। উপস্থাপনাও একটু অন্য রকমভাবে হয়েছিল। আবারো যদি ‘নির্বাক’র মতো গল্প মাথা চাড়া দেয় তবে এমন সিনেমা আবারো হবে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়